ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৯ জুলাই, ২০২০ | ২৫ আষাঢ়, ১৪২৭ | ১৭ জিলক্বদ, ১৪৪১ | English Version | Our App BN | বাংলা কনভার্টার

  • Main Page প্রচ্ছদ
  • করোনাভাইরাস
  • বিদেশ
  • বাংলাদেশ
  • স্বদেশ
  • ভারত
  • অর্থনীতি
  • বিজ্ঞান
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ভিডিও ♦
  • ♦ আরও ♦
  • ♦ গুরুত্বপূর্ণ লিংক ♦
    • NBS » ২ শিরোনাম » সদস্য পদ শূণ্য হবে কুয়েতে গ্রেফতার স্বতন্ত্র সদস্য কুয়েতি নাগরিক হলে : প্রধানমন্ত্রী


    ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

    Breaking: ত্রুটিপূর্ণ নগরায়ণের ফলশ্রুতিতে করোনা ভাইরাস – Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal
    এনবিএস | Saturday, May 30th, 2020 | প্রকাশের সময়: 12:37 am

    Breaking: ত্রুটিপূর্ণ নগরায়ণের ফলশ্রুতিতে করোনা ভাইরাস – Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal

    অশোক ভট্টাচার্য : আমরা অতীতের পাতায় মহামারির দিকে তাকালে দেখব, প্লেগ, গুটিবসন্ত, কলেরা, ম্যালেরিয়া, এনসেফ্যালাইটিস, টাইফয়েড, পোলিও, নানা ধরনের কঠিন ইনফ্লুয়েঞ্জা, হাম এবং বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত বা মৃত্যুর সংখ্যা সবসময়ে সর্বাধিক হয় আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা বা দক্ষিণ এশিয়ার গরিব, পিছিয়ে পড়া বা উন্নয়নশীল দেশগুলিতে। ব্যতিক্রম ছিল ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু, যাতে উন্নত ইউরোপের দেশগুলিতে আক্রান্ত অনেক বেশি ছিল। সে সব রাষ্ট্রের তুলনায় উন্নয়নশীল দেশে মানুষের গড় আয়ু অনেক কম এবং শিশুমৃত্যুর হার অনেক বেশি। এমন এমন রোগে এই সমস্ত দেশে এখনও বহু মানুষের মৃত্যু হয়, যার অনেক ওষুধ রয়েছে, চিকিৎসা রয়েছে। এই সমস্ত রোগের চিকিৎসার ব্যয়ও বেশি নয়। ইউরোপ বা আমেরিকা মহাদেশের অনেক উন্নত দেশ স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির যত শতাংশ বা মাথাপিছু যত অর্থ ব্যয় করে, তার তুলনায় এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা তথা দক্ষিণ গোলার্ধের গরিব বা উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় অনেক কম। আবার এটাও দেখা যায়, শহর এলাকায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বা চিকিৎসার যতটা উন্নত সুবিধা আছে, গ্রামাঞ্চলে তা নেই। এইচআইভি জাতীয় রোগ প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা বিভিন্ন উন্নত দেশ যে পরিমাণ অর্থ খরচ করে, তার এক ভগ্নাংশ অর্থ খরচ করতে পারলে ডায়ারিয়া, টাইফয়েড, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গি, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া জাতীয় অসুখ থেকে সারা বিশ্বের কয়েক লক্ষ মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হত।

    একবিংশ শতাব্দী বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উন্নয়ন ও নগরায়ণের শতক। এই সময়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রভূত অগ্রগতি হয়েছে। তবু বহু দেশের অনেক মানুষকে আজও দুর্ভিক্ষে জর্জরিত হতে হয় বা থাকতে হয় অর্ধভুক্ত অবস্থায়। ভারতে জনস্বাস্থ্য খাতে ব্যয়বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ১.৫ শতাংশ। মাথাপিছু খরচ শুধু চিন নয়, দক্ষিণ এশিয়ার বা ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির তুলনায় অনেক কম। ভারতে আরেকটি বিষয়ও দেখা যাচ্ছে। তা হল, নগরায়ণ যত দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে, ততই শহরাঞ্চলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে সরকারি থেকে বেসরকারি ক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৯৬ সালে এই নির্ভরতা ছিল ৫৬.৯ শতাংশ। ২০০৪ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৬১.৮ শতাংশ। ২০১৪ সালে তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৬৮ শতাংশ। অন্যদিকে, সরকারি ক্ষেত্রে এই নির্ভরতা একই সময়ে হ্রাস পেয়ে হয়েছিল যথাক্রমে ৪৩.১, ৩৮.২ ও ৩২ শতাংশ। এবার করোনা ভাইরাসের কথা ভাবলে দেখতে পাব, যত উন্নত দেশ, রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যখাতে যে দেশের ব্যয় যত বেশি, যে সমস্ত দেশের নগরায়ণের হার উন্নয়নশীল দেশগুলি থেকে অধিক, সেই সমস্ত দেশেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, মৃত্যুর হারও অধিক। ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রদেয় তথ্যের ভিত্তিতে, ইউরোপ ও আমেরিকা মহাদেশের সবচাইতে উন্নত দেশগুলিতে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৪ ও ১২ লক্ষ। আবার ভূমধ্যসাগরীয় ও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে যথাক্রমে এই সংখ্যা ছিল ১.৮ ও ১.৪৬ লক্ষ।

    বাকি ৫২,০০০ আক্রান্ত হয়েছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা দক্ষিণ এশিয়ায়। অপেক্ষাকৃত কম আক্রান্ত দেশগুলি হল উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ। আফ্রিকা মহাদেশের মোট আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ২৩,২৫৪। এই দেশগুলি গরিব ও উন্নয়নশীল। প্রশ্ন হল, কোভিড-১৯ ভাইরাসে উন্নত বিশ্বের দেশগুলির বিপুল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত কেন? মৃত্যুর সংখ্যা কেনই বা লাগামহীন? বিশ্বের মানুষ যতটা না উদ্বিগ্ন করোনা ভাইরাস নিয়ে, তার থেকে বেশি চিন্তিত বিভিন্ন দেশের সামাজিক ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ ভেবে। নতুন করে আলোচনা দেখা দিচ্ছে পুঁজিবাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নগরায়ণকে শুধুমাত্র বাজারের দৃষ্টিতে না দেখে এর সামাজিক, মানবিক ও দীর্ঘস্থায়িত্বের প্রসঙ্গ নতুন করে সামনে আসছে। সামনে আসছে প্রকৃতি ও পরিবেশকে সুরক্ষিত রেখে ভারসাম্যমূলক উন্নয়নের ভাবনাও। পশ্চিমি দুনিয়ার উন্নয়ন ও নগরায়ণকে অন্ধভাবে অনুসরণ করার বিষয়টিও প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশ নিজস্ব ঐতিহ্যকে স্মরণে না রেখে, গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণকে গুরুত্ব না দিয়ে দেশের আর্থসামাজিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ না করে, শুধুমাত্র জোর দিচ্ছে উন্নয়নের গতির ওপর। এই গতি বৃদ্ধি করতেই চলছে প্রাকৃতিক সম্পদের নির্বিচারে ব্যবহার ও লুঠ। অবহেলিত হচ্ছে পরিবেশ ও সামাজিক দীর্ঘস্থায়িত্ব।

    এই গতি বৃদ্ধির একটি তথ্য হল, ১৯৭১ সালে বিশ্বে ৩০ কোটি মানুষ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন, ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয়েছিল ৪২০ কোটি। করোনা ভাইরাসের দাপটে ইতিমধ্যে সারা দুনিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্কের পরিবেশ। তার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে। সৃষ্টি হয়েছে পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাসের বাতাবরণ ও সামাজিক উৎকণ্ঠা। সবচাইতে বেশি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন পুঁজিবাদী অর্থনীতির ভবিষ্যৎ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে পুঁজিবাদী অর্থনীতি এখন অভিযুক্ত। গণতন্ত্রের নামে এমন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হচ্ছে, যার মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্রের স্বাদ, সমষ্টি উপভোগ করার সুযোগ পায় না। এই ব্যবস্থার মূল কথা, মুষ্টিমেয় নিয়ন্ত্রণকামী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মুনাফা অর্জনের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা ভোগ। এই ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দ্রুত নগরায়ণের পরিণতিকে সামনে রেখে, কিছু আলোচনার সূত্রপাত ঘটানোর প্রচেষ্টাতেই এই নিবন্ধ। বিংশ শতাব্দীর শেষের দিক থেকে, বিশেষ করে বর্তমান শতাব্দীর প্রথম থেকে বিশ্বে নগরায়ণ ও উন্নয়নের বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে বহু আলোচনা বা শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে শুরু করে। বিশেষ করে দ্রুত নগরায়ণকে ভারসাম্যমূলক নগরায়ণে পরিণত করার বিষয়টি প্রাধান্য পেতে শুরু করে। এই প্রেক্ষাপটেই ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও শহরে বসুন্ধরা সম্মেলনে টেকসই বা স্থিতিশীল উন্নয়নের কথা ঘোষিত হয়।

    চিন তার বাস্তুতান্ত্রিক সভ্যতার মধ্য দিয়ে একুশ শতকের নগরায়ণের প্রেক্ষিতে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পথে এগোনোর চেষ্টা করছে। এর উদ্দেশ্য হল, শুধু বর্তমানের স্বার্থে নয়, ভবিষ্যতের লক্ষ্যে নগরায়ণ ও উন্নয়ন। চিন নিয়ন্ত্রণহীন নগরায়ণকে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্যোগ নিচ্ছে। ভারতে আজও বিজ্ঞান ও বাস্তবসম্মত নগরায়ণের নীতি অনুপস্থিত। অন্যদিকে, ভারতে সবচাইতে দ্রুত ও বেশি হারে ধনসম্পদ কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। যার ফলে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে অসাম্য ও বৈষম্য। একে ভিত্তি করেই ভারতে নগরায়ণ হচ্ছে। ভারতে বাড়ছে বস্তিবাসীর সংখ্যা। কোভিড-১৯ সংক্রমণের প্রেক্ষিতে আরেকটি আলোচিত বিষয় হল, নয়া অর্থনীতির যুগে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সুযোগের প্রশ্ন। রাষ্ট্র ক্রমান্বয়ে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ব্যয় হ্রাস করছে। গড়ে উঠছে মুনাফাকেন্দ্রিক বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। অথচ যে কোনও রাষ্ট্রের অন্যতম বুনিয়াদি কাজ হল, স্বাস্থ্যের অধিকারকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। আবার সংক্রমণজনিত রোগের বিস্তার প্রতিহত করতে চাই বহুস্তরীয় বিস্তৃত, সরকারপোষিত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা। কিউবার উজ্জ্বল উদাহরণ এক্ষেত্রে বিবেচিত হওয়া উচিত। অথচ আমাদের দেশে জনস্বাস্থ্য খাতে খরচের পরিমাণ খুবই উদ্বেগজনক। শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল ইত্যাদি দেশের নীচে আমাদের অবস্থান।

    ভারত সহ উন্নয়নশীল দেশগুলির নগরায়ণ অনেকাংশেই অপরিকল্পিত এবং বাজার অভিমুখী। এছাড়া জীবিকার অনিশ্চয়তার কারণে গ্রাম বা ছোট ছোট শহর থেকে বড় শহরে স্থানান্তরিত হচ্ছেন বিপুল সংখ্যক অদক্ষ বা আংশিক দক্ষ শ্রমিক। ফলে বড় শহরের বস্তি এলাকায় কিংবা লাগোয়া অঞ্চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে জনবসতির ঘনত্ব। কিন্তু আধুনিক নগরজীবনের সুযোগসুবিধা থেকে এঁরা বঞ্চিত। নয়া উদারীকরণ অর্থনীতির অনুসারী আমাদের কেন্দ্রীয় সরকারের নগরায়ণের অভিমুখ বিপজ্জনক। স্মার্ট সিটি ইত্যাদি গালভরা প্রচারের আড়ালে আসলে হচ্ছে প্রসাধনী উন্নয়ন বা নগরায়ণ। শহরের কিছু উচ্চবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত বা এলিটদের প্রয়োজনকে মাথায় রেখে হচ্ছে উন্নয়ন পরিকল্পনা। সংখ্যাগরিষ্ঠ মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, বস্তিবাসীদের নিয়ে ভাবনার অবকাশ নেই। স্যানিটেশন, নিকাশি, জল সরবরাহ, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষার সুযোগ সহ পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সার্বিক উন্নয়নের দিশা নেই। কোভিড-১৯ সংক্রমণের পরিস্থিতিতে আমাদের আয়নার সামনে দাঁড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে, নগরায়ণ বর্তমান শতকের অনিবার্য প্রক্রিয়া। এর থেকে পালানোর পথ নেই। কিন্তু পুঁজিবাদী কাঠামোতে এই নগরায়ণ এখন করোনা মহামারির সামনে বেসামাল। সার্বিক, অংশগ্রহণমূলক, বিকেন্দ্রীকৃত, পরিবেশবান্ধব উপাদানের সমন্বয়ে নগরায়ণ প্রক্রিয়া, যা শুধুমাত্র বাজারতাড়িত, লোভ ও লাভের একছত্র আধিপত্য দ্বারা নির্ধারিত হবে না, এমন ব্যবস্থা নিয়ে আলাপ-আলোচনার আদর্শ সময় হল এখন। উন্নত দেশগুলি বেশি নগরায়ণের ফলে তুলনায় বেশি সংক্রামিত হয়েছে- এই সিদ্ধান্ত আসলে সরলীকৃত ও একপেশে। এর জন্য শুধু নগরায়ণকে দায়ী করে লাভ হবে না। আসল কারণ নিহিত আছে নগরায়ণ প্রক্রিয়ার অপরিণামদর্শী পদ্ধতিগত ত্রুটির মধ্যে।

    আমেরিকা বা ইউরোপের দেশগুলিতে অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে যেমন শিল্পায়নের সূত্রপাত ঘটেছিল, তেমনই একে কেন্দ্র করে নগরায়ণ প্রসারিত হতে শুরু করে। উৎপাদনভিত্তিক শিল্পকে কেন্দ্র করে যে রোজগারের শুরু হয়েছিল, সেই সময় তার ইতিবাচক ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে সেই শিল্পোৎপাদন ব্যবস্থা কৃষির উদ্বৃত্ত শ্রমশক্তিকে যুক্ত করতে পেরেছিল। যার ভারসাম্যমূলক প্রভাব পড়েছিল কৃষি ও শিল্প উভয়ক্ষেত্রেই। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বহু দেশে পুঁজিবাদী নগরায়ণের সূত্রপাত হয়েছিল। সোভিয়েত রাশিয়ায় আবার শুরু হয়েছিল সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নগরায়ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বহু দেশে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। তেমনই বহু সদ্য স্বাধীন দেশে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে শিল্পায়ন শুরু করেছিল। একবিংশ শতাব্দীর পুঁজিবাদ কিন্তু নব্য উদারীকরণ আর্থিক নীতিকে ভিত্তি করে বিকশিত হয়েছে, যার রোজগার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার ক্ষমতা খুব কম। এই অর্থনীতির পরিণতিতে যে কোনও উন্নত ধনতান্ত্রিক দেশে মোট গার্হস্থ্য উৎপাদনে কমছে উৎপাদনভিত্তিক শিল্প ও কৃষির অবদান। বৃদ্ধি পাচ্ছে পরিষেবা বা টার্শিয়ারি ক্ষেত্র। বাজার অর্থনীতিভিত্তিক নগরায়ণ প্রক্রিয়ায় শহরগুলি প্রসারিত হচ্ছে বাজারিকরণ বা পণ্যায়নের মাধ্যমে, যাতে স্বল্পসংখ্যক মানুষের হাতে আর্থিক ক্ষমতা ও সম্পদ কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। কোনও কোনও অর্থনীতিবিদ একে রেনসিকিং বলে থাকেন। পুঞ্জীভত হচ্ছে গ্রিন হাউস গ্যাস। এর প্রভাবে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। উন্নত দেশগুলির এই অতি উৎপাদন, অতিরিক্ত বিলাসবহুল জীবনযাপন, যানবাহন, খাদ্যাভ্যাস, বসবাস, জীবনযাত্রার পদ্ধতির পরিবর্তন, ভূমি বা ভূপৃষ্ঠের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, জীবাশ্ম জ্বালানি ও শক্তি নির্ভরতা, প্রকৃতি ও পরিবেশকে করে তুলছে অসুরক্ষিত। বাড়ছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সংখ্যা ও মাত্রা। তারই প্রভাব পড়ছে মানুষের দেহে।

    ফলে অভিযোজিত ও অভিব্যক্তিজনিত নিত্যনতুন ভাইরাসকে প্রতিহত করতে পারছে না মানবসমাজ। তাই করোনা ভাইরাস চিন দেশে উদ্ভূত বলা হয়ে প্রশ্ন ওঠে, ইউরোপ বা আমেরিকার অনেক উন্নত ও অতিরিক্ত নগরায়িত দেশে বিপুলসংখ্যক মৃত্যুমিছিল কেন? তুলনায় কম উন্নত দেশগুলিতে আক্রান্ত ও মৃত্যু অনেক কম কেন? দুটি ভাগের দেশের মধ্যে এই পার্থক্যই বা কেন? তাহলে নগরায়ণের মাত্রার সঙ্গে করোনা সংক্রমণের কোনও কার্যকারণ সম্পর্ক আছে কি? ভারতের ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, দিল্লি সহ অধিকমাত্রায় নগরায়িত রাজ্যগুলিতে তুলনামূলকভাবে করোনার প্রকোপ বেশি। পশ্চিমবঙ্গেও কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল, নগরায়ণের মাত্রা যেখানে বেশি, সেই সকল এলাকায় সংক্রমণের প্রভাব বেশি পড়েছে। বিশ্বজুড়ে দেখা যাচ্ছে, বহু রোগের নগরীকরণ হচ্ছে। করোনা ভাইরাসও নগরকেন্দ্রিক। তাই রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি, নগরায়ণ তথা উন্নয়ন প্রক্রিয়ার পদ্ধতিগত ত্রুটি-বিচ্যুতি শুধরে নেওয়ার উদ্যোগও আগামীদিনের স্বার্থে বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জরুরি।

    (লেখক শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান)

    Source link

    Follow and like us:
    0
    20

    আপনার মন্তব্য লিখুন...

    nbs24new3 © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    নিউজ ব্রডকাস্টিং সার্ভিস - এনবিএস
    ২০১৫ - ২০২০

    সিইও : আব্দুল্লাহ আল মাসুম
    সম্পাদক ও প্রকাশক : সুলতানা রাবিয়া
    চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান : মোঃ রাকিবুর রহমান
    -------------------------------------------
    শাল, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
    ফোন : +৮৮ ০২ , +৮৮ ০১৭১৮ ৫৮০ ৬৮৯
    Email : news@nbs24.org, thenews.nbs@gmail.com

    ইউএসএ অফিস: ৪১-১১, ২৮তম এভিনিউ, স্যুট # ১৫ (৪র্থ তলা), এস্টোরিয়া, নিউইর্য়ক-১১১০৩, 
    ইউনাইটেড স্টেইটস অব আমেরিকা। ফোন : ৯১৭-৩৯৬-৫৭০৫।

    প্রসেনজিৎ দাস, প্রধান সম্পাদক, ভারত।
    যোগাযোগ: সেন্ট্রাল রোড, টাউন প্রতাপগড়, আগরতলা, ত্রিপুরা, ভারত। ফোন +৯১৯৪০২১০৯১৪০।

    Home l About NBS l Contact the NBS l DMCA l Terms of use l Advertising Rate l Sitemap l Live TV l All Radio

    দেশি-বিদেশি দৈনিক পত্রিকা, সংবাদ সংস্থা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে সংগৃহিত এবং অনুবাদকৃত সংবাদসমূহ পাঠকদের জন্য সাব-এডিটরগণ সম্পাদনা করে
    সূত্রে ওই প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে প্রকাশ করে থাকেন। এ জাতীয় সংবাদগুলোর জন্য এনবিএস কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না।
    আমাদের নিজস্ব লেখা বা ছবি 'সূত্র এনবিএস' উল্লেখ করে প্রকাশ করতে পারবেন। - Privacy Policy l Terms of Use