ঢাকা | সোমবার | ২১ অক্টোবর, ২০১৯ | ৬ কার্তিক, ১৪২৬ | ২১ সফর, ১৪৪১ | English Version | Our App BN | বাংলা কনভার্টার

  • Main Page প্রচ্ছদ
  • বিদেশ
  • বাংলাদেশ
  • স্বদেশ
  • ভারত
  • অর্থনীতি
  • বিজ্ঞান
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ভিডিও
  • ♦ আরও ♦
  • ♦ গুরুত্বপূর্ণ লিংক ♦
  • Review News


  • ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

    ঈদ আনন্দ, না নিরানন্দ
    এনবিএস | Sunday, August 11th, 2019 | প্রকাশের সময়: 2:16 pm

    ঈদ আনন্দ, না নিরানন্দ

    ঈদ আনন্দ, না নিরানন্দ

    – মোঃ মিজানুর রহমান –

    ঈদ বৃহত্তম উৎসব। ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। এই খুশি ও আনন্দ পারস্পরিক ভাগাভাগির-যা মানুষকে উজ্জীবিত রাখে, সমাজকে সানন্দে সৃজনশীলতার পথে এগিয়ে নেয়। সময়ান্তে কখনো কখনো কোন কোন জাতিকে মুক্তিও দেয়।

    বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানুষের চলমান যাপিত জীবনের প্রেক্ষিতে এবারের ঈদ কতোটুকু আনন্দের, না নিরানন্দের তা একটু চোখের দৃষ্টি হোক বা মনের দৃষ্টি হোক অবলোকন করলেই বুঝা যাবে।

    এবারো হয়ে গেল বাংলাদেশে বন্যা। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের ছিল সীমাহীন দুর্ভোগ। কিন্তু সে তুলনায় সরকার তাদের প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী দিতে পারেন নাই অর্থাৎ ব্যর্থ। এ রেশ কাটতে না কাটতেই মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু-যা দেশব্যাপী বিস্তৃত হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের ব্যবহত ঔষধে মশা নিধন হচ্ছে না। সরকার এবং সিটি কর্পোরেশন সঠিক ঔষধ ব্যবহার করতে পারছেন না। সরকারের এ ব্যর্থতায় আতংকে আছে মানুষ। অকালে ঝড়ছে বহু প্রাণ। তারপরেও যেনো শেষ হচ্ছে না নগরকর্তৃপক্ষ, সরকারের এমপি, মন্ত্রীদের মুখের বড় বড় অনুসৃত বাণ মানে বাণী।

    সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে দেশে গলাকাটা, ছেলেধরার কাহিনীতে গেল কিছু নিরীহ প্রাণ। হচ্ছে অবারিতভাবে ধর্ষণ, খুন ও লুট। উদাহরণস্বরপ বলা যায় বরগুনার রিফাত হত্যাকান্ড। যেখানে আওয়ামীলীগ এমপি’র ছেলে জড়িত, প্রশাসন পদক্ষেপে ব্যর্থ। ক্ষেত্রবিশেষে প্রশাসনও জড়িত। যেমন-খুলনায় গনধর্ষণে অভিযুক্ত ওসি এবং এসআই। 

    বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ে জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটি, কমিটি অ্যাগেইনেস্ট টর্চার সভায় জানানো হয় যে, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৭ হাজার নারী ধর্ষণের শিকার হয়। ২০০৯ থেকে ২০১৯ এর প্রথম দিক পর্যন্ত  ২০৮৮ জন বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে। এই সময়ে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা গুম করেছে ৫২৬ জনকে। বাংলাদেশের আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য-চলতি বছরের (২০১৯) সাত মাসে সারা দেশে ৮২৬ শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার। এই হচ্ছে ধর্ষণ ও খুনে বাংলাদেশের মানবাধিকার। আর লুট………….

    বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকাবস্থায় ব্যাংকে যেনো টাকাই থাকছে না। ব্যাংকের ভল্ট থেকে স্বর্ণ চুড়ি, ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে টাকা গায়েব। যা তদন্ত চললেও প্রকাশ হয় না রির্পোট। জনমনে ধারণা সরকারের লোকজনই এর সাথে জড়িত। স্বাধীন বাংলাদেশের পর একমাত্র এই সরকারেরই ব্যর্থতা শেয়ার বাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট। বিনিয়োগকারীরা কেউ পথে বসছে, কেউ বা আত্মহত্যা করছে। গণমাধ্যমের রিপোর্ট সরকারের রাঘববোয়ালরা এর সাথে জড়িত। এর মূল হোতাদের নাম তদন্ত শেষে বের হয়ে আসলেও প্রকাশ করতে পারেন নাই সরকার-যা সাবেক অর্থমন্ত্রীর এক বক্তব্যে প্রকাশিত।

    সরকারের অব্যবস্থাপনা বা অদক্ষতার কারণে একের পর এক গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি এবং এ সময়ে দ্রব্য-মূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধিতে জনগণ আছে সীমাহীন অস্বস্তিতে। রোগ-শোক, আতংক আর অস্বস্তিতে এবারের ঈদ জনগণের কাছে আনন্দের চেয়ে নিরানন্দ হয়ে এসেছে।

    জনগণ ভয়ে মুখে বলতে পারছেন না। কিন্তু অন্তরে অনুভবে ঠিকই ভাবছেন-রন্ধ্রে রন্ধ্রে সরকারের ব্যর্থতার কথা। কেননা, ভারত সরকার তাদের বিমানবন্দর স্থাপনের জন্য কিভাবে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করার সাহস দেখায় ? যদি তাই হয় তখন সার্বভৌমত্ব কোথায় যাবে ? তখন সরকারের কুটনীতির ব্যর্থতা কি থাকবে আর লুকে। না-কি সরকারের ক্ষমতানীতি বা ভারতপ্রীতির কারণে তা চাপা দিচ্ছেন বুকে। এমনিতেই দেশে গণতন্ত্র নেই একথা আজ মানুষের মুখে মুখে। ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানে যা লেখা ছিল শহীদ নুর হোসেনের পিঠে ও বুকে-তাই যেনো আজো বিরাজ করছে বাংলাদেশের বুকে-“স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক”। 

    ভোটার এখন নিজেদের ভোটটাও নিজে দিতে পারেন নাই। ভোটের আগেই প্রশাসনের ছত্রছায়ায় ক্ষমতাসীনরা নিজেদের প্রতীকে ছিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে রাখে। ভোট দিতে গেলে বলে বাড়ী যান আপনার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। চিহ্নিত বিরোধী দলের কর্মীরা ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে ঢোকাতো দুরের কথা-আশেপাশেই যেতে পারেন না-প্রশাসনের ছত্রছায়ায় ক্ষমতাসীন ক্যাডারদের দৌরাতেœ। জনগণের ভোটও হয়ে যায় সীমাহীন লুট। 

    বর্তমান ক্ষমতাসীনরা পরিবেশ এমন করেছেন যেনো-‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দিব’ এ স্লোগানের পরিবর্তে করেছে-“আমার ভোট আমি দিব, তোমার ভোটও আমি দিব, সব ভোটই আমরাই নিব”। ভোটাধিকারের অবস্থা দেশজুড়ে হা-হাকার। খুন, ধর্ষণ, লুট, ভোটাধিকার, মানবাধিকার, নিরাপত্তার অভাবে দেশের জনগণ আজ ভীতসন্ত্রস্ত। আর এর সাথে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি আর দ্রব্য মূল্যের ক্রমাগত বৃদ্ধিতে জনগণ আছে চরম অসস্তিতে। জনগণের এসব অধিকারের বিষয়ে যিনি আপোসহীন থেকেছেন সবসময়; উনাকে আজ কারাগারে রেখে অসুস্থ্য বানিয়ে হুইল চেয়ারে বসে রেখে ক্ষমতাসীনরা একের পর এক সাধন করছেন জনগণের আধিকার হরণ”-এসবই এখন ভাবছেন জনগণ।  উনার আন্দোলন ছিল-জনগণের অধিকার সম্বলিত আন্দোলন। যেনো আজ উনি বন্দী নন বন্দী জনগণ।  তাই বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে আজ আছে উনারই নাম জাগিয়া-বেগম খালেদা জিয়া। আজ উনার মুক্তি মানেই জনগণের মুক্তি-যা একাকার। তাইতো জনগণই উনাকে উপাধি দিয়েছেন “মাদার অব ডেমোক্রেসি” অর্থাৎ “গণতন্ত্রের মা”। বেগম খালেদা জিয়া আজ কারো একার না। আজ তিঁনি দেশের সমস্ত জনগণের পরিণত হয়েছেন-তিঁনি আজ এক সাতন্ত্র্য সংস্থা। 

    বেগম খালেদা জিয়া আজ শুধু তাঁর দলের নেতাকর্মীদের কাছে নন, সাক্ষী এদেশের জনগণ তাইতো বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আ. স. ম আব্দুর রব, বঙ্গবীর খ্যাত কাদের সিদ্দিকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ আপামর জনগণের মুখে মুখে এ কথা “বেগম খালেদা জিয়া মানেই বাংলাদেশ”। আজ যেনো বেগম খালেদা জিয়া বন্দী নন, বন্দী বাংলাদেশের জনগণ। আজ তাঁর মুক্তি মানেই জনগণের মুক্তি। 

    বন্যা কবলিত, ডেঙ্গু আক্রান্ত, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে অস্বস্তি, বেগম খালেদা জিয়ার আটকিয়ে রাখা মুক্তি-এসবের মাঝে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারে ঈদ। তাই এবারের ঈদ জনগণের কাছে আনন্দের না হয়ে নিরানন্দ হয়ে দেখা দিয়েছে। কেননা, জনগণ চায় বন্যার স্থায়ী সমাধান, ডেঙ্গু আক্রান্ত নয় সুস্থ্য, দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি নয় স্বস্তি, নিরাপত্তা, মানবাধিকার, ভোটাধিকারের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার-তথা গণতন্ত্রের মুক্তি মানে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি-এ নিয়ে জনগণের কাছে আছে অসংখ্য যুক্তি। তার মধ্যে একটি যুক্তি হলোঃ ১/১১ সরকারের সময় করা বেগম খালেদা জিয়ার নামে মামলা ছিল মাত্র ৫ টি আর বর্তমান ক্ষমতাসীন প্রধান এর নামে ছিল হত্যামামলাসহ তিনগুন বেশী ১৫ টি মামলা।  বেগম খালেদা জিয়াকে যে মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে তার টাকার পরিমান প্রায় ২ কোটি টাকা-যে টাকা তছরুপই হয় নাই। 

    অপরদিকে ক্ষমতাসীন প্রধানের নামে দুর্নীতি, চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার। এই প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ১৫ টি (হত্যা মামলাসহ) মামলা যদি বাতিল করা যায় বা উঠানো যায় তাহলে ৫ টি মামলা কেনো উঠানো যায়না ? এ তো পক্ষপাতিত্বের উজ্জল উদাহরণ হয়ে থাকবে ইতিহাসে। জনগণ বুঝে গেছে এখানে জিঘাংসা ও প্রতিহিংসার বশঃবর্তী প্রভাবিত। তাইতো সার্বিক প্রেক্ষাপটে আজ জনগণের প্রশ্ন-একজনকে কারাগারে রেখে অপরজন বাহিরে থেকে ঈদ উদ্যাপন-সেই অপরজনই নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন এবং স্বচ্ছ, সৎভাবে বিবেকের কাছেই উত্তর খুঁজুন-এ ঈদ আনন্দের, না নিরানন্দের।

    লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট


     

    Space For Advertisement

    (Spot # 14)

    Advertising Rate Chart

    আপনার মন্তব্য লিখুন...
    Delicious Save this on Delicious

    nbs24new3 © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    নিউজ ব্রডকাস্টিং সার্ভিস - এনবিএস
    ২০১৫ - ২০১৯

    উপদেষ্টা সম্পাদক : এডভোকেট হারুন-অর-রশিদ
    প্রধান সম্পাদক : মোঃ তারিকুল হক, সম্পাদক ও প্রকাশক : সুলতানা রাবিয়া,
    সহযোগী সম্পাদক : মোঃ মিজানুর রহমান, নগর সম্পাদক : আব্দুল কাইয়ুম মাহমুদ
    সহ-সম্পাদক : মৌসুমি আক্তার ও শাহরিয়ার হোসেন
    প্রধান প্রতিবেদক : এম আকবর হোসেন, বিশেষ প্রতিবেদক : এম খাদেমুল ইসলাম
    স্টাফ রিপোর্টার : মোঃ কামরুল হাসান, মোঃ রাকিবুর রহমান ও সুজন সারওয়ার
    সিলেট ব্যুরো প্রধান : ফয়ছল আহমদ
    -------------------------------------------
    ৩৯, আব্দুল হাদি লেন, বংশাল, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
    ফোন : +৮৮ ০২ , +৮৮ ০১৭১৮ ৫৮০ ৬৮৯
    Email : [email protected], [email protected]

    ইউএসএ অফিস: ৪১-১১, ২৮তম এভিনিউ, স্যুট # ১৫ (৪র্থ তলা), এস্টোরিয়া, নিউইর্য়ক-১১১০৩, 
    ইউনাইটেড স্টেইটস অব আমেরিকা। ফোন : ৯১৭-৩৯৬-৫৭০৫।

    আসাক আলী, প্রধান সম্পাদক, ভারত।
    ভারত অফিস : সেন্ট্রাল রোড, টাউন প্রতাপগড়, আগরতলা, ত্রিপুরা, ভারত।

    Home l About NBS l Contact the NBS l DMCA l Terms of use l Advertising Rate l Sitemap l Live TV l All Paper

    দেশি-বিদেশি দৈনিক পত্রিকা, সংবাদ সংস্থা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে সংগৃহিত এবং অনুবাদকৃত সংবাদসমূহ পাঠকদের জন্য সাব-এডিটরগণ সম্পাদনা করে
    সূত্রে ওই প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে প্রকাশ করে থাকেন। এ জাতীয় সংবাদগুলোর জন্য এনবিএস কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না।
    আমাদের নিজস্ব লেখা বা ছবি 'সূত্র এনবিএস' উল্লেখ করে প্রকাশ করতে পারবেন। - Privacy Policy l Webmail