ঢাকা | শনিবার | ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ | ৮ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ | English Version | Our App BN | বাংলা কনভার্টার

  • Main Page প্রচ্ছদ
  • বিদেশ
  • বাংলাদেশ
  • স্বদেশ
  • ভারত
  • অর্থনীতি
  • বিজ্ঞান
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরির সংবাদ
  • ♦ আরও ♦
  • ♦ গুরুত্বপূর্ণ লিংক ♦
  • Space For Advertisement (Spot # 2) - Advertising Rate Chart



    ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

    সৌদি আরবে শঙ্কায় লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক
    এনবিএস | Sunday, October 21st, 2018 | প্রকাশের সময়: 5:24 am

    সৌদি আরবে শঙ্কায় লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিকসৌদি আরবে শঙ্কায় লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক

    নতুন নতুন নিয়মের জালে আটকা পড়ছেন সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশি শ্রমিকরা। এ কারণে লাখ লাখ শ্রমিক অজানা আতঙ্কে ভুগছেন। যারা ব্যবসা করছেন তারাও হয়ে পড়ছেন তটস্থ। কেউ কেউ তল্পিতল্পা গুছিয়ে দেশের পথে রওনা দিয়েছেন। সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশিরা আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে সৌদি আরবের বিশাল শ্রম বাজার হারিয়ে ফেলবে বাংলাদেশ। সৌদি আরবকে তাড়িয়ে দিতে হচ্ছে না, নিয়মের জালে আটকা পড়ে দেশের পথে রওনা দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের। ইতিমধ্যে অনেকেই দিচ্ছেনও।

    মদিনা শহরেই বসবাস করেন বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি।

    ওখানে বাংলা মার্কেট নামে বাঙালি এলাকা রয়েছে। বাংলাদেশিরাই সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য করেন। খেজুর, জায়নামাজ, জুতা, তসবিহসহ নানা পণ্যের দোকানের মালিক ছিলেন বাংলাদেশিরা। কিন্তু গেল কয়েক মাসে ব্যবধানে ওই এলাকায় বাঙালি দোকানের সংখ্যা কমে এসেছে। যে কয়েকটি দোকান রয়েছে সেগুলোও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বাংলা মার্কেটে বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা জানালেন, সৌদি আরবে নতুন নিয়ম চালু হয়েছে ভিনদেশিদের যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোতে বাধ্যতামূলক সৌদিয়ান নাগরিকদের চাকরিতে নিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারের আয়কর বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে দিগুণ থেকে তিন গুণও। এ কারণে মদিনার বাংলা মার্কেট ও আশপাশ এলাকায় হাটলেই চোখে পড়ে অধিকাংশ দোকান বন্ধ। মদিনাতে বসবাসরত সিলেটের বালাগঞ্জের আব্দুল কাদির জানালেন, মদিনাতে যারা দোকান দিতেন তারা অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে চলে গেছেন। সরকারের বেঁধে দেয়া নিয়মের কারণে তারা টিকতে পারছেন না বলে দেশে চলে গেছেন। এ কারণে দোকান বন্ধ থাকার দৃশ্যটি চোখে পড়ে বেশি।

    উহুদের ময়দান ও আশপাশ এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কাজ করেন অন্তত ২০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে তারা পরিছন্নতা কর্মী হিসেবে ওখানে কাজ করেন। ওই এলাকার পরিচ্ছন্নতা কর্মী নরসিংদীর বেলাবো এলাকার আব্দুর রহমান। তিনি জানালেন, মাসে তারা ৫০০ রিয়াল বেতনে চাকরি করেন। এই টাকা বাংলাদেশের হিসেবে প্রায় ১২ হাজার টাকা। এতে তারা নিজেরাও খেয়ে বেঁচে থাকতে পারেন না। দেশে টাকা পাঠাবেন কী করে। তিনি জানান, প্রতি দুই বছর পরপর তাদের আকামা রি-এন্ট্রি করতে হয়। এতে খরচ পড়ে বাংলাদেশের হিসেবে প্রায় তিন লাখ টাকা। এই টাকা জোগাড় করা অনেক বাংলাদেশির পক্ষে সম্ভব হয় না। এ কারণে অনেকেই অবৈধ হয়ে পড়েছেন। ধরা পড়ে দেশে চলে গেছেন। আব্দুর রহমান জানান, আগে সৌদি আরবে এই নিয়ম ছিল না। সম্প্রতি সৌদিতে থাকা বাংলাদেশিরা এই নিয়মের মধ্য পড়েছেন।

    মক্কার মিসফালাহ এলাকার পাশেই রয়েছে বাঙালিদের বাজার। প্রায় ৭০ বছর ধরে ওই এলাকায় পরিবারপরিজন নিয়ে বসবাস করেন কক্সবাজার এলাকায় দুই ভাই আব্দুল মনাফ ও তাহির আলী। তিন প্রজন্ম ধরে তারা বসবাস করে বাসাবাড়ি বানিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু নতুন নিয়মের কারণে তাদের আকামা রি-এন্ট্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের কফিলের তরফ থেকে সম্প্রতি সময়ে সহযোগিতা পাচ্ছেন না। ফলে পরিবারপরিজন নিয়ে তারাও পড়েছেন শঙ্কায়। নিজ বাসায় তারা কথা বলেন এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। বললেন, বাঙালি বাজার ও আশপাশ এলাকায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির বসবাস। এখানে ব্যবসাবাণিজ্যে বাংলাদেশিদের আধিপত্য রয়েছে। কিন্তু সরকার মুখে কিছু বলছে না, আইন করে বাঙালিদের তাড়িয়ে দিতে শুরু করেছে। এমন কঠিন অবস্থায় অতীতে কখনো বাংলাদেশিরা পড়েননি বলে জানান ওই দুই ভাই। তারাও যেকোনো সময় দেশের পথে রওনা দিতে পারেন বলে আশঙ্কায় রয়েছেন।

    মিসফালাহ এলাকার কবুতর চত্বর ও হেরেম শরীফের বাইরের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে অনেক বাংলাদেশি বসবাস করেন। তারা মাসে কোম্পানীর মাধ্যমে মাত্র ৫০০ রিয়াল বেতনে চাকরি করেন। কিন্তু আকামা রি-এন্ট্রি করা নিয়ে তারা আশঙ্কায় রয়েছেন। এত টাকা তাদের পক্ষে যোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার কফিলও তাদের ওই টাকা দিচ্ছে না। কয়েকজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী জানালেন, সৌদি আরবে এখন পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবেই বাংলাদেশিদের চাকরি দেয়া হয়। অন্য কোনো পেশায় বাংলাদেশিদের তেমন আধিপত্য নেই। বাংলাদেশিদের চাকরিও দেয়া হয় না। ব্যবসাবাণিজ্য যারা করছিলেন তারা নতুন নিয়মের কারণে ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছেন। এ কারণে বাঙালি বাজারে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা দিন দিন কমেই চলেছে। পরিচ্ছনতা কর্মী হিসেবে নিয়োজিত থাকা বাংলাদেশি শ্রমিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলছে- সৌদি আরবে কেবল পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে ব্রান্ডিং হতে পারেন বাংলাদেশিরা। এতে করে ইমেজ সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ।

    জেদ্দা এলাকায় বসবাস করেন সিলেট সদরের বাবুল মিয়া। তিনি জানালেন, ‘আকামা’ সঙ্গে নিয়ে ঘুরলেও কোনো লাভ হয় না। পুলিশ প্রায় সময় আকামা নিয়ে গায়েব করে ফেলে। এরপর ধরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। কোনো কারণ ছাড়াই বর্তমানে সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সঙ্গে এধরনের আচরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সৌদি আরবে স্থানে স্থানে আছে পুলিশের চেকপোস্ট। এই চেকপোস্টে পুলিশের রোষানলে পড়েন বাংলাদেশি শ্রমিকরাই বেশি। তার কথা প্রমাণ মিললো মক্কার হেরেম শরিফ এলাকায়। ফজরের নামাজের পরপরই বাঙালি অধ্যুষিত মিসফালাহ এলাকায় পুলিশ চেকপোস্ট বসায়। তারা দেখে দেখে আকামা চেক করে। এমনকি বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ হজ্ব পালনে যাওয়া বাংলাদেশিরাও পড়েন ওই চেকপোস্টে তল্লাশির মুখে। ফলে ওমরাহ পালনে যারা মক্কা যান তাদের সব সময় পাসপোর্ট ও ভিসার কাগজ সঙ্গে রাখতে হচ্ছে। গত ১৫ দিনে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ওমরাহ পালনে গিয়ে সঙ্গে কাগজপত্র না থাকা বেকায়দায় পড়েন। পরে হোটেল থেকে মুয়াল্লিমের মাধ্যমে কাগজপত্র এনে তাদের ছাড়িয়ে নিতে হয়েছে।

    এমন কঠোর আইন সৌদি আরবে অন্য কারো জন্য নয়। পাকিস্তানি ছাড়াও ইন্দোনেশিয়ার বিপুলসংখ্যক মানুষ ওমরাহ পালনে যান। তারা স্থানীয়ভাবে দেশের এম্বেসির সহযোগিতা পাওয়ার কারণে অনেক স্বাচ্ছন্দ্যে ওমরাহ পালন করতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশ এম্বেসির পক্ষ থেকে সে ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেই বলে জানালেন জেদ্দা এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা। তারা জানান, কোনো বাংলাদেশির সমস্যা হলে বারবার ধরনা দিলেও এম্বেসির কর্মকর্তাদের দেখা মিলে না। ফলে অসহায় অবস্থায় নিজেদের ঝামেলা নিজেদের মেটাতে হয়। মদিনার করিম আল হেজ্জাজ নামে বাংলাদেশি মালিকানাধীন এক আবাসিক হোটেল আগে পরিচালনা করতেন বাংলাদেশিরা। সম্প্রতি সময়ে ওই হোটেলে বাধ্যতামূলক চাকরি দিতে হয়েছে সৌদির কয়েকজন নাগরিককে। তারাই এখন হোটেল পরিচালনা করেন।

    ফলে মালিকের কর্তৃত্বও দিন দিন বিলুপ্ত হচ্ছে। ওই হোটেলের এক কর্মচারী জানালেন, যেসব সৌদি নাগরিকদের এখানে চাকরি দেয়া হয়েছে, তাদের উচ্চ মূল্যে বেতন দিতে হচ্ছে। এভাবে চললে বেশি দিন ওই মালিকের পক্ষে হোটেল চালানো সম্ভব হবে না। একদিন হোটেল ব্যবসাও গুটিয়ে দেশের পথে রওনা দিতে হবে। খবর দৈনিক মানবজমিনের

       


    আপনার মন্তব্য লিখুন...
    Delicious Save this on Delicious

    nbs24new3 © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    নিউজ ব্রডকাস্টিং সার্ভিস - এনবিএস
    ২০১৫ - ২০১৮

    উপদেষ্টা সম্পাদক : এডভোকেট হারুন-অর-রশিদ
    প্রধান সম্পাদক : মোঃ তারিকুল হক, সম্পাদক ও প্রকাশক : সুলতানা রাবিয়া,
    প্রধান প্রতিবেদক : এম আকবর হোসেন, বিশেষ প্রতিবেদক : এম খাদেমুল ইসলাম
    চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান : মোঃ রাকিবুর রহমান
    ৩৯, আব্দুল হাদি লেন, বংশাল, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
    ফোন : +৮৮ ০২ ৭৩৪৩৬২৩, +৮৮ ০১৭১৮ ৫৮০ ৬৮৯
    Email : nbs.news@hotmail.com, news@nbs24.org

    ইউএসএ অফিস: ৪১-১১, ২৮তম এভিনিউ, স্যুট # ১৫ (৪র্থ তলা), এস্টোরিয়া, নিউইর্য়ক-১১১০৩, 
    ইউনাইটেড স্টেইটস অব আমেরিকা। ফোন : ৯১৭-৩৯৬-৫৭০৫।

    প্রসেনজিৎ দাস, প্রধান সম্পাদক, ভারত।
    ভারত অফিস : সেন্ট্রাল রোড, টাউন প্রতাপগড়, আগরতলা, ত্রিপুরা, ভারত। ফোন : +৯১৯৪০২১০৯১৪০।

    Home l About NBS l Contact the NBS l DMCA l Terms of use l Advertising Rate l Sitemap l Live TV l All Paper

    দেশি-বিদেশি দৈনিক পত্রিকা, সংবাদ সংস্থা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে সংগৃহিত এবং অনুবাদকৃত সংবাদসমূহ পাঠকদের জন্য সাব-এডিটরগণ সম্পাদনা করে
    সূত্রে ওই প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে প্রকাশ করে থাকেন। এ জাতীয় সংবাদগুলোর জন্য এনবিএস কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না।
    আমাদের নিজস্ব লেখা বা ছবি 'সূত্র এনবিএস' উল্লেখ করে প্রকাশ করতে পারবেন। - Privacy Policy l Webmail