বিকল্প ব্যবস্থা চায় বসবাসকারীরা : চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে উচ্ছেদে বাধা
Breaking News
Home » বাংলাদেশ » স্বদেশ » চট্টগ্রাম » বিকল্প ব্যবস্থা চায় বসবাসকারীরা : চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে উচ্ছেদে বাধা

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

বিকল্প ব্যবস্থা চায় বসবাসকারীরা : চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে উচ্ছেদে বাধা
এনবিএস | বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১২, ২০১৮ | প্রকাশের সময়: ৪:৩৩ অপরাহ্ণ

বিকল্প ব্যবস্থা চায় বসবাসকারীরা : চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে উচ্ছেদে বাধাবিকল্প ব্যবস্থা চায় বসবাসকারীরা : চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে উচ্ছেদে বাধা

মনিরুল ইসলাম পারভেজ, চট্টগ্রাম : নগরীর লালখান বাজারের মতিঝর্ণা এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করার সময় বাধা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এসময় উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করে চলে যান জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।গতকাল সকালে জেলা প্রশাসনের টিম ও সরকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধির সমন্বয়ে মতিঝর্ণায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ফায়ার সার্ভিস, নগর পুলিশ ও আনসার সহায়তা করে। 

সরেজমিন দেখা গেছে, সকাল ১১ টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে। কিন্তু তারা প্রশাসনের আহবানে সরে যায়নি। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে নির্মিত কয়েকটি কলোনির প্রায় ২০টি এক কক্ষ বিশিষ্ট ঘরের টিন এবং ত্রিপল কেটে দেয়। এছাড়া বৈদ্যুতিক মিটারের তারও কেটে দেয়া হয়। অভিযানের প্রথম দিকে বাসিন্দারা শান্ত থাকলেও এক পর্যায়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ অবস্থায় প্রশাসনের সদস্যরা অভিযান স্থগিত করে চলে যান। 

মতিঝর্ণার বাসিন্দা নুর নাহার বেগম বলেন, প্রতি বছর বর্ষার আগে পুলিশ আমাদের উচ্ছেদ করতে আসে। আমরা তো এখানে ফ্রি থাকি না। মাসে মাসে ভাড়া দিয়ে থাকি। এ এলাকায় ১০ বছর ধরে আছি। আমাদেরকে যখন ইচ্ছে তুলে দিতে চাইলে তো হবে না। আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে তারপরে সরিয়ে নেন। 

জেলা প্রশাসনের সদর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেন, পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত মতে, আমরা লালখান বাজারের মতিঝর্ণা এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে প্রায় ২০টি মতো এক কক্ষ বিশিষ্ট ঘরের টিন ও ত্রিপল কেটে দিয়েছি। অভিযানকালে স্থানীয় বাসিন্দারা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সেখানে অভিযান স্থগিত করে চলে আসি। বিষয়টি আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি, তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। 

অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ জোবায়ের আহম্মেদ, পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউল হক মীর, সদর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মনসুর, আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আকতার, বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা মুস্তাফা এবং চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির রহমান সানি। অভিযানে পুলিশ–আনসার ও ফায়ার সার্ভিসসহ প্রায় শ’খানেক সদস্য ছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রতিনিধিসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 

উল্লেখ্য,পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের সরে যেতে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় জেলা প্রশাসনের পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি। নগরীর পাহাড়গুলোতে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের উচ্ছেদের নির্দেশও দেয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী গত ৪ এপ্রিল পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসরতদের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে চট্টগ্রাম ওয়াসা, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় প্রশাসন।
 

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Translate »