ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৩ আগস্ট, ২০২০ | ২৯ শ্রাবণ, ১৪২৭ | ২২ জিলহজ্জ, ১৪৪১ | English Version | Our App BN | বাংলা কনভার্টার

  • Main Page প্রচ্ছদ
  • করোনাভাইরাস
  • বিদেশ
  • বাংলাদেশ
  • স্বদেশ
  • ভারত
  • অর্থনীতি
  • বিজ্ঞান
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ভিডিও ♦
  • ♦ আরও ♦
  • ♦ গুরুত্বপূর্ণ লিংক ♦
    • NBS » ৪ শিরোনাম » নতুন সংঘাতের ঝুঁকি, করোনা বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি : অ্যান্তনিও গুতেরেস


    ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

    প্রদোষকাল: আমরা এখন ‘ট্রেন টু বুসান’ এর যাত্রী
    এনবিএস | Saturday, April 18th, 2020 | প্রকাশের সময়: 10:21 am

    প্রদোষকাল: আমরা এখন ‘ট্রেন টু বুসান’ এর যাত্রীপ্রদোষকাল: আমরা এখন ‘ট্রেন টু বুসান’ এর যাত্রী

    – মিলটন আহমেদ –

    ‘ট্রেন টু বুসান’- বিখ্যাত কোরিয়ান সিনেমা। বেশ কিছুদিন আগে সিনেমাটি দেখেছিলাম। প্রায় সবটুকু সিনেমা শেষ হয়েছে ট্রেনের ভেতরে। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো সিনেমা আতঙ্ক আর উত্তেজনায় ভরা। অজানা এক ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষ অন্যদের কামড়ে রক্ত খাচ্ছে। কামড়ের ফলে সুস্থ মানুষটিও আক্রান্ত হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর সে আবার অন্য সুস্থ মানুষের উপর হামলে পড়ছে রক্ত খাওয়ার জন্য। এভাবে একে একে ট্রেনের প্রায় সবগুলো মানুষ আক্রান্ত হয়। পুরো সিনেমায় আতঙ্কগ্রস্ত যাত্রীদের বেঁচে থাকার প্রাণপণ চেষ্টা আর হাউমাউ চিৎকারে যে আতঙ্ক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তাতে আমিও স্তব্ধ হয়ে এক নিঃশ্বাসে ছবিটি শেষ করেছি।

    আমরা সবাই এখন এমনই এক ট্রেনের যাত্রী। কোথায় গিয়ে থামবে এই ট্রেন, আমরা বুঝতে পারছি না। কতজন আমরা গন্তব্যে পৌঁছতে পারব জানি না। পরিবার, পরিজনের সঙ্গে শেষ দেখা হবে কিনা সেই আতঙ্ক আমাদের গ্রাস করছে দিনের পর দিন। গভীর রাতে বারান্দায় দাঁড়ালে দিনকয়েক আগেও দেখেছি দুধের মতো চাঁদের আলোয় থৈ থৈ করছে চারপাশ। সে আলোয় প্রতিদিন ভেবেছি- পরবর্তী দিন কোনো সুখবর শুনব। কোভিড নাইন্টিনে আক্রান্ত তালিকা অনেক ছোট হবে। আর কেউ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে না। কিন্তু পরদিন চিন্তার বিপরীত সংবাদ শুনতে হচ্ছে। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সবাই গৃহে বন্দি জীবনযাপন করছি। অজানা শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছি।

    আমি ঢাকা থাকি। অন্যত্র থাকেন আমার মা, ভাই। ওদের পরিবার নিয়েও দুশ্চিন্তার কালো মেঘ যেন প্রতিদিন গাঢ় হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৬ এপ্রিল সারাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ বলেছে। সরকার যথাসাধ্য ব্যবস্থা নিলেও আমরা যদি সতর্ক না হই তাহলে এই করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে পারব না। টিভিতে দেখলাম বাজার-ঘাটে প্রচুর মানুষ যাওয়া-আসা করছে। হয়তো তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয়ের তাগিদেই যাচ্ছে। কোথাও কোথাও স্বাভাবিকভাবেই লোকজন চলাফেরা করছে। কিন্তু এতো লোক সমাগম আর স্বাভাবিকতা যে বড় রকমের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বিষয়টি আমরা ক’জন উপলব্ধি করতে পারছি? সতর্কতার প্রতি আমাদের মনোযোগ কতখানি- বিষয়টি নিয়ে এখনো ভাবার সুযোগ আছে।

    মনে হচ্ছে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের সংযোগস্থলেই জীবন আটকে আছে। প্রতিদিন সময় কেটে যাচ্ছে চারকোণা ঘরের মধ্যে। সিনেমা দেখছি, বই পড়ছি। এভাবেই পেরিয়ে যাচ্ছে দিনগুলো। বছরখানেক আগে শওকত আলীর লেখা একটি উপন্যাস পড়েছিলাম- ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’। উপন্যাসটি বহুল পঠিত এবং কালজয়ী। উপন্যাসটির কথা মনে পড়তেই এই লেখার শিরোনাম ‘প্রদোষকাল’ রাখতে ইচ্ছে হলো। সেন রাজাদের হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে দেশ। তুর্কি আক্রমণ অতি সন্নিকটে। তবু সামন্ত–মহাসামন্তদের অত্যাচারের শেষ নেই। সেই অত্যাচার রুখে দাঁড়ায় কখনো কিছু যুবক, কখনো বৌদ্ধরা। শাসকদের বিশেষ রাগ, ক্ষোভ তাই তাদের উপরেই। আবার তাদেরই একজন প্রশ্ন করে– এই কি মানুষের জীবন? সুখ নেই, স্বস্তি নেই। কেবলই প্রাণ বাঁচানোর চিন্তা করতে হচ্ছে। এর শেষ কোথায়? এ জীবন কি যাপন করা যায়? কতদিনই বা এভাবে চলবে?

    আমাদেরও এই একই প্রশ্ন- এভাবে কতদিন চলবে? আমি থাকি মোহাম্মদপুর। ভরদুপুরে সাততলার বারান্দায় দাঁড়ালে মনটা খা খা করে ওঠে। কোথাও কোনো জনমানব আছে বলে মনে হয় না। ঠিক যেন ‘ট্রেন টু বুসান’ বা অন্য কোনো হরর সিনেমার মতো। 

    ঘর থেকে দু’ পা বের হলেই অজানা শঙ্কা খচখচ করে মনের ভেতরে। বাসার নিচে দু’চারদিনে একবার অন্তত নামতে হয় সবজি বা অন্যান্য টুকিটাকি জিনিস কেনার জন্য। টাকার আদান-প্রদান ভাইরাস ছড়ানোর বড় মাধ্যম। অথচ টাকার আদান-প্রদানই করছি আমরা হরদম। তাই শঙ্কাটা বেশি। কোথায়, কোন পকেটে বা মানিব্যাগে রাখলাম টাকা, কোন হাতে ধরলাম। এসবের প্রতিটি জায়গা আবার জীবাণুমুক্ত করার বিড়ম্বনা। দিন-রাতের ফারাক এখন শুধু আলো আর অন্ধকার। অফিস চলাকালে অফিস শেষে ব্যাডমিন্টন অথবা টেবিল টেনিস খেলে কিছুটা ঘাম ঝরালেও এখন সে সুযোগ একেবারেই নেই। শারীরিক পরিশ্রম একবারেই হচ্ছিল না। ফলে মনে হচ্ছিল ওজন বেড়ে যাচ্ছে। বিসিবির ট্রেইনার ইফতি ভাই কিছু ওয়ার্ক আউট প্ল্যান দিয়েছিলেন। ছাদে সেগুলো কিছু কিছু করছি। বিকালটা ছাদেই কাটে। আশেপাশের ছাদে পরিবার নিয়ে কেউ গাছের পরিচর্যা করে, কেউ ক্যারম খেলে, কেউ ঘুড়ি ওড়ায়। লাল, নীল, হলুদ আর বেগুনি ঘুড়িতে নীল আকাশটা রঙিন হয়ে যায়। আস্তে আস্তে ইট পাথরের আড়ালে সূর্য অস্ত যায় পশ্চিমাকাশে নানা রঙের আবির ছড়িয়ে।

    আলোকচিত্রী : মিলটন আহমেদ। রাইজিংবিডি ডট কম থেকে নেয়া…

    Follow and like us:
    0
    20

    আপনার মন্তব্য লিখুন...

    nbs24new3 © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    নিউজ ব্রডকাস্টিং সার্ভিস - এনবিএস
    ২০১৫ - ২০২০

    সিইও : আব্দুল্লাহ আল মাসুম
    সম্পাদক ও প্রকাশক : সুলতানা রাবিয়া
    চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান : মোঃ রাকিবুর রহমান
    -------------------------------------------
    শাল, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
    ফোন : +৮৮ ০২ , +৮৮ ০১৭১৮ ৫৮০ ৬৮৯
    Email : news@nbs24.org, thenews.nbs@gmail.com

    ইউএসএ অফিস: ৪১-১১, ২৮তম এভিনিউ, স্যুট # ১৫ (৪র্থ তলা), এস্টোরিয়া, নিউইর্য়ক-১১১০৩, 
    ইউনাইটেড স্টেইটস অব আমেরিকা। ফোন : ৯১৭-৩৯৬-৫৭০৫।

    প্রসেনজিৎ দাস, প্রধান সম্পাদক, ভারত।
    যোগাযোগ: সেন্ট্রাল রোড, টাউন প্রতাপগড়, আগরতলা, ত্রিপুরা, ভারত। ফোন +৯১৯৪০২১০৯১৪০।

    Home l About NBS l Contact the NBS l DMCA l Terms of use l Advertising Rate l Sitemap l Live TV l All Radio

    দেশি-বিদেশি দৈনিক পত্রিকা, সংবাদ সংস্থা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে সংগৃহিত এবং অনুবাদকৃত সংবাদসমূহ পাঠকদের জন্য সাব-এডিটরগণ সম্পাদনা করে
    সূত্রে ওই প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে প্রকাশ করে থাকেন। এ জাতীয় সংবাদগুলোর জন্য এনবিএস কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না।
    আমাদের নিজস্ব লেখা বা ছবি 'সূত্র এনবিএস' উল্লেখ করে প্রকাশ করতে পারবেন। - Privacy Policy l Terms of Use