ঠাকুরগাঁওয়ে প্রসূতি মায়ের অস্ত্রপাচারে নবজাতক হারাল মা
Breaking News
Home » বাংলাদেশ » ঠাকুরগাঁওয়ে প্রসূতি মায়ের অস্ত্রপাচারে নবজাতক হারাল মা

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রসূতি মায়ের অস্ত্রপাচারে নবজাতক হারাল মা
এনবিএস | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮ | প্রকাশের সময়: ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

 

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও শহরের সেভেন ডে নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের অস্ত্রপাচারে এক প্রসুতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

১২ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে নিহত প্রসূতি মায়ের স্বজনরা এমন অভিযোগ করেন। নিহত নাছিমা আক্তার (২৫) শহরের নিশ্চিন্তপুর এলাকার রুবেল ইসলামের স্ত্রী। নিহতের মা রহিমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, গত রবিবার রাতে আমার মেয়ে নাছিমা আক্তারকে শহরের সেভেন ডে নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করানো হয়। এরপর চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম আমার মেয়ের সিজারিয়ান অপারেশন করেন। অপারেশনের কারণে মেয়ের প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হয়।

রহিমা খাতুন বলেন, বুধবার দুপুরে মেয়ে নাছিমা আক্তারের অবস্থার অবনতি হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম (এমডি, রাশিয়া) কে ডাকেন। চিকিৎসক রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। রংপুর যাওয়ার পথে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলায় পৌঁছলে গাড়িতেই আমার মেয়ে মারা যায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

এদিকে চিকিৎসকের ভুলে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হওয়ায় পরিবারের স্বজনরা হাসপাতাল ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানায়। এসময় ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা: প্রভাষ কুমার রায়, চিকিৎসক শাহরিয়ার এর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

আধুনিক সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা: প্রভাষ কুমার রায় বলেন, নবজাতক শিশুর অবস্থা ভালো রয়েছে। প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্তে প্রমাণিত হলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলমের মোবাইলে অসংখ্যবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি আব্দুল লতিফ মিঞা বলেন, এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে আসামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা যায়, এর আগেও ২০১৪ সালে শহরের সুশ্রী ক্লিনিকে এক প্রসূতি মায়ের গর্ভপাত ঘটানোর সময় তার মৃত্যুর অভিযোগে পুলিশ চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছিল। সে সময় গণমাধ্যমে চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন হলেও থেমে থাকেনি তার প্রতিনিয়ত অস্ত্রপাচার।

সুত্রে জানা যায়, চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম এর বাংলাদেশের কোন এমবিবিএস, বিসিএস, সল্প মেয়াদি বিশেষ কোন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত, কোন বিশেষজ্ঞ এবং গাইনি এন্ড অবস্ এর উপরে ডিগ্রী নেই। তারপরেও ঠাকুরগাঁও সদর গড়েয়ায় তার পিতা পল্লী চিকিৎসক/ফার্মাসিস্ট এর রয়েছে একটি ক্লিনিক। পৌর শহরে রয়েছে সুশ্রী নার্সিং হোম ও ক্লাসিক ডায়গনস্টিক সেন্টার নামে একটি প্যাথলজি। যেখানে গ্রামগঞ্জ থেকে দালালের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত রোগীরা এসে চিকিৎসার নামে অপ-চিকিৎসায় প্রতারিত হচ্ছেন।

সাধারণ জনমনে প্রশ্ন, পৌর শহরের মধ্যে এমডি রাশিয়া ডিগ্রী ধারী ডাঃ জাহাঙ্গীর কোন খুঁটির জোরে প্রতিনিয়ত রোগী দেখছেন ও অপারেশন করছেন?

 

Posted by: Kamrul Hasan

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Translate »