বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে আ.লীগ প্রার্থীর সম্পদ ৮ গুণ বেশি
Breaking News
Home » ২ শিরোনাম » বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে আ.লীগ প্রার্থীর সম্পদ ৮ গুণ বেশি

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে আ.লীগ প্রার্থীর সম্পদ ৮ গুণ বেশি
এনবিএস | সোমবার, এপ্রিল ১৬, ২০১৮ | প্রকাশের সময়: ১২:৫০ অপরাহ্ণ

বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে আ.লীগ প্রার্থীর সম্পদ ৮ গুণ বেশিবিএনপি প্রার্থীর চেয়ে আ.লীগ প্রার্থীর সম্পদ ৮ গুণ বেশি

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী তাদের আয় ও সম্পদের বিবরণ নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছেন। এতে দেখা গেছে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার সম্পদে প্রতিদ্বন্দ্বি জাহাঙ্গীর আলমের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছেন।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দুই প্রার্থীর দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীরের নিট সম্পদের পরিমাণ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান সরকারের সাড়ে ৮ গুণ বেশি।

২০১৭-১৮ কর বছরে জাহাঙ্গীর তার নিট ৭ কোটি ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৪৮৭ টাকার সম্পদের বিপরীতে কর দিয়েছেন ৭৮ লাখ ২ হাজার ২৫৯ টাকা। ৮২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৩৪ টাকার সম্পদের বিপরীতে হাসান সরকার কর দিয়েছেন ৮০ হাজার ৫৬৪ টাকা।

হলফনামা অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বার্ষিক আয় ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি; আর বিএনপি প্রার্থীর বার্ষিক আয় প্রায় ১১ লাখ টাকা।

গতবার দলীয় সমর্থন চেয়ে ব্যর্থ হওয়া ৩৯ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর এবার আজমতউল্লাহ খানকে হটিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন।

২০১৩ সালে গাজীপুরের নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে সুজন জানিয়েছিল, সেবারও প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ বার্ষিক আয় ছিল জাহাঙ্গীর আলমের, ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

অন্যদিকে গতবার আজমতউল্লাহকে হারিয়ে যিনি মেয়র হয়েছিলেন, সেই অধ্যাপক এম এ মান্নানকে বাদ দিয়ে ৭০ বছর বয়সী হাসান সরকারকে প্রার্থী করেছে বিএনপি।

আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠেয় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী জাহাঙ্গীর এবং ধানের শীষের প্রার্থী হাসান সরকার দুজনের মনোনয়নপত্রই বৈধতা পেয়েছে।

রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রকিবউদ্দীন মণ্ডল ১০ জনের মধ্যে নয়জনের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেন।

হলফনামায় জাহাঙ্গীর আলম

জন্ম: ৭ মে, ১৯৭৯, শিক্ষাগত যোগ্যতা- এমএ/এলএলবি; পেশা: ব্যবসা, এমডি, অনারেবল টেক্সটাইল কম্পোজিট লিমিটেড ও জেড আলম অ্যাপারেলস।

মামলা: বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। আগে দুটি মামলা থাকলেও ২০০৪-০৫ সালে তা থেকে অব্যাহতি পান।

আয়ের উৎস: কৃষিখাত থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া থেকে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে ৯৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। জমি ‘কেনা বাবদ’ ১ কোটি ১৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পদ: নগদ টাকা ৭ কোটি ৪৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৮ টাকা। ব্যাংকে জামানত ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৭১ টাকা। ব্যবসায় পুঁজি ৭৫ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৭ টাকা। অনারেবল টেক্সটাইলের শেয়ার ৪৭ লাখ ৫০ হাজার ২০০ টাকা, জেড আলম অ্যাপারেলসের শেয়ার ২০ হাজার টাকা। সঞ্চয়পত্র ১০ লাখ টাকা। গাড়ি দুটি। ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার আসবাব। একটি বন্দুক ও একটি পিস্তল, দাম ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫০ টাকা।

স্থাবর সম্পদ: কৃষি জমি ১৪১৫ দশমিক ১৫ শতক। অকৃষি জমি ৩৩ দশমিক ৭১২৪ শতক। দালান ও বাণিজ্যিক জমি ৭ দশমিক ৪৩৭৬ শতক।

দায়-দেনা: জমি বিক্রির জন্য বায়না বাবদ ৮ কোটি টাকা দায় রয়েছে জাহাঙ্গীরের।

হলফনামায় হাসান সরকার

জন্ম: ১ জুলাই ১৯৪৮, শিক্ষাগত যোগ্যতা- বিএ, পেশা: ব্যবসা।

মামলা: ফৌজদারি দুটি মামলা; একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ঢাকার তেজগাঁও শিল্প এলাকার, অন্যটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে টঙ্গী থানার। আরও তিনটি মামলা ছিল, সেগুলো নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।

আয়ের উৎস: কৃষি থেকে ৬৩ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া থেকে ৫ লাখ ২২ হাজার ৯০০টাকা, ব্যবসা থেকে ৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, ব্যাংক সুদ থেকে ১১ হাজার ৫২৬ টাকা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা। নিজের মোট বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৯২৬ টাকা। নির্ভরশীলদের আয় কৃষি ২৫,২০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৬ লাখ ৬২ হাজার ৪০০ টাকা, ব্যাংক সুদ ৩ হাজার ৯৯৮ টাকা।

অস্থাবর সম্পদ: নগদ টাকা ৩ লাখ ৫০ হাজার, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৬০ লাখ ৪৯ হাজার ৬০১ টাকা, ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি গাড়ি, স্বর্ণ ২১ তোলা। একটি শটগান ও একটি পিস্তল ৫২ হাজার টাকা। মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ হচ্ছে ৮৭ লাখ ১৬০১ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে নগদ ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংকে ৫৮ হাজার ৫৪২ টাকা, স্বর্ণ ৩২ তোলা, ১০ হাজার টাকার একটি একনলা বন্দুক।

স্থাবর সম্পদ: কৃষি জমি ৫০০.৫৩১ শতক, দালান বা আবাসিক ৭.৫ শতক জমির উপর ৫টি দোকান, ৯০ শতক জমি ও স্থাপনা, সেমিপাকা ৩২টি রুম, একচালা টিনশেড ঘর। স্ত্রীর নামে রয়েছে কৃষি জমি ২০৮.৮৩৫, অকৃষি জমি ৯৭ শতক,৩২ রুমের ছাপড়া ঘর। ২৯০০ বর্গফুটের ৪ তলা বাড়ি।

দায়-দেনা: ঋণ ২৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে যে হলফনামা প্রার্থীরা দাখিল করেন, তাতে ভুল তথ্য দেওয়া হলে প্রার্থিতা বাতিলের বিধানও রয়েছে। সূত্র : একুশে টিভি

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Translate »