ঢাকা | শনিবার | ১৭ আগস্ট, ২০১৯ | ২ ভাদ্র, ১৪২৬ | ১৫ জিলহজ্জ, ১৪৪০ | English Version | Our App BN | বাংলা কনভার্টার

  • Main Page প্রচ্ছদ
  • বিদেশ
  • বাংলাদেশ
  • স্বদেশ
  • ভারত
  • অর্থনীতি
  • বিজ্ঞান
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ভিডিও
  • ♦ আরও ♦
  • ♦ গুরুত্বপূর্ণ লিংক ♦
  • Review News


  • ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

    জি এম কাদের : গোবরে পদ্মফুল!
    এনবিএস | Thursday, January 17th, 2019 | প্রকাশের সময়: 9:19 am

    জি এম কাদের : গোবরে পদ্মফুল!জি এম কাদের : গোবরে পদ্মফুল!

    – অসীম সাহা –

    এটা খুবই বিস্ময়ের যে, জাতীয় পার্টিতে জি এম কাদেরের মতো একজন সত্যিকার  মানুষ আছেন, যিনি চরিত্রগত দিক থেকে এইচ এম এরশাদের সম্পূর্ণ বিপরীত। নয় বছরের শাসনকালে এরশাদ বিভিন্ন মহল থেকে যে বিশেষণে অভিযুক্ত হয়েছেন, তার মধ্যে ‘স্বৈরাচারী’ বিশেষণটি অতিপরিচিত। কিন্তু তাঁকে যিনি সবচেয়ে মোক্ষম অভিধা ‘বিশ্ববেহায়া’ দিয়ে চিহ্নিত করেছিলেন, তিনি আমাদের দেশের প্রখ্যাত কারুশিল্পী, পটুয়া কামরুল হাসান। আর বিশ্ববেহায়া ও স্বৈরাচারের শিরোপা নিয়েই তাকে বিরোধী দলের আন্দোলনের চাপে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছিলো। দলের সঙ্গে তখনো জি এম কাদের ছিলেন। কিন্তু তিনি কখনো উচ্চকণ্ঠ ছিলেন না কিংবা তাকে দলে এমন কোনো পদেও অধিষ্ঠিত হতে দেখা যায়নি, যেখান থেকে তিনি স্বৈরাচারী ভাই এরশাদের সহযোগী হওয়া সত্ত্বেও সমালোচনার তীক্ষ-তীরে বিদ্ধ হতে পারেন। এটা তার ব্যক্তিগত স্বচ্ছ ইমেজের জন্য। ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক তিনি মন্ত্রী থাকাকালীন। তার স্ত্রী শরীফা কাদের অত্যন্ত সংস্কৃতিমনা একজন মানুষ। উত্তরায় তার একটি গানের গ্রুপ আছে। 

    তিনি মাঝেমধ্যে উত্তরাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। আমি একবার শরীফা ভাবীর আমন্ত্রণে তাদের একটি অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হয়ে গিয়েছিলাম। জনাব কাদের তখন আওয়ামী সরকারের বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী। তিনিও সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি এতোটা আন্তরিকতার সঙ্গে আমাকে বরণ করে নিয়েছিলেন যে, আমি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। এতোটা নিরহংকার, সভ্য, ভদ্র, উদার ও মার্জিত হৃদয়ের একজন মানুষ এইচ এম এরশাদের ভাই? গোবরে এমন পদ্মফুল ফুটলো কী করে? ভেবে প্রথমে আমি সত্যিকার অর্থেই চমকে গিয়েছিলাম। ঠিক মেলাতে পারছিলাম না। 

    এইচ এম এরশাদের সঙ্গে আমার কখনো সাক্ষাৎ হয়নি। শাসক হিশেবে তিনি কেমন ছিলেন তা আমিও অন্যদের মতোই জেনেছি এবং তার বিরুদ্ধে আন্দোলনেও কবি হিশেবে অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু ব্যক্তি এরশাদের সঙ্গে কখনো আমার পরিচয় হয়নি বলে তাকে জানারও সুযোগ হয়নি, ব্যক্তি হিশেবে তিনি কেমন? কবি নির্মলেন্দু গুণের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিলো এবং কবিদের প্রতি তার আন্তরিক ব্যবহারের কথা গুণের কাছ থেকেই শুনেছিলাম। তা হলে ক্ষমতার এমন একটা চুম্বক আছে, যা মানুষকে অমানুষে পরিণত করে ফেলতে দেরি করে না? আমাদের বহু বন্ধুবান্ধবকে দেখেছি, ক্ষমতাহীন অবস্থায় একরকম আর ক্ষমতায় গিয়ে তার সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ করতে। তা হলে এরশাদ বা অন্য রাজনীতিকের দোষ কী? ‘তৈলাধার পাত্র আর পাত্রাধার তৈল’ অর্থাৎ পাত্র যেমন, তেমন তেল, আর যেমন তেল তেমন পাত্র’ কথাটা রাজনীতির জন্য ১০০% সত্যি অর্থাৎ তেলকে পাত্রে রাখলে তা যেমন পাত্রের আকার ধারণ করে, তেমনি পাত্র যেমন হয়, তেলের পরিমাণও হয় তেমনি। এরশাদ সাহেব যখন ক্ষমতা দখল করেন, তখন কারা ক্ষমতায় ছিলেন? কোনো গণতান্ত্রিক শক্তি? একেবারেই নয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর তার সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারি জিয়া বাংলাদেশের মাটিতে যে জঘন্য ষড়যন্ত্রের বীজ বপন করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় জিয়া খুন হবার পর খুব স্বভাবতই এরশাদ ঝোপ বুঝে কোপ মেরে ক্ষমতা দখল করে তা থেকে মধু আহরণের যে সুযোগ পেয়েছিলেন, তা তিনি সহজে ছাড়বেন কেন? জিয়া যদি খুন না হতেন, তা হলে তিনি কি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদলে কোনো ভূমিকা রাখতেন? যদি তাই হতো, তা হলে তিনি ‘হা’-‘না’র নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করেছিলেন কেন? প্রকৃতপক্ষে জিয়া এদেশের কলুষিত রাজনীতির মহানায়ক। স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতিজগতে পুনর্বাসনের ত্রাণকর্তা। সে-তুলনায় স্বৈরাচার হিশেবে এরশাদ তো নস্যি! নিজের সুবিধার জন্য জিয়ার প্রোথিত বৃক্ষাটিকে একমাত্র ফুলেফলে সুশোভিত করা এবং তার রেখে যাওয়া উচ্ছিষ্টদের লালনপালন করা ছাড়া তিনি আর এমন কী করেছিলেন?

    এরই মধ্যে থেকে জনাব জি এম কাদের কী করে এতোগুলো দিন রাজনীতির মঞ্চে অবস্থান করছেন, ভেবে আমি বিস্মিত হচ্ছি। নষ্ট রাজনীতির যূপকাষ্ঠে বলি না হয়ে রাজনীতিতে টিকে থাকা তো দূরের কথা, ব্যক্তি হিশেবেও অস্তিত্ব রক্ষা করাই যেখানে কঠিন, সেখানে তিনি শুধু টিকে নেই, এবারের নির্বাচনে জয়লাভের পর তার ভাই এইচ এম এরশাদ ছোট ভাইকে কো-চেয়্যারম্যানের দায়িত্ব যেমন দিয়েছেন, তেমনি সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা হিসেবেও মনোনীত করেছেন। জি এম কাদের এই দুটি কর্তব্য কীভাবে পালন করেন, সেটা দেখার জন্য আমি কৌতূহল নিয়ে অপেক্ষা করছি। আমার ধারণা, এরশাদ সাহেব যতোদিন পার্টির চেয়ারম্যান আছেন, ততোদিন কাদের সাহেব ভালোভাবেই দলকে পরিচালনা করতে পারবেন এবং বড় ভাইকে সহযোগিতাও করতে পারবেন। কিন্তু এরশাদবিহীন জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে জি এম কাদের? এটা দলের কেউ মেনে নেবেন বলে মনে হয় না। তার মতো মার্জিত রুচির মানুষ সেটা শামাল দিতে পারবেন বলেও আমি  মনে করি না। সেক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির ভাঙন কেউ রোধ করতে পারবে না।

    সেটা ভবিষ্যতের কথা। ভবিষ্যতই সে-সম্পর্কে ভালো বলতে পারবে। তবে আপাতত জি এম কাদের রাজনীতির ময়দানে এবং সংসদে কীভাবে, কতোটকু সফল ভূমিকা পালন করতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করছে জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ। আদর্শহীন রাজনীতির সমস্যা এখানেই যে, মধুলোভীদের ভীড় এখানে বেশি থাকে। মধু ফুরিয়ে গেলে অন্য ফুলে ঝাঁপ দেয়া তাদের স্বভাব। এ-ধরনের চরিত্রহীন রাজনীতিকদের নিয়ে জনাব কাদেরের মতো মানুষ খুব বেশিদূর এগুতে পারবেন বলে মনে করি না। তবে ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে আলাপ করে আমি যতোদূর বুঝতে পেরেছি, মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতির পিতার প্রতি তাঁর রয়েছে অগাধ শ্রদ্ধা। জাতীয় পার্টির রাজনীতির কারণে তাকে আপোসফর্মূলা মেনে চলতে হলেও তার ব্যক্তিঅস্তিত্ব ঠিক এরশাদ সাহেবের সমান্তরাল মেরুতে চলে বলে আমার মনে হয় না। তাই আমি চাই, তার ওপর অর্পিত গুরুদায়িত্ব পালনে তিনি সমর্থ হন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দলকে পরিচালিত করুন। যদি তা হয়, তা হলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরেকটি নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা হতে পারে এবং তাতে শামিল হতে পারেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অনুসারী অনেকেই। এতে আখেরে লাভ হবে জনাব জি এম কাদের এবং জাতীয় পার্টিরই। বিষয়টা নিয়ে জনাব কাদেরকে সিরিয়াসলি একটু ভেবে দেখতে বলি।

    লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, দৈনিক আমাদের নতুন সময়
    [সংকলিত]


     

    Space For Advertisement

    (Spot # 14)

    Advertising Rate Chart

    আপনার মন্তব্য লিখুন...
    Delicious Save this on Delicious

    nbs24new3 © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    নিউজ ব্রডকাস্টিং সার্ভিস - এনবিএস
    ২০১৫ - ২০১৯

    উপদেষ্টা সম্পাদক : এডভোকেট হারুন-অর-রশিদ
    প্রধান সম্পাদক : মোঃ তারিকুল হক, সম্পাদক ও প্রকাশক : সুলতানা রাবিয়া,
    সহযোগী সম্পাদক : মোঃ মিজানুর রহমান, নগর সম্পাদক : আব্দুল কাইয়ুম মাহমুদ
    সহ-সম্পাদক : মৌসুমি আক্তার ও শাহরিয়ার হোসেন
    প্রধান প্রতিবেদক : এম আকবর হোসেন, বিশেষ প্রতিবেদক : এম খাদেমুল ইসলাম
    স্টাফ রিপোর্টার : মোঃ কামরুল হাসান, মোঃ রাকিবুর রহমান ও সুজন সারওয়ার
    সিলেট ব্যুরো প্রধান : ফয়ছল আহমদ
    -------------------------------------------
    ৩৯, আব্দুল হাদি লেন, বংশাল, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
    ফোন : +৮৮ ০২ , +৮৮ ০১৭১৮ ৫৮০ ৬৮৯
    Email : [email protected], [email protected]

    ইউএসএ অফিস: ৪১-১১, ২৮তম এভিনিউ, স্যুট # ১৫ (৪র্থ তলা), এস্টোরিয়া, নিউইর্য়ক-১১১০৩, 
    ইউনাইটেড স্টেইটস অব আমেরিকা। ফোন : ৯১৭-৩৯৬-৫৭০৫।

    আসাক আলী, প্রধান সম্পাদক, ভারত।
    ভারত অফিস : সেন্ট্রাল রোড, টাউন প্রতাপগড়, আগরতলা, ত্রিপুরা, ভারত।

    Home l About NBS l Contact the NBS l DMCA l Terms of use l Advertising Rate l Sitemap l Live TV l All Paper

    দেশি-বিদেশি দৈনিক পত্রিকা, সংবাদ সংস্থা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে সংগৃহিত এবং অনুবাদকৃত সংবাদসমূহ পাঠকদের জন্য সাব-এডিটরগণ সম্পাদনা করে
    সূত্রে ওই প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে প্রকাশ করে থাকেন। এ জাতীয় সংবাদগুলোর জন্য এনবিএস কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না।
    আমাদের নিজস্ব লেখা বা ছবি 'সূত্র এনবিএস' উল্লেখ করে প্রকাশ করতে পারবেন। - Privacy Policy l Webmail