জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ছাদ কৃষি’
Breaking News
Home » বাংলাদেশ » জাতীয় » জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ছাদ কৃষি’

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ছাদ কৃষি’
এনবিএস | বুধবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ | প্রকাশের সময়: ১২:৩৮ অপরাহ্ণ

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ছাদ কৃষি’জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ছাদ কৃষি’

ঠাকুরগাঁওয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ছাদ কৃষি। ফল-ফুল ও শাক-সবজিসহ নানা ফসলে সমৃদ্ধ এ জনপদে এখন বাড়ির ছাড়েও চাষ হচ্ছে নিয়মিত। সারা বছরে আবাদ হচ্ছে নানা রকম শাক-সবজি ও ফল-ফুল বাড়ি’র ছাদে।
জেলা শহরের হাজীপাড়া, কালিবাড়ি, ঘোষপাড়া, হলপাড়া,কলেজপাড়া ও বিএ ডিসিসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার বাড়ি’র ছাদ ঢাকা পড়েছে। ছাদ কৃষিতে নিরাপদখাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মিটছে ঠাকুরগাঁও শহরের অনেক পরিবারে ।

বিষয়টিকে খুব ইতিবাচকভাবে দেখছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। তারা মনে করছে, বাড়ির ছাদের এ বাগান শুধু শখের বিষয় নয়, পরিবেশ রক্ষায়ও রয়েছে এর বড় ভূমিকা।

ছাদ বাগানের মাধ্যমে গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার কবল থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকে, বায়োডাইভারসিটি সংরক্ষণ করা যায়। এ ছাড়া তাজা শাকসবজি, ফলমূলের চাহিদাও মেটে।

এসব কারণে বাড়ির ছাদে বাগান বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অবশ্য ছাদের ওপর যেসব বাগান দেখা যায় তার অধিকাংশই অপরিকল্পিত। পরিকল্পিতভাবে বাগান করা হলে এটি প্রাত্যহিক শাকসবজির চাহিদা মিটিয়ে পরিবেশ রক্ষায়ও দারুণ ভূমিকা রাখবে।

একটু পরিশ্রম আর পরিকল্পনায় বাড়ির কংক্রিটের ছাদটি পরিণত হতে পারে সবুজ শ্যামল মাঠে। স্থায়ী বাগান করার জন্য ছাদে সিমেন্টের স্থায়ী টব তৈরি করে নেয়া যায়।

ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত শহুরে জীবন একটুখানি জুড়িয়ে দিচ্ছে ছাদ কৃষি। শিশু-কিশোররাও যুক্ত হচ্ছে ছাদ কৃষিতে। শহরের শাহ্পাড়া মহল্লার স্কুলশিক্ষক মাহফুজা আক্তার তার ৩ তলা বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন এক সবুজ সমারোহ কৃষি ছাদ। তার ছাদ কৃষি দেখতে আশে পাশের মানুষসহ স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা প্রায় প্রতিদিন বাগান দেখতে ভিড় জমায়।

স্কুলশিক্ষক মাহফুজা আক্তার বলেন, ছাদ বাগানের শুরুটা হয়েছিল জেলা ফলদ ও বনজ মেলা হতে। বৃক্ষ মেলা থেকে চারা সংগ্রহ করি পরে নিজ উদ্যোগে ছাদ বাগানে লাগিয়ে ছাদ কৃষি শুরু করি।

দিনে দিনে বাগানটির গাছের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বাগানটিতে ৪০রকমের গাছ রয়েছে। আম, পেয়ার, আঙ্গুর, লেবু, জামবুরা, মালটা, আমড়া, ছবেদা, চায়না কমলা ও সবজি জাতীয় ফসল শোভা পাচ্ছে বাগানটিতে।

তিনি আর ও বলেন, এ বাগানের গাছে কোনো প্রকার রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেন না। জৈব সারসহ ফেলে দেয়া চা পাতা, তরকারি ও মাছের ফেলে দেয়া অংশ দিয়ে নিজের তৈরি করা সার ব্যবহার করেন বাগানের গাছে। বাগানের উৎপাদিত ফল,শাক-সবজি পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করছেন স্থানীয় বাজারে।

শহরের নিশ্চিন্ত পুর এলাকার সারমিন হাসান জানান, শহরে এখন প্রতিনিয়তই কমছে গাছের সংখ্যা। ফলে দিনে দিনে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। তাইতো পরিবেশকে সুন্দর রাখা ও ভালোলাগা থেকেই মানুষ বাড়ির ছাদে বাগান গড়ে তুলছেন।

শহরের মুন্সির হাট এলাকার ছাদ বাগানের মালিক আল ফারাবী জানান, এসব বাগানে অ্যালোভেরা, পুদিনা, তুলসি পাতাসহ বিভিন্ন প্রকার ভেষজ গাছ এবং পেয়ারা, সফেদা, লেবুসহ নানা প্রকার সবজি স্থান পাচ্ছে। ফলে পরিবেশ যেমন ভালো থাকছে তেমনি বিষমুক্ত ফল, সবজি খাওয়ার পাশাপাশি রোগব্যাধী নিরাময়ে ভেষজ গাছ ব্যবহার করতে পারছেন।

এ বিষয়ে জেলা কৃষিসম্প্রসারণ অদিধফতরের উপ-পরিচালক কেএম মাউদুদুল ইসলাম বলেন,ছাদ বাগান থেকে উৎপাদিত স্বাস্থসম্মত খাদ্য শরীরের জন্য যেমন নিরাপদ, একইভাবে তা অনুকুল পরিবেশ ও আবাসন স্থানকে দূষণমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সৃজন এ বাগান স্থাপনের জন্য সাধারণ মানুষের মাঝে সাড়া জাগিয়ে তুলতে কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Translate »