ঢাকা | শনিবার | ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ | ৮ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ | English Version | Our App BN | বাংলা কনভার্টার

  • Main Page প্রচ্ছদ
  • বিদেশ
  • বাংলাদেশ
  • স্বদেশ
  • ভারত
  • অর্থনীতি
  • বিজ্ঞান
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরির সংবাদ
  • ♦ আরও ♦
  • ♦ গুরুত্বপূর্ণ লিংক ♦
  • Space For Advertisement (Spot # 2) - Advertising Rate Chart



    ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

    টেকনাফ ও উখিয়ায় সুপারীর বাম্পার ফলনে খুশি কৃষককুল 
    এনবিএস | Thursday, November 1st, 2018 | প্রকাশের সময়: 6:01 pm

    টেকনাফ ও উখিয়ায় সুপারীর বাম্পার ফলনে খুশি কৃষককুল টেকনাফ ও উখিয়ায় সুপারীর বাম্পার ফলনে খুশি কৃষককুল 

    কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলা জুড়ে সুপারি চাষে বা¤পার ফলন হয়েছে। সেই সাথে গাছে আগাম পেকেছে সুপারী। কার্তিক-অগ্রহায়ণ তথা নভেম্বর মাসে সুপারী পাকার নিয়ম চলে আসলেও প্রাকৃতিক বিবর্তনে এবারে আগাম পেকেছে। মৌসুমের শুরুতে বিনা খরচে এ ফসলে কৃষকরা অতি লাভবান হওয়ায় সুপারি চাষের জনপ্রিয়তাও এ জনপদে দিন দিন বাড়ছে। ‘ঘুর্ণিঝড় মোরা’র আঘাতে সুপারী বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়া সত্বেও সুপারীর চাষে বা¤পার ফলন হওয়ায় এবং দামও পাওয়ায় কৃষককুলের মুখে হাসি ফুটেছে। 
    জানা গেছে, অন্যান্য চাষাবাদের মত কোন রকম ঝুঁকি না থাকায় কৃষকরা সুপারি চাষের দিকে বেশী ঝুঁকেছেন। টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলা সুপারি চাষের উপযোগি আবহাওয়া এবং মাটি হওয়ায় প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও উৎপাদিত সুপারি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি করা হচ্ছে। উন্নত জাতের সুপারি একবার চাষ করে সারা জীবন আয়ের মুখ দেখতে পান কৃষকরা। এতে পরিবারে প্রচুর টাকা আয়ের মাধ্যমে জীবন জীবিকায় অবদান রাখছেন।  
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কারিগরী সহযোগীতা পেলে গ্রামীণ জনপদের কৃষকরা সুপারি চাষ করে নিজেদের ভাগ্য বদলে আরো সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করেন সচেতন মহল। 
    উখিয়া ও টেকনাফ থেকে প্রতি মৌসুমে ১০ কোটি টাকার সুপারি বাজারজাত হচ্ছে। দেশের গন্ডি ফেরিয়ে এসব সুপারি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হওয়ার কারণে কাঁচা সুপারির কদর আগের তুলনায় অনেকটা বেড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সুপারি চাষাবাদের মাধ্যমে অস্বচ্ছল পরিবারের মধ্যে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আসার সুবাদে এখানে বাণিজ্যিকভাবে সুপারি চাষাবাদ হচ্ছে। উৎপাদিত সুপারি স্থানীয়ভাবে চাহিদা পূরণের পরে বিদেশে রপ্তানি হওয়ার কারণে মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে সুপারি আসা বন্ধ হয়েছে।
    ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিয়ানমারের সুপারি না আসার কারণে স্থানীয় কৃষকেরা সুপারি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে। এতে সুপারি চাষাবাদের উপর নির্ভরশীল পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি অকৃষি পরিত্যক্ত জমিগুলো উৎপাদনমুখী হচ্ছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।
    সূত্রমতে, ৮০ দশকে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ শুকনা সুপারি এদেশে পাচার হয়েছে। চোরাই পথে আসা এসব শুকনা সুপারি হাট বাজার সয়লাব হয়ে পড়ার কারণে দেশীয় উৎপাদিত সুপারি বাজারজাত করতে গিয়ে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পায়নি। এতে করে স্থানীয়ভাবে সুপারি চাষাবাদে কৃষকেরা অনেকটাই নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ে।
    ১৯৯১ সালে মিয়ানমারে বসবাসরত বৃহত্তর রোহিঙ্গা নাগরিক এদেশে চলে আসার কারণে সুপারি পাচারের ধারাবাহিকতা আস্তে আস্তে কমতে থাকে। এতে বাড়তে থাকে স্থানীয় সুপারির চাহিদা। বাজারে সুপারির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কৃষকেরা পরিত্যক্ত অকৃষি জমিগুলোতে সুপারির চাষাবাদ শুরু করে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার প্রায় ৪০০ গ্রামে প্রতি বছর প্রচুর সুপারি উৎপাদন হয়।
    পান সুপারি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুলতান আহমদ জানান, প্রতি পন বা ৮০টি সুপারি বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩৫০ টাকায়। গত বছরের তুলনায় এ বছরে সুপারির দাম যথেষ্ট ভালো। এ কারণে সুপারি বিক্রেতারা আনন্দিত। পাশাপাশি দাম পেয়ে সুপারি উৎপাদনকারীরাও মহাখুশি।
    উখিয়া সোনারপাড়া এলাকার চাষি আবদুল্লাাহ বলেন, সুপারি বিক্রি করে চলে তার সাতজনের সংসার। এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করেছেন। আরও প্রায় ২ লাখ টাকার সুপারি গাছে রয়েছে।
    ইনানীর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এ বছর চাষিরা সুপারি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। এতে অনেকেই অকৃষি পরিত্যক্ত জমিতে সুপারি চাষ করছেন।
    টেকনাফ বাহারছড়া শামলাপুর পুরানপাড়ার বাগান মালিক জাফর আলম বলেন, উপজেলার বাহারছড়া শামলাপুর, সাবরাং ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হারে সুপারির চাষ হয়েছে। আর সুপারির বড় বাজারের সমাগম হয় উখিয়ার সোনার পাড়া এবং টেকনাফ পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে ও বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর বাজারে। এই তিন বাজার থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় কোটি টাকার সুপারি যাচ্ছে, ঢাকা, জল ঢাকা, বগুড়া, রংপুর, পাগলাবিল ও রাজার হাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
    কৃষক আবদুল করিম বলেন, উখিয়ায় জালিয়াপালং ইউনিয়ন, হলদিয়া ইউনিয়ন ও রতœাপালং ইউনিয়নের ইনানী, মনখালী, চেপটখালী ও মাদারবনিয়া এলাকায় সবচেয়ে বেশি সুপারী উৎপাদন হয়েছে। সব মিলে প্রতি সপ্তাহে উখিয়া থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোটি টাকারও বেশি সুপারি যাচ্ছে।
    টেকনাফের সুপারী বাগান মালিকরা জানান,  টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালিয়াপাড়া, পশ্চিম গোদারবিল, বড় হাবিবপাড়া, উত্তর লম্বরী, দক্ষিন লম্বরী, মিঠাপানিরছড়া, বরইতলী, কেরুনতলী, সাবরাং ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া, ডিগিল্যারবিল, সিকদারপাড়া, মুন্ডাল ডেইল, নোয়াপাড়া, আচারবনিয়া, মগপাড়া, হারিয়াখালি, লাপারঘোনা, কচুবনিয়াপাড়া, হ্নীলা ইউনিয়নের লেচুয়াপ্রাং, উলুচামরী, রঙ্গিখালী, পানখালী, মোচনী, মরিচ্যাঘোনা, হোয়াইক্যংয়ের মরিচ্যাঘোনা, কম্বনিয়া পাড়া, খারাংখালী, নয়াবাজার, কাঞ্জরপাড়া, রইক্ষ্যং, দৈংগ্যাকাটা, লাতুরীখোলা, হরিখোলা ও বাহারছড়া ইউনিয়নের পুরো এলাকায় সুপারি চাষ করা হয়েছে। 
    তবে, এবছর টেকনাফ উপজেলার সাবরাং, টেকনাফ সদর ও বাহারছড়া ইউনিয়নে সব চেয়ে বেশি সুপারীর ফলন হয়েছে। প্রতি মৌসুমে এ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে প্রায় ১০ কোটি টাকার সুপারি বাজারজাত হচ্ছে। এসব সুপারি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লা সহ দেশের বিভিন্ন আড়তে চলে যাচ্ছে। পরে ওইসব সুপারি প্রক্রিয়াজাত করণের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
    সোনারপাড়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, উৎপাদিত সুপারিতে বাজার সয়লাব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক ও কাদির হোছন জানান, এ বাজার থেকে দৈনিক ৮-১০টি ট্রাক বোঝাই সুপারি দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান হচ্ছে।
    উখিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, রোগবালাই না হওয়ায় সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। এসব সুপারি বাজারজাত করে কৃষক লাভবান হচ্ছেন।
    কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সুত্রে জানা গেছে, সুপারির এত উৎপাদন আমি আগে কোনো দিন দেখিনি। উখিয়া ও টেকনাফে ২ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ করা হয়েছে। সুপারি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ২৫০ টন। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
    কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার আট উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সুপারির উৎপাদন ও বিক্রি চলবে। এবার প্রতি হেক্টর বাগানে প্রায় ৪০ মেট্রিক টন সুপারি পাওয়া যাচ্ছে।
    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্র মতে, এবার সুপারির দাম বাড়ায় বিক্রি ৭০০ কোটিতে দাঁড়াতে পারে।
     

       


    আপনার মন্তব্য লিখুন...
    Delicious Save this on Delicious

    nbs24new3 © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    নিউজ ব্রডকাস্টিং সার্ভিস - এনবিএস
    ২০১৫ - ২০১৮

    উপদেষ্টা সম্পাদক : এডভোকেট হারুন-অর-রশিদ
    প্রধান সম্পাদক : মোঃ তারিকুল হক, সম্পাদক ও প্রকাশক : সুলতানা রাবিয়া,
    প্রধান প্রতিবেদক : এম আকবর হোসেন, বিশেষ প্রতিবেদক : এম খাদেমুল ইসলাম
    চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান : মোঃ রাকিবুর রহমান
    ৩৯, আব্দুল হাদি লেন, বংশাল, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
    ফোন : +৮৮ ০২ ৭৩৪৩৬২৩, +৮৮ ০১৭১৮ ৫৮০ ৬৮৯
    Email : nbs.news@hotmail.com, news@nbs24.org

    ইউএসএ অফিস: ৪১-১১, ২৮তম এভিনিউ, স্যুট # ১৫ (৪র্থ তলা), এস্টোরিয়া, নিউইর্য়ক-১১১০৩, 
    ইউনাইটেড স্টেইটস অব আমেরিকা। ফোন : ৯১৭-৩৯৬-৫৭০৫।

    প্রসেনজিৎ দাস, প্রধান সম্পাদক, ভারত।
    ভারত অফিস : সেন্ট্রাল রোড, টাউন প্রতাপগড়, আগরতলা, ত্রিপুরা, ভারত। ফোন : +৯১৯৪০২১০৯১৪০।

    Home l About NBS l Contact the NBS l DMCA l Terms of use l Advertising Rate l Sitemap l Live TV l All Paper

    দেশি-বিদেশি দৈনিক পত্রিকা, সংবাদ সংস্থা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে সংগৃহিত এবং অনুবাদকৃত সংবাদসমূহ পাঠকদের জন্য সাব-এডিটরগণ সম্পাদনা করে
    সূত্রে ওই প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে প্রকাশ করে থাকেন। এ জাতীয় সংবাদগুলোর জন্য এনবিএস কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না।
    আমাদের নিজস্ব লেখা বা ছবি 'সূত্র এনবিএস' উল্লেখ করে প্রকাশ করতে পারবেন। - Privacy Policy l Webmail