ইভিএম: সংলাপে যার যে অবস্থান ছিল
Breaking News
Home » ১ প্রধান শিরোনাম » ইভিএম: সংলাপে যার যে অবস্থান ছিল

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

ইভিএম: সংলাপে যার যে অবস্থান ছিল
এনবিএস | শনিবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ | প্রকাশের সময়: ১:৫৯ অপরাহ্ণ

ইভিএম: সংলাপে যার যে অবস্থান ছিলইভিএম: সংলাপে যার যে অবস্থান ছিল

জাতীয় সংসদ নিবার্চনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মোটামুটি সমানে সমান অবস্থানে দেশের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো।

একাদশ সংসদ নিবার্চন সামনে রেখে গত বছর নিবার্চন কমিশনের সংলাপে ৪০টি দল পঁাচ শতাধিক সুপারিশ করেছিল। তার মধ্যে ইভিএম নিয়ে নিজেদের অবস্থানও তুলে ধরা হয়েছিল।

দলগুলোর অবস্থান পযাের্লাচনা করলে দেখা যায়, ৪০টি দলের মধ্যে ১৩টি দল জাতীয় নিবার্চনে ইভিএম চালুর পক্ষে; আর বিপক্ষে রয়েছে ১১টি দল। একটি দল সমঝোতার অপেক্ষায় রয়েছে। ইভিএম নিয়ে বাকি ১৫টি দলের কোনো সুপারিশ ইসির সংলাপে আসেনি।

সংসদ নিবার্চনে ইভিএম চালুর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আইন সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিবার্চন কমিশন। গত সপ্তাহে এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। কমিশনের ওই উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা কথা।

এই পরিস্থিতিতে প্রধান নিবার্চন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা গত সপ্তাহে বলেছেন, ‘জাতীয় সংসদ নিবার্চনে ইভিএম চালুর বিষয়টি নিভর্র করবে আইনকানুনের ওপর, প্রশিক্ষণের ওপর এবং মূল অংশীজন, বিশেষ করে রাজনৈতিক দল বা তাদের সমথের্নর ওপর।’

তিনি বলেন, ‘সরকার যদি মনে করে, সংসদ যদি মনে করে তখন আইনে পরিণত হলেই জাতীয় সংসদ নিবার্চনে ইভিএম ব্যবহার করা যাবে। ইভিএম যদি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়; কেবল তখনই যতখানি ব্যবহারযোগ্য ততখানি করা হবে।’

পক্ষে ১৩ দল : ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ: ইসির সঙ্গে সংলাপে ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ ছিল দলটির।

০ ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন (সম্প্রতি নিবন্ধন বাতিল হয়েছে): নিবার্চনী ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করা এবং নিবার্চনে প্রযুক্তি ব্যবহার করার সুপারিশ ছিল দলটির।

০ গণফ্রন্ট: আগামী সংসদ নিবার্চনে শহর এলাকায় ইভিএম চালুর পক্ষে ছিল তাদের সুপারিশ।

০ বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন: উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নিবার্চনে ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার করার কথা বলেছিল দলটি।

০ বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ): পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম চালু করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছিল বাসদ।

০ জাকের পাটির্: হ্যাক করা যাবে না, এমন প্রযুক্তিসহ ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে দলটি।

০ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি): ভোটারের স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ মিলিয়ে ভোট দেয়ার বিধান সংবলিত ইভিএমের সুপারিশ করেছিল জেএসডি।

০ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ): প্রযুক্তিগতভাবে সবোর্চ্চ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা রেখে ইভিএম ব্যবহার করা, এজন্য একাদশ সংসদ নিবার্চনের আগে ইভিএম বিধিমালা প্রণয়ন করা এবং অন্তবর্র্তীর্ সময়ে এক বা একাধিক নিবার্চনে ইভিএম ব্যবহার করে জনমত সৃষ্টির সুপারিশ ছিল সরকারের শরিক জাসদের।

০ বাংলাদেশের ওয়াকার্সর্ পাটির্: প্রচলিত ব্যালট পেপারের পাশাপাশি ইভিএম পদ্ধতি চালু করা এবং একাদশ সংসদ নিবার্চনে প্রতি নিবার্চনী এলাকার নিদির্ষ্ট কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছিল দলটি।

০ বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল): একাদশ সংসদ নিবার্চনে ইভিএমের সবর্ত্র ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলেছিলেন দলটির নেতারা।

০ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ: সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নিবার্চনের জন্য এবং আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর মতো আগামী সংসদ নিবার্চনে ইভিএম ব্যবহার করার সুপারিশ ছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের।

০ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পাটির্ (এলডিপি): শতর্সাপেক্ষে নিবার্চনে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছিল।

০ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ইভিএম চালুর পক্ষে মত দিলেও দলটি সংলাপের মাঝপথে বেরিয়ে আসায় তাদের সুপারিশ প্রতিবেদনভুক্ত করেনি নিবার্চন কমিশন।

বিপক্ষে ১১ দল

০ বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়াকার্সর্ পাটির্: প্রস্তুতির অভাবের কারণে এবার সংসদ নিবার্চনে ইভিএম ব্যবহার না করে স্থানীয় নিবার্চনে ব্যবহার করার পক্ষে মত ছিল দলটির।

০ জাতীয় গণতান্ত্রিক পাটির্ (জাগপা): ইভিএম পদ্ধতি বাতিলের দাবি ছিল দলটির সুপারিশে।

০ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: ভোটাররা এখনো ইভিএম পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নন, তাই ইভিএম পদ্ধতি একাদশ সংসদ নিবার্চনে ব্যবহার না করার সুপারিশ করেছিল দলটি।

০ বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পাটির্: জাতীয় নিবার্চনে ইভিএম ব্যবহার না করার পক্ষে মত দিয়েছিল দলটি।

০ প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি): নিবার্চনে ইভিএম পদ্ধতি বাতিল করার সুপারিশ করেছিল পিডিপি।

০ ন্যাশনাল পিপলস পাটির্ (এনপিপি): একাদশ সংসদ নিবার্চনে ইভিএম ব্যবহার না করার পক্ষে মত দিয়েছিল দলটি।

০ বাংলাদেশ মুসলীম লীগ: সংলাপে তারা বলেছিল ইভিএম পদ্ধতি সমথর্নযোগ্য নয়।

০ বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন: জাতীয় নিবার্চনে ইভিএম বা ডিভিএম ব্যবহার করে নিবার্চনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না বলে মত দিয়েছিল দলটি।

০ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পাটির্: সংসদ নিবার্চনে ইভিএম ব্যবহারের পরিবেশ নেই, স্থানীয় নিবার্চনে ইভিএম চালু করা যেতে পারে বলে মত ছিল সিপিবির।

০ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি): সংলাপে দলটি বলেছিল, সংসদ নিবার্চনে ইভিএম বা ডিভিএম ব্যবহার করা যাবে না।

০ জাতীয় পাটির্ (জেপি): যেহেতু ইভিএম নিয়ে মতপাথর্ক্য রয়েছে, তাই আগামী সংসদ নিবার্চনে ইভিএম ব্যবহার করা ঠিক হবে না বলে মত দিয়েছিল দলটি।

সমঝোতার অপেক্ষা

০ খেলাফত মজলিস ইসির সঙ্গে সংলাপে বলেছিল, সব রাজনৈতিক দল একমত না হওয়া পযর্ন্ত জাতীয় নিবার্চনে ইভিএম বা ডিভিএম ব্যবহার করা উচিত হবে না।

সুপারিশ নেই ১৫ দলের

সংলাপে ইভিএম বিষয়টি অন্তভুর্ক্ত না থাকলেও অধিকাংশ দলই এ নিয়ে লিখিত সুপারিশে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছিল। তবে ১৫টি দল লিখিত সুপারিশে ইভিএমের প্রসঙ্গ টানেনি।

দলগুলো হলো: বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট; বাংলাদেশ মুসলীম লীগ (বিএমএল); বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস; বাংলাদেশ কল্যাণ পাটির্; বাংলাদেশ জাতীয় পাটির্; গণফোরাম; জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ; জাতীয় পাটির্; বিকল্পধারা বাংলাদেশ; ইসলামী ঐক্যজোট; বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পাটির্ (ন্যাপ); গণতন্ত্রী পাটির্, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ); বাংলাদেশ জাতীয় পাটির্ (বিজেপি)।

অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত দল ও জোটের নেতারা সভা-সমাবেশে ইভিএম নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

প্রধান নিবার্চন কমিশনার নুরুল হুদা গত সোমবার সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, আগামী জাতীয় নিবার্চনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কী হবে না- এ সিদ্ধান্ত আরও পরের বিষয়। এ নিয়ে ইসি এখনো কেবল প্রস্তুতির পযাের্য় রয়েছে।

আইনি ভিত্তি পেলে রাজনৈতিক মহলসহ অংশীজনের সমথর্ন নিয়ে ইভিএম ব্যবহার শুরু করবে নিবার্চন কমিশন। সেক্ষেত্রে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে দৈব চয়ন ভিত্তিতে কিছু আসন বা কেন্দ্র বাছাই করে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হবে। বিডি নিউজ,যায়যায়দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Translate »