মৌসুমি রোগের প্রকোপ
Breaking News
Home » জীবনধারা » মৌসুমি রোগের প্রকোপ

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

মৌসুমি রোগের প্রকোপ
এনবিএস | বুধবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ | প্রকাশের সময়: ১২:৪১ অপরাহ্ণ

মৌসুমি রোগের প্রকোপমৌসুমি রোগের প্রকোপ

বর্ষাকাল শেষ হতেই প্রকোপ বেড়েছে ডেঙ্গু জ্বরের। এ বছর বর্ষাকালের নির্ধারিত সময়ের আগেই বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবও শুরু হয়েছে অন্য বছরের তুলনায় আগেই। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. সাখাওয়াত হোসেন জানান, এ বছর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩ হাজার ৭৬৯ জন। গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন একজন, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুজন, সোহরাওয়ার্দীতে তিনজন, হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নয়জন, বারডেম হাসপাতালে পাঁচজন, সেন্ট্রাল হাসপাতালে আটজন, পপুলার মেডিকেলে ১০ জন, বাকিরা ইবনে সিনা, উত্তরা আধুনিক মেডিকেলসহ বেশ কয়েকটি ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব এখনো শুধু ঢাকাতেই রয়েছে। আক্রান্ত রোগীর মধ্যে মাত্র দুজন চট্টগ্রামের বাসিন্দা। বর্ষায় বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে। এতে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার জন্য দেরিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি আক্রান্ত হওয়ার পর ব্যথার ওষুধ সেবন, পর্যাপ্ত পানি পান না করার কারণে রোগীদের মধ্যে জটিলতা বাড়ছে বলে জানান তারা। ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে, হঠাৎ ১০৩-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটে জ্বর আসা, বমির ভাব এবং বমি হওয়া, ত্বকে ফুসকুড়ি ওঠা, প্রচণ্ড মাথা ব্যথা এবং চোখের পেছনে ব্যথা। শুধু ডেঙ্গু নয় বাড়ছে ভাইরাস জ্বর, গলা ফুলে যাওয়া এবং জন্ডিসও। পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বেশি। টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রকৌশলী নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, তিন-চার দিন গায়ে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসছিল। হালকা ওষুধ খেয়ে না সারলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই। টেস্টে ধরা পড়ে টাইফয়েড। তার পাশের বেডেই চিকিৎসাধীন ছিলেন এনজিও কর্মী রাকিব হোসেন। তিনি বলেন, আমার অফিসে তিনজনের টাইফয়েড হয়েছে। কেন যে এমন হচ্ছে বুঝতে পারছি না। একইভাবে পানিবাহিত রোগ জন্ডিসে আক্রান্ত হচ্ছেন রাজধানীর বাসিন্দারা। তবে চট্টগ্রামের তুলনায় ঢাকায় এ সংখ্যা কম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। অসচেতনতার কারণে এবং ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ায় রোগীর আশঙ্কাজনক অবস্থা তৈরি হয়। তাই নিজের আবাসস্থল পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর আসলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। রোগ দ্রুত শনাক্ত না করলে রোগীর শারীরিক অবস্থার বেশি অবনতি ঘটে। এজন্য অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলেই চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেন তিনি। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Translate »