ঢাকা | শুক্রবার | ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ | ৩ কার্তিক, ১৪২৬ | ১৮ সফর, ১৪৪১ | English Version | Our App BN | বাংলা কনভার্টার

  • Main Page প্রচ্ছদ
  • বিদেশ
  • বাংলাদেশ
  • স্বদেশ
  • ভারত
  • অর্থনীতি
  • বিজ্ঞান
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ভিডিও
  • ♦ আরও ♦
  • ♦ গুরুত্বপূর্ণ লিংক ♦
  • Review News


  • ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

    বাংলাদেশ উপাখ্যান: সিকিম নয়-সচেতন সংগ্রামেই বিজয়
    এনবিএস | Saturday, October 5th, 2019 | প্রকাশের সময়: 8:27 pm

    বাংলাদেশ উপাখ্যান: সিকিম নয়-সচেতন সংগ্রামেই বিজয়বাংলাদেশ উপাখ্যান: সিকিম নয়-সচেতন সংগ্রামেই বিজয়

    -: মোঃ মিজানুর রহমান :-

    লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজ পতাকা, এ ভূ-খন্ড পেয়েছে স্বাধীনতা। স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ-সম্পদে ভরপুর এই দেশ। তাই স্বাধীনতার পর থেকেই এ দেশের উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে আগ্রাসনবাদী দেশসমূহের। আগ্রাসনবাদীর কবল থেকে দেশ ও দেশের জনগণকে রক্ষায় বারবারই এগিয়ে আসছে জাতীয়তাবাদ।

    দেশ স্বাধীনের পরপরই শেখ মুজিবুর রহমান এর শাসন আমলে দেশে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। দুর্ভিক্ষ এতই ভয়াবহ ছিল যে, মানুষ খাবার পায় নি; এমনকি লজ্জা ঢাকার জন্য মানুষ কাপড় পর্যন্ত পায় নি। গাছের পাতা, মশারির পাতলা জাল দিয়ে সে সময় লজ্জা ঢাকছে মানুষ। সে সময়ে বাসন্তীর একটি ছবিই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মূলতঃ দুর্নীতি আর লুটপাটের কারণেই দুর্ভিক্ষ ভয়াবহরূপ ধারন করেছিল সে সময়। তৎকালীন শাসকের এক উক্তি থেকেই দুর্নীতি আর লুটপাটের চিত্র ফুটে ওঠে। তৎকালীন শাসকের উক্তিটি ছিল “সাত কোটি মানুষের আট কোটি কম্বল, আমার কম্বল গেলো কই”। এসব দুর্নীতি-লুটপাটের কথা যেনো কেউ বলতে না পারে তাই বিরোধী দল বা মতকেও তখন দমন করা হতো-সিরাজ সিকদারের হত্যাই তার উদাহরণ। বিরোধী মতকে নির্মুল করার জন্য সরকার নিয়ন্ত্রিত ৪ টি পত্রিকা বাদে সকল পত্রিকা বাতিল করে দেওয়া হয়। সকল দল বিলুপ্ত করে এক দল ‘বাকশাল’ কায়েম করা হয়। ফলে দেশে অরাজকতা দেখা দেয়। সৃষ্ট অরাজকতায় তৎকালীন শাসক পরিবার-পরিজনসহ নিহত হন। আর ক্ষমতা নেন সেই শাসকের ঘনিষ্ট সহচর খন্দকার মোশতাক। খন্দকার মোশতাকের অদক্ষ শাসনের ফলে দেশে আসে ৭ নভেম্বর আর সিপাহী-জনতার ব্যাপক জনপ্রিয়তায় পাদ-প্রদীপের মতো শীর্ষে আসেন মেজর জিয়াউর রহমান-ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন তিঁনি। স্বাধীন দেশে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান আমাদের পরিচয় দেন “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ”। উন্নয়নমুখী আধুনিক ও স্ব-নির্ভর বাংলাদেশ গড়তে তিনি ১৯ দফা পেশ করেন-যা দেশ গঠন ও উন্নয়নের সনদ। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওযার জন্য বাকশাল বিলুপ্ত করে বহদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন, সংবাদ পত্রের অবাধ স্বাধীনতা দেন। অতি অল্প সময়ে জিয়াউর রহমান অসংখ্য কাজ করে দেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র অপবাদ থেকে বিশ^ব্যাপী “ইমারজিং টাইগারে” পরিণত করেন। কিন্তু আগ্রাসনবাদীদের থাবা আর তার সাথে স্ব-দেশী ষড়যন্ত্রকারীদের মিলিত চক্রান্তে ৩০ মে ১৯৮১ শহীদ হন বাংলাদেশের সফলতম প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এরপর আসেন স্বৈরা শাসক হু. মু এরশাদ। দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরা শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে আপোসহীন সংগ্রাম করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় আসেন গৃহবধু থেকে সময়ের প্রয়োজনে রাজনীতিতে আসা বেগম খালেদা জিয়া-ইতিহাসে ঠাঁই হয় তাঁর-হয়ে যান বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। তিঁনি যখন দ্বিতীয়বার প্রধান মন্ত্রী হন ১৯৯৬ সালে তখন বর্তমান শাসক প্রধান শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ জামায়াতকে সাথে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য লাগাতর ১৭৩ দিন হরতাল-অসহযোগ আন্দোলন করেন। অতঃপর আসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি। এরপর সে পদ্ধতিতে পালাক্রমে বিএনপিজোট ও আওয়ামী জোট ক্ষমতায় আসেন। 

    ২০০৬ সালের ২২ জানুয়ারী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল-সে সময় যেনো আবারো আগ্রাসনবাদীরা মাথাচড়া দিয়ে উঠল-তারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য নিয়ে আসলেন। প্রচারে আছে আগ্রাসনবাদী পাশ্ববর্তী একটি দেশ বস্তা বস্তা টাকা দিয়েছিলেন বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী বৈতরণী পার করে ক্ষমতায় আনার জন্য-আগ্রাসনবাদী পাশ্ববর্তী সেই দেশ আর আমাদের দেশের সেই রাজনৈতিক দলের ষোলকলা পূর্ণ হয়েছিল। যাই হোক, ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিনদ্বয়ের অনুষ্ঠিত ২৮ ডিসেম্বর, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় আসেন শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ জোট। শেখ হাসিনা’র প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় দেশের প্রথম ক্ষতি হয় প্রতিরক্ষায়-দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর উপর আঘাত আসে ২৫ ও ২৬ জানুয়ারী ২০০৯ সালে এবং সেনাপ্রধানসহ বেশ কয়েকজন নিহত হন। এতে আগ্রাসনবাদীরা যেনো আর মাথাচড়া নয় বরং মাথাঝাঁকি দেয় বাংলাদেশ বিষয়ে ও ক্ষমতাসীনদের তাদের আগ্রাসনবাদ কাজের দোসরে পরিণত করতে থাকে এবং সেই সাথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকার নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করেন-যার ফলে মানুষের ভোটাধিকার বা গণতন্ত্রকে যেনো হত্যা করা হলো। (পাঠককুল ভাবুন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আওয়ামীলীগ আন্দোলন করলো, সেই তত্ত্বাবধারক সরকার পদ্ধতি নিজ স্বার্থ চরিতার্থে প্রতিহিংসা ও জিঘাংসার লালসে আবার হত্যাও করল আওয়ামীলীগ নিজেই।) তার প্রমাণ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর একতরফা ভোটারবিহীন, প্রার্থীবিহীন ও ভোট চুরি-ডাকাতি বা জালিয়াতি মহোৎসবের এক নির্বাচন এবং সেই ধারা অব্যহতসহ আরো একধাপ এগিয়ে অর্থাৎ আর চুরি-ডাকাতি নয় ভোট হ্যাইজাক করে ২৯ ডিসেম্বর রাতেই ব্যলটবাক্স ভরিয়ে ক্ষমতা নিশ্চিত করেন ক্ষমতাসীনরা-সহায়তা করেন প্রশাসন-যা নিচের ছড়ায় প্রকাশ করা যায়-

    বি-ভূঁইদের আগ্রাসন
    কিসের গণতন্ত্রায়ন ? 
    দাবায়ে রেখে জনগণ
    ঘুমায়ে আইন-কানুন,
    মধ্যরাতে ভোট দেয় প্রশাসন
    জবর-দখল ক্ষমতায় আওয়ামী’জন।

    বর্তমান ক্ষমতাসীনদের আমলে জাতীয় বা স্থানীয় পর্যায়ের গত ১০ বছরের নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ আর ভোট দিতে পারেন না। জনগণ মনে করেন এসব কাজে ক্ষমতাসীনদের পরোপুরি সহায়তা করেন পাশ^বর্তী আগ্রাসনবাদী দেশ। তারা সবসময় চান আমাদের নিজেদের মাঝে ফেসাদ সৃষ্টি করে ফায়দা লুটে নেওয়া-যেমনটি তারা করেছিল সিকিমে।

    পাশ^বর্তী দেশ ভারতের সহযোগিতার কারণেই ২০১৪ সালে ০৫ জানুয়ারী ভোটারবিহীন, প্রার্থীবিহীন, জবর-দখলমূলক নির্বাচন করতে পেরেছিল আওয়ামী লীগ এবং পরবর্তীতে ভোট চুরি-ডাকাতির সে ধারা অব্যহত রেখেছিল-জনগণের ভোটাধিকার বা কথা বলার অধিকার আরো স্তিমিত হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় প্রশাসনের সহায়তায় ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগের রাতেই ২৯ ডিসেম্বর রাতেই ভোট হ্যাইজাক করে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। জনগণ বা বিরোধীপক্ষ বুঝার আগেই ক্ষমতাসীনরা এ কাজ অত্যন্ত সুনিপনে সেড়ে ফেলেন। এখন শোনা যাচ্ছে আগামী সংসদ নির্বাচন সবগুলো আসনেই ইভিএম মেশিনে ভোট করবে-তাহলে কি হবে জনগণ ভাবুন একবার ? উল্লেখ্য এবার ইভিএমের-এক সেন্টারে সবগুলো ভোট নৌকায় পরেছিল-তাহলে ভাবুন যদি আগামী নির্বাচন সব কেন্দ্রে ইভিএম মেশিনে হয় কি হবে…?

    আগাসনবাদী দেশ সব সময় কৌশলে আমাদের সম্পদ লুটে নিতে চেয়েছে এবং কৌশল করে পেরেছেও। তার কারণ অত্যন্ত সুনিপন কৌশলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার দ্বারা মানুষের ভোটাধিকার হরণ করতে পেরেছে এবং সেই সাথে-কেউ প্রতিবাদ করলে আগ্রসনবাদীদের ছত্রছায়ায় জবর-দখলকারী সরকার জনমনে প্রচন্ডভাবে ভীতি ঢুকে দিয়েছে যে প্রতিবাদ করলে পরিণাম ভাল হবে না-তাদের জন্য গুম, খুন, নির্যাতন, অপহরণ, ধর্ষণ ইত্যাদি জুটবে। ক্ষমতাসীনদের আগ্রাসনবাদী দেশটি সম্পূর্ণরূপে হাতের মুঠোয় নিয়েছে। আর তার সাথে চুক্তিসমূহ তো আছেই-যা দাসত্বস্বরূপ। 

    স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার প্রধান ও ইন্দিরা চুক্তির দিকে দৃষ্টিপাত করলেই বুঝা যাবে কি গোলামীর চুক্তি ছিল সেটা। আর সম্প্রতি র্বতমান আওয়ামী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যে বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির দিকে লক্ষ্য করলে আরো খোলাসা হবে আগ্রাসন বাদী দেশের লোলুপ দৃষ্টি। দু’/একটি উদাহরণে তা বুঝা যাবে। পাশ^বর্তী দেশের সাথে আমাদের দেশের যে প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে-সে মতে আমাদের মহান সেনাবাহিনী তাদের কাছে ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ নিবে এছাড়া অন্য কোথাও নিতে পারবে না। পাঠককুল একটু ভাবুনতো আমাদের চারপাশে কোন দেশের সীমান্ত এবং সেই সীমান্ত আক্রান্ত করবে কে-সেই সীমান্ত যদি আক্রান্ত হয় তাহলে প্রতিরোধ করবে আমাদের মহান সেনাবাহিনী বা বিডিআর । আর তারা যদি পাশ^বর্তী সেই দেশেই প্রশিক্ষণ নেয় তাহলে কেমন ফল আসবে-যেমনটি হয়েছিল সিকিমে-সিকিম সেনাবাহিনী ভারতের কাছে থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল-ফলে ভারতের সেনাবাহিনী যখন সিকিম দখল করলো তখন সিকিম সেনাবাহিনী তথা প্রশাসন এক্কেবারে চুপচাপ ছিল। কারণ তারা যে প্রতিরোধ করবে তার সবই তো প্রতিপক্ষের জানা।

    আর অন্যান্য চুক্তির ফলে তো দেশটা প্রায় নিয়েই নিয়েছে আগ্রাসনবাদী পাশ^বর্তী দেশটি। মেত্রী চুক্তির ফলে বাংলাদেশের রাস্তায় ভারতের যানবাহন চলবে-রাস্তা নষ্ট হলে-তাদের কাছ থেকেই চড়া সুদে টাকা নিয়ে ঠিক করতে হবে-ভাবুন ঠেলা। আবার শোনা যাচ্ছে ভারত নাকি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি ট্রাক স্ট্যান্ড করবে। তাহলে আমাদের সার্বভৌমত্বেৃৃর কি দশা হবে ? এদিকে ভারত তাদের সুন্দরবন অক্ষত রেখে আমাদের সুন্দরবনের কাছে বিদ্যুৎ কেন্দ্য স্থাপন করতেছে-উৎপাদিত সে বিদ্যুৎ চড়া মূল্যে আমাদেরই কিনে নিতে হবে—-কি আজব এক গোলামীর জিঞ্জির ? পিন্ডির জিঞ্জির থেকে স্বাধীন হয়ে যেনো দিল্লির জিঞ্জির আবদ্ধ করতেছে আমাদের-এ কাজে সহায়তা করতেছে একটি রাজনৈতিক দল। এর সাথে সুবিশাল বাণিজ্য ঘাটতি তো রয়েছেই। ভারত যেভাবে সিকিম দখলে নিয়েছিল-তার চেয়েও আধুনিক কলা-কৌশলে সীমানা ঠিক রেখে তাদের নাচের পুতুল সরকার বসিয়ে আমাদের সব কিছু ধীরে ধীরে গ্রাস করে নিচ্ছে-এর প্রতিবাদ যে মেধাশক্তি দিয়ে হবে-সে মেধাও নষ্ট করে ফেলছে প্রায় এক দশকের বেশী সময় ধরে ক্ষমতাসীনদের নেতা-চামচা, চ্যালা-গুন্ডা-পান্ডা-সান্ডারা প্রশ্নপত্র আউট করে। এই দেশে প্রথম শ্রেণী স্কুল পরীক্ষার প্রশ্নও আউট হয়। মেধা কোথায় ভাবা যায় ? এটা আগ্রাসনবাদী দেশের চক্রান্তে দেশীয় দোসররা যোগসাজসে করেছেন। ধীরে ধীরে আমাদের সব কিছুই যেনো আগ্রসনবাদী সেই দেশে চলে যাচ্ছে। মানুষ যে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পরিবর্তন আনবে-সে ভোটের কোন অধিকারই এখন ভোটারদের নেই। ভোটাররা জানেনই না অথচ ক্ষমতাসীন ক্যাডার-প্রশাসন যোগসাজসে মানুষের ভোট হ্যাইজাক করে নিয়ে নেয়। জনগণ এসবে ভাবতেছে সিকিম হতে মনেহয় আর বেশী দেরী হবে না-হয়তো সীমারেখা থাকবে, সরকার থাকবে নাচের পুতুলের মতো কিন্তু সব দখলে যাবে ওদের মানে আগ্রাসনবাদীদের। আমাদের সংস্কৃতিও তারা প্রায় দখলে নিয়েছে। বাসা-বাড়ীতে এখন টিভিতে দেখা যায় ওদের চ্যানেল যা কুট-কৌশলে ভরা। অথচ আমাদের দেশের সব চ্যানেল ওই দেশে ওই দেশের সরকার বন্দ করে দিয়েছে। আমাদের সরকার যেনো এ বিষয়ে অন্ধ বা বধির-দেখেও দেখছে না, শুনেও শুনছে না-ক্ষমতা হারানোর ভয়ে। আর সিনেমা সেটা তো আগ্রাসনবাদীরা বাণ্যিজ্যের নামে কৌশলে আমাদের দেশের কিছু দালালদের মাধ্যমে ধ্বংস করে দিয়েছে ; বাকি আছে শুধু হলগুলো দখলে নেওয়ার-সেটা তারা তাদের সিনেমা মুক্তি দিয়ে করে নিচ্ছে। ওদিকে আমাদের সীসান্তের দিকে একটু দৃষ্টিপাত দিলে আগ্রাসনবাদের নীল নক্সা’র চিত্র স্পষ্ট বুঝা যাবে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারত তার প্রতিরক্ষা দিনের পর দিন বৃদ্ধি করে যাচ্ছে। সীমান্ত আউট পোস্ট(বিওপি)গুলো একটি থেকে আরেকটির দুরত্ব ১৫ কিলোমিটার এর পরিবর্তে ৪/৫ কিলোমিটারে নিয়ে আসতেছে, সীমান্তে বিএসএফ এর শক্তি দিনকে দিন বৃদ্ধি করতেছে। সীমান্তে থারমাল নাইটভিশন ডিভাইস, টেলিস্কোাপিক বন্দুক, উচ্চমানের হাতিয়ার মোতায়েনসহ অন্যান্য আনুসঙ্গিক বিষয়াদিসমূহ প্রস্তুত করতেছে। সীমান্তে রোড নির্মাণ করতেছে এবং কয়েক হাজার কিলোমিটার রোডে কাটাতারসহ ফাডলাইটের আওতায় আনতেছে এবং সীমান্তে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর মোতায়েন করতেছে। এসব কাজ ভারত বাংলাদেশ সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরামসহ সব সীমান্তে করে যাচ্ছে। অথচ চুক্তি অনুযায়ী ১৫০ গজের মধ্যে দু’দেশের কেহই কোন কাঠামো নির্মাণ করতে পারবেন না। ভারত সে চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেদারসে তা করে যাচ্ছে। আর বাংলাদেশের বর্তমান সরকার অবলীলায় বলে যাচ্ছে-‘ভারত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু’। পাঠককুল আংশিক উল্লেখিত উদাহরণ কি অকৃত্রিম বন্ধুত্বের লক্ষণ না-কি ভারতের সাম্রাজ্যবাদ বা আধিপত্যবাদ বা অগ্রাসনবাদের ঘোলকলা পূর্ণকরার তুমুলবেগে অগ্রগতি হওয়ার লক্ষণ ?

    এসব যেনো মনে করে দেয় সেই ভারতের সিকিম বধের ইতিহাস। ভারত সিকিমে লেন্দুপ দর্জ্জির সহায়তায় ৩০ বছরের কুটচালের মাধ্যমে দখল করে নিয়েছিল। ১৯৫০ সালে ভারতের সাথে সিকিমের চুক্তি অনুযায়ী ভারত সিকিমের প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ স্থাপনা দেখাশোনার পুরো কর্তৃত্ব সিকিমের কাছ থেকে নিয়ে নেয় কিন্তু সিকিমের অভ্যন্তরীন বিষয়ে পূর্ণ স্বাধীনতা পায় সিকিম। এরপর ভারত সিকিমে তাদের সেনাবাহিনীর তৎপরতা বাড়াতে থাকে এবং সিকিমে ভারত তাদের একটি রাজনৈতিক প্রতিনিধিও নিয়োগ করেন তদারকি বৃদ্ধির জন্য। এরপর ভারত দালাল লেন্দুপ দর্জ্জির সহায়তায় লেন্দুপ দর্জ্জির দল “ন্যাশনাল কংগ্রেস” এর মাধ্যমে ‘গণতন্ত্রের সংগ্রাম চলছে, চলবে…’ ধোকাবাজি স্লোগানের ধূঁয়া তুলে সিকিমকে উত্তপ্ত করে জনগণের মনে ভীতি ঢুকিয়ে বন্দুকের নলের মখে জোর করে তাদের পছন্দে ভোট নিয়ে মোট ৩২ আসনের মধ্যে ৩১ আসনে লেন্দুপ দর্জ্জির ন্যাশনাল কংগ্রেসকে বিজয়ী করে লেন্দুপ দর্জ্জিকে সিেিকমর ক্ষমতায় এনে তাকে ভারতের নাচের পুতুল সরকার বানিয়ে সিকিমের ভিতর তুমুল অরাজকতা সৃষ্টি করে লেন্দুপ দর্জ্জিকে লোভ দেখিয়ে তাকে ও তার দলে অঢ়েল টাকা-পয়সা দিয়ে সহায়তা করে। অপরদিকে রাজাকে মিছেমিছি আশ^স্ত করে ছলে-বলে-ধান্ধাবাজি করে রাজাকে এক সকালে আটক করে সিকিমের পতাকার স্থলে ভারতের পতাকা উত্তোলন করে এক ঘোষণায় সিকিমকে ভারতের অঙ্গরাজ্যে পরিণত করেন। সিকিম তার স্বাধীনতা হারায় বিশ^াসঘাতক শাসক লেন্দুপ দর্জ্জির সহায়তায়। লেন্দুপ দর্জ্জি আর তার ন্যাশনাল কংগ্রেসের মাধ্যমে ভারতের সিকিমে দখল কি আমাদের বর্তমান আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক বা ক্ষমতাধরদের।

    এই যখন অবস্থা তখন এই দেশের একটি দল-জাতীয়তাবাদী দল প্রতিবাদ করে যাচ্ছে-জনস্বার্থে বা জাতির স্বার্থে। তারা যেনো মথা চড়া দিয়ে না উঠতে পারে তাই তাদের নেত্রীকে কারাবন্দী করে রেখেছেন, অসুস্থ্য বানিয়ে হুইল চেয়ারে রেখেছেন। সেই নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য, দেশকে সিকিমের মতো না হতে দেওয়ার জন্য আজ আগ্রাসনবাদীদের কু-লোলুপ দৃষ্টি আর জবর-দখলকারী ক্ষমতাসীনদের প্রতিহিংসা বা জিঘাংসার শিকার হয়ে কারাবন্ধী। জনগণ তার মুক্তি চাইলেও প্রশাসন বা দলীয় ক্যাডারদের ও হয়তোবা তাদের সমর্থনপূষ্টদের নলের মুখে গুম, খুন, ধর্ষণ, জেল-জুলুম, নির্যাতনের ডান্ডাবেরী দিয়ে ঠান্ডা করে রেখেছে ভোটারবিহীন সরকার। হইল চেয়ারে বসলেও বেগম খালেদা জিয়া একটুও নতি স্বীকার করেননি বা আপোস করেননি জবর-দখলকারী বা আগ্রাসনবাদীদের কাছে। তিঁনি মানুষের ভোটাধিকার মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিতে, দেশের মালিক জনগণ তা ফিরিয়ে দিতে, দেশকে সিকিমের মতো হতে না দিতে “দেশ বাঁচাও -মানুষ বাঁচাও” স্লোগান জনসম্মুখে উত্থাপন করে দৃঢ় মন নিয়ে অপোসহীন হয়ে আছেন-যার জন্য দেশের জনগণ তাকে উপাধি দিয়েছেন “মাদার অব ডেমোক্রেসি” বা “গণতন্ত্রের মা”। তিনি ধীরে ধীরে দেশনেত্রী থেকে বিশ^নেত্রী’। বেগম খালেদা জিয়া এখন কোন দলের একার না; এখন তিনি সমগ্র দেশের-সব জনগণের। তাইতো জনগণ বলেন-“বাংলাদেশ মানেই খালেদা জিয়া, খালেদা জিয়া মানেই বাংলাদেশ”। আর এইসব দেশপ্রেমিক জনগণকে সাথে নিয়ে-সুসংগঠিত করে আধিপত্যবাদের দোসর জবর-দখলকারী ক্ষমতাসীনদের হাত থেকে দেশের জনগণকে রক্ষা করার জন্য তারই সন্তান জনাব তারেক রহমান (বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) কাজ করে যাচ্ছেন। জনগণও ভাবছেন-সফল একদিন হবেই হবেন-তারাও পাশে থাকবেন। এই দেশ হবে তাবেদার, দালালমুক্ত। জনগণ এও ভাবছে “সিকিম নয়-সচেতন সংগ্রামেই বিজয়” অর্থাৎ কিছুতেই দেশকে সিকিম হতে দেওয়া যাবে না-সচেতন থেকে সংগ্রামী দলের পাশে থেকে সংগ্রাম করেই বিজয় আনতে হবে, পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে গণতন্ত্র। আর গণতন্ত্র বা ভোটাধিকার-এর জন্য যে রাজনৈতিক দল লড়াই করতেছেন অবশ্যই সেই দলের পাশে আসবেন তারা (জনগণ)-সেই দলেই ভিড়ে একাকার হবেন তারা (জনগণ)-হয়তো সেদিন আর বেশী দুরে নয়-জনগণ চায় ফিনিক্স পাখির মতো উড়ে উঠার সংগঠিত সুসময়-যার তোরে ভেসে যাবে জবর-দখলকারী ক্ষমতা ও আগ্রাসনবাদ। আর বিশ^ব্যাপী স্ব-মহিমায় গণতন্ত্র, মানবাধিকার, শান্তি-সম্প্রীতি , সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে রোল মড়েল হয়ে দৃঢ় সুপ্রতিষ্ঠিত হবে জনগণের সমর্থনপুষ্ট জাতীয়তাবাদী শক্তি বা জাতীয়তাবাদ।

    লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।


     

    Space For Advertisement

    (Spot # 14)

    Advertising Rate Chart

    আপনার মন্তব্য লিখুন...
    Delicious Save this on Delicious

    nbs24new3 © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    নিউজ ব্রডকাস্টিং সার্ভিস - এনবিএস
    ২০১৫ - ২০১৯

    উপদেষ্টা সম্পাদক : এডভোকেট হারুন-অর-রশিদ
    প্রধান সম্পাদক : মোঃ তারিকুল হক, সম্পাদক ও প্রকাশক : সুলতানা রাবিয়া,
    সহযোগী সম্পাদক : মোঃ মিজানুর রহমান, নগর সম্পাদক : আব্দুল কাইয়ুম মাহমুদ
    সহ-সম্পাদক : মৌসুমি আক্তার ও শাহরিয়ার হোসেন
    প্রধান প্রতিবেদক : এম আকবর হোসেন, বিশেষ প্রতিবেদক : এম খাদেমুল ইসলাম
    স্টাফ রিপোর্টার : মোঃ কামরুল হাসান, মোঃ রাকিবুর রহমান ও সুজন সারওয়ার
    সিলেট ব্যুরো প্রধান : ফয়ছল আহমদ
    -------------------------------------------
    ৩৯, আব্দুল হাদি লেন, বংশাল, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
    ফোন : +৮৮ ০২ , +৮৮ ০১৭১৮ ৫৮০ ৬৮৯
    Email : [email protected], [email protected]

    ইউএসএ অফিস: ৪১-১১, ২৮তম এভিনিউ, স্যুট # ১৫ (৪র্থ তলা), এস্টোরিয়া, নিউইর্য়ক-১১১০৩, 
    ইউনাইটেড স্টেইটস অব আমেরিকা। ফোন : ৯১৭-৩৯৬-৫৭০৫।

    আসাক আলী, প্রধান সম্পাদক, ভারত।
    ভারত অফিস : সেন্ট্রাল রোড, টাউন প্রতাপগড়, আগরতলা, ত্রিপুরা, ভারত।

    Home l About NBS l Contact the NBS l DMCA l Terms of use l Advertising Rate l Sitemap l Live TV l All Paper

    দেশি-বিদেশি দৈনিক পত্রিকা, সংবাদ সংস্থা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে সংগৃহিত এবং অনুবাদকৃত সংবাদসমূহ পাঠকদের জন্য সাব-এডিটরগণ সম্পাদনা করে
    সূত্রে ওই প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে প্রকাশ করে থাকেন। এ জাতীয় সংবাদগুলোর জন্য এনবিএস কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না।
    আমাদের নিজস্ব লেখা বা ছবি 'সূত্র এনবিএস' উল্লেখ করে প্রকাশ করতে পারবেন। - Privacy Policy l Webmail