বর্ণিল আয়োজনে রাবি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বর্ষবরণ

আবু সাঈদ সজল, রাবি

ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য রাজশাহী নগরীর পদ্মার কোল ঘেঁষে অবস্থিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনার্থীরা ভীড় জমাতে শুরু করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এর ব্যতিক্রম নয়। বিভাগটি বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ কে সাদরে গ্রহণ করেছে। শনিবার সকাল থেকে শোভাযাত্রা, পান্তা ইলিশ ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে জাঁক-জমকপূর্ণভাবে দিনটি বরণ করে নেয় বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
 
রাজশাহী অঞ্চলে বর্ষবরণে দর্শনার্থীদের মূল আকর্ষণ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগ ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গ্রামীণ ঐতিহ্যের ধারণ করে নানা অনুষ্ঠান করে। অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর্শকার্ষক ও মনোমুগ্ধকর ছিল ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অনুষ্ঠান।
 

সকাল ৯টার দিকে শহীদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. আজিজুল হকের নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শুভাযাত্রাটি ছিল দৃষ্টিনন্দিত। বাঙালি ঐতিহ্যের ঢোক-ঢাল, ধুতি-পাঞ্জাবীসহ বিভিন্ন নিদর্শন নিয়ে র‌্যালিতে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রাধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিভাগের সামনে এসে শেষ হয়।
শোভাযাত্রা শেষে শহীদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে শুরু হয়  জাঁক-জমক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভাওইয়া, পাহাড়ি ও আধুনিক গান পরিবেশিত হয়। তার মধ্যে অন্যতম ছিল ফ্যাশন শো। আর অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল প্রাচীন বাংলা ও আধুনিক গানের নৃত্য। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাশাপশি সাধারণ মানুষের ছিল উপচে পড়া ভীড়।
 
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আর্শিক ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকেই মন আনচান করছিল কখন শুরু হবে আমাদের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শুরু হলে প্রাণটা জুড়িয়ে গেল। সত্যিই অসাধারণ একটি অনুষ্ঠান উপহার দিয়েছে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ। এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।’
 

অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আজিজুল হক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অনুষ্ঠান থেকে নিঃসন্দেহে আমরা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উপহার দিতে পেরেছি। বিভাগের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সহযোগিতা পেলে আগামীতে আরও জাঁকজমক ও মনোরম পরিবেশে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান পালন করতে পারব বলে আমি আশা করছি। 
 
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. শামসুজ্জোহা এসামী বলেন, বিভাগের উদ্যোগে আমরা শোভাযাত্রার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। ‘বাঙালি নববর্ষের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রাণবন্তে শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব পারফমেন্সের জুড়ি নেই। তা ক্যাম্পাসের অন্যান্য বিভাগের অনুষ্ঠানের সাথে আমাদের এ আয়োজনকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে রূপদান করেছে। আমার মনে হয় সকলের সহযোগিতায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে সুন্দর একটা অনুষ্ঠান উপহার দিতে সক্ষম হয়েছি।’ আগামীতে আমাদের আরও বড় পরিসরে বর্ষবরণ উদযাপণের পরিকল্পনা আছে।

এনবিএস/সজল

Post a new comment

Your email will not be published.
Submitting comment...