কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি ২০১৮-এর কর্মশালা অনুষ্ঠিত
Breaking News
Home » ৩ শিরোনাম » কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি ২০১৮-এর কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি ২০১৮-এর কর্মশালা অনুষ্ঠিত
এনবিএস | সোমবার, জুন ২৫, ২০১৮ | প্রকাশের সময়: ১২:২১ অপরাহ্ণ

কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি ২০১৮-এর কর্মশালা অনুষ্ঠিতকৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি ২০১৮-এর কর্মশালা অনুষ্ঠিত


পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগাধীন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর আওতায় কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি-২০১৮ প্রকল্পটি ১ মে ২০১৭ হতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩৪৫০০.৩৯ লক্ষ টাকায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের সকল খানা এবং কৃষি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান হতে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। 


বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি তথা সমগ্র দেশে আয়ের মূলচালিকা শক্তি হচ্ছে কৃষি। জিডিপিতে বর্তমানে (২০১৭-১৮) বৃহত্তর কৃষির অবদান ১৪.১% এবং মোট শ্রমশক্তির ৪০.৬% কৃষিতে নিয়োজিত। কৃষির উপর নির্ভর করে এদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি চলমান রয়েছে। এ কারণে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে কৃষি খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীন জীবনে দারিদ্র দূরীকরণ জাতীয় পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য, যা কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি পরিচালনার মাধ্যমে কৃষি খানার সংখ্যা, খানার আকার, ভূমির ব্যবহার, শস্যের ধরণ, জমি চাষের প্রকার, চাষ পদ্ধতি, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগীর সংখ্যা, মৎস্য চাষের বিভিন্ন তথ্যাদি এবং এ সকল কর্মকান্ডে নিয়োজিত জনবল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এ ধরণের তথ্য কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ এবং অগ্রগতি পর্যাবেক্ষণে বেঞ্চমার্ক তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 


উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ৬টি প্রধান ফসল এবং ১১৮ টি অপ্রধান ফসলের আয়তন, ফলন ও উৎপাদনের হিসাব প্রাক্কলন করে থাকে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) সহযোগিতায় সারা দেশে শহর ও গ্রামে কৃষি শুমারি পরিচালনা করে আসছে। স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যথাক্রমে  ১৯৭৭, ১৯৮৩-৮৪, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে মোট ০৪ (চার) বার কৃষি শুমারি পরিচালনা করা হয়েছে। এটা দেশব্যাপি বৃহৎ আকারে পরিচালিত একটি পরিসংখ্যানিক কার্যক্রম। প্রতি দশ বছর অন্তর কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়। পরিসংখ্যান আইন ২০১৩ অনুযায়ী জনশুমারি এবং অর্থনৈতিক শুমারির পাশাপাশি কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি পরিচালনা করার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দেশে ৫ম বারের মত কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি ২০১৮ পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।   


রোববার (২৪ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ পরিসংখ্যান ভবন মিলনায়তনে বিবিএস কর্তৃক আয়োজিত ‘কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি-২০১৮’ এর প্রস্তুতিমূলক কর্মকান্ডের উপর প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) বিকাশ কিশোর দাস কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে বক্তব্য প্রদান করেন। 


অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি-২০১৮’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক যুগ্ম-সচিব মো: জাফর আহাম্মদ খান পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে কৃষি শুমারির পটভুমি, উদ্দেশ্য, শুমারির পরিধি, প্রশ্নপত্রের ধরণ এবং প্রকল্প সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্যাদি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন যে, বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)’র World Programme for the Census of Agriculture 2020 গাইডলাইন মোতাবেক কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি-২০১৮ পরিচালিত হবে। 


তিনি  শুমারির একটি কর্ম-পরিকল্পনা উপস্থাপনা করেন। উক্ত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী এপ্রিল-মে/২০১৯ মাসের মধ্যে শুমারির তথ্য সংগ্রহকাজ সম্পন্ন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাধারণত চারটি পদ্ধতিতে কৃষি শুমারি পরিচালিত হয়ে হয়ে থাকে। যেমনঃ (১) Classical Approach (২)  Modular Approach (৩)  Integrated Census/Survey Modality  এবং (৪) Register Based Agricultural Census. বর্তমান কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারিটি Modular Approach পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। তথ্য সংগ্রহের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। 


প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী বলেন যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে বাস্তবে রূপদান করার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে “ডিজিটাল বাংলাদেশ” হিসেবে বিশ্বের দরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত করার দৃঢ় অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছেন এবং “ভিশন-২০২১” কে Goal হিসেবে সামনে রেখে বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সরকারের অঙ্গীকার “রূপকল্প-২০২১” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এর অধীন বিবিএস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। 


তিনি আরো বলেন যে, বাংলাদেশ সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, এনজিও, গবেষণা সংস্থা, কৃষি বিষয়ক সংস্থাসমূহ প্রভৃতির পরিকল্পনা প্রণয়নের ও নীতি নির্ধারণের জন্য হালনাগাদ কৃষি বিষয়ক তথ্য-উপাত্ত প্রাপ্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসংক্রান্ত পরিসংখ্যানের প্রস্তুত করার জন্য হালনাগাদ কৃষি বিষয়ক কাঠামো ও তথ্য-উপাত্ত প্রস্তুতের পদক্ষেপ হিসেবে বিবিএস কর্তৃক “কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি-২০১৮” প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। অত্র প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (SDGs), পরিসংখ্যান উন্নয়নে জাতীয় কৌশলপত্র (NSDS), পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনা (FYP) এর সংশ্লিষ্ট ইন্ডিকেটরসমূহ মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণে সহায়তা করবে। 


অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন)  বিকাশ কিশোর দাস বলেন যে, সঠিক তথ্য ব্যতীত সঠিক কোন পরিকল্পণা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত দুরুহ। তাছাড়া আমাদের ব্যক্তিগত জীবন, পরিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন তথা রাজনৈতিক জীবনে উন্নয়নের সোপান হিসাবে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান অত্যন্ত জরুরী। তিনি আরও বলেন যে, স্বাধীনতা লাভের ৪৭ বছর পর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) শ্রেণি থেকে বের হওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করেছে। জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যোগ্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছে পরিসংখ্যানিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি পাবে বাংলাদেশ। তবে তার জন্য দুই মেয়াদে (২০১৮ ও ২০২১ সাল) এই অর্জন ধরে রাখতে হবে। এজন্যই সঠিক পরিসংখ্যান প্রণয়নের গুরুত্ব অপরিসীম।


উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব মো: আমীর হোসেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Translate »