শিশুর জন্য ভালো খবর নেই, স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরো বাড়ার শঙ্কা
Breaking News
Home » ২ শিরোনাম » শিশুর জন্য ভালো খবর নেই, স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরো বাড়ার শঙ্কা

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

শিশুর জন্য ভালো খবর নেই, স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরো বাড়ার শঙ্কা
এনবিএস | বুধবার, মে ১৬, ২০১৮ | প্রকাশের সময়: ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ

শিশুর জন্য ভালো খবর নেই, স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরো বাড়ার শঙ্কাশিশুর জন্য ভালো খবর নেই, স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরো বাড়ার শঙ্কা

শিশুর জন্য আগামীর পৃথিবীতে ভালো খবর নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানব স্বাস্থ্য হুমকিতে পড়েছে। এরমধ্যে আরো নাজুক হবে শিশু এবং প্রবীনদের জন্য। এরমধ্যে তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেশি হবে। বিগত বছর গুলোর মতোই মশার সংক্রমন, পানির দূষন এবং আবহাওয়ার দূষনের ফলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েডের মতো রোগে আক্রান্ত হবে শিশুরা।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, শিশুদের ভালোভাবে বেড় উঠার একটি পৃথিবী আমরা তৈরি করতে পারছিনা। জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে চিকিৎসকরা উদ্বিগ্ন। তিনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ঢাকার বাতাসে যেসব দূষন রয়েছে তা বড়রাও মোকাবেলা করতে পারছেনা। আর উষ্ণতা যতো বাড়বে স্বাস্থ্য ঝুঁকি ততোই বেশি। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্যগত ধাক্কাটা শিশুদের ওপর দিয়েই যাবে বেশি।

পেডিয়াট্রিকস জার্নালের এক গবেষণা থেকে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হলে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ এই পরিবর্তনের ৮৮ শতাংশের ধকল যাবে শিশুদের ওপর দিয়ে।
কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডভিত্তিক মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটির শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কেভিন চ্যান সম্প্রতি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে নয়; বরং এখনই এসব স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

ড. কেভিন তার গবেষণায় বলেছেন, উত্তর আমেরিকা উপকূলের ওপর দিয়ে সম্প্রতি বয়ে যাওয়া হ্যারিকেন ক্যাটরিনা, হার্ভি ও ইরমার প্রভাব শিশুস্বাস্থ্যের ওপর পড়েছে। এছাড়া দাবদাহ ও জিকা ভাইরাসের মতো নতুন নতুন রোগ বাহক জীবানু দেখা যাচ্ছে। চ্যান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন সামঞ্জস্যহীনভাবেই শিশুসহ মানবজাতির সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, জিকা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে মাতৃগর্ভে মাইক্রোসেফালি নামে মারাত্মক এক রোগ সঙ্গে করে জন্মায় শিশুরা। ফলে শিশুর মস্তিষ্ক ঠিকমতো বাড়তে পারে না, মাথা হয়ে যায় শরীরের তুলনায় অস্বাভাবিক রকমের ছোটো। মাইক্রোসেফালির এমন কোনো চিকিৎসা নেই, যা পরবর্তীতে আক্রান্ত শিশুর মাথাকে স্বাভাবিক আকার বা আকৃতিতে নিয়ে আসতে পারে।

২০১৫ সালের শুরুর দিকে জিকা ভাইরাস সর্বপ্রথম বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ায়। এ নিয়ে গবেষণায় উঠে এসেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এই মশাবাহিত রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে।

২০১৬ সালে ল্যান্সেট জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী ২০১৫ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের বড় একটি অংশ মারা গিয়েছে ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া ও অপুষ্টিজনিত কারণে। অন্যদিকে কেভিন চ্যান ও তার সহযোগীদের দাঁড় করানো নতুন গবেষণা নিবন্ধটিতে এসব রোগে শিশুমৃত্যুর হার বৃদ্ধির পেছনে পরিবেশগত সংবেদনশীলতাকেই দায়ী করা হয়েছে।
 

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Translate »