ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৬ আগস্ট, ২০২০ | ২২ শ্রাবণ, ১৪২৭ | ১৫ জিলহজ্জ, ১৪৪১ | English Version | Our App BN | বাংলা কনভার্টার

  • Main Page প্রচ্ছদ
  • করোনাভাইরাস
  • বিদেশ
  • বাংলাদেশ
  • স্বদেশ
  • ভারত
  • অর্থনীতি
  • বিজ্ঞান
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ভিডিও ♦
  • ♦ আরও ♦
  • ♦ গুরুত্বপূর্ণ লিংক ♦
    • NBS » ৪ শিরোনাম » জাহেদানে গাড়ির পাশে একটি সাউন্ড বোমার বিস্ফোরণ হয়েছে : আইআরজিসি


    ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

    গল্প: ডেঞ্জেরাস মামাতো বোন (পর্ব ২৫) – Romantic Bangla story – বাংলা প্রেমের গল্প
    এনবিএস | Friday, July 31st, 2020 | প্রকাশের সময়: 7:14 pm

    গল্প: ডেঞ্জেরাস মামাতো বোন (পর্ব ২৫) – Romantic Bangla story – বাংলা প্রেমের গল্পগল্প: ডেঞ্জেরাস মামাতো বোন (পর্ব ২৫) – Romantic Bangla story – বাংলা প্রেমের গল্প

     

    আগের পর্ব গুলো পরতে ক্লিক করুন:–  পর্ব

    বাংলা ভূতের গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন

     

     

     

    পর্ব ২৫

     

    লেখক: এসএ শাহিন আলম

     

    হটাৎ আমার সামনে চোখ গেল। দেখি রিমি দাঁড়িয়ে আছে। চোখ দু'টো অগ্নিবর্ণ ধারণ করে। মনে হচ্ছে, রিমির চোখ দিয়ে আগুন বের হবে আর সেই আগুনে আমাকে পুড়িয়ে ছাই করে দিবে.!
    .
    আমি তাড়াতাড়ি তরী'কে ছেড়ে দিয়ে লম্বা ঢোক গিললাম। তরী রাগান্বিত স্বরে বলল,
    .
    — কি হলো, ছেড়ে দিলে কেন.? খুব তো আদর করতে চাইছিলে। (তরী)
    .
    আমি চোখ দিয়ে ইশারা করে তরী'কে পাশে তাকাতে বললাম। তরী পাশে তাকালো। রিমি'কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ঘাবড়ে গেল সে। রিমি চোখ-মুখ কালো করে ভাবলেশহীন ভাবে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম,
    .
    — রি… রি… রিমি তুই এখানে.? (আমি)
    .
    রিমি কিছু বলল না। ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছে, রিমির এই ফুটবল সাইজের চোখের মর্ধ্যে আমাকে ঢুকিয়ে ফেলবে। আমার কেন জানি মনে হলো, রিমি যদি অসুস্থ না থাকতো তাহলে নিশ্চিত সে আমাকে ইচ্ছামত পিটাতো। কারণ এমন পরিস্থিতির স্বীকার এর আগেও একবার হয়েছিলাম।
    .
    তখন আমি আর রিমি সবেমাত্র কলেছে উঠেছি। একদিন ক্লাসরুমে মজা করে রিমির একটা বান্ধবীর গালে চুমু দিয়েছিলাম। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত রিমি সেটা দেখে ফেলে। কি বলবো, রিমি এতটাই রেগে গিয়েছিল যে ওর হাতে থাকা কাটা কম্পাসের চোখা মাথাটা আমার মাথার ডানপাশে গেথে দিয়েছিল। মাথা অনেকটা কেটে গিয়েছিল। রক্ত ও বের হচ্ছিল খুব। তবুও রিমি ক্ষান্ত হয় নি। পুরো ক্লাসের সামনে আমাকে কানধরে উঠবস করিয়েছিল। এরপর সে যাত্রায় রিমির থেকে রেহাই পেয়েছিলাম।
    .
    পুরোনো দিনের কথাগুলো মনে হতেই আমার গা শিউরে উঠলো। না জানি আজ আমার কপালে কি লেখা আছে। তবে আজকেও হয়তো সবার সামনে কান ধরে উঠবস করতে হবে। আমার মনটা খারাপ হলো খুব। আমি ভ্যাবলা মার্কা হাসি দিয়ে মিনমিনে স্বরে রিমি'কে বললাম,
    .
    — এই অসুস্থ শরীর নিয়ে তুই এখানে এসেছিস কেন.? তোকে না রেস্ট নিতে বলেছিলাম। (আমি)
    .
    — তোদের দু'জনের চুম্মাচাটি দেখতে এলাম। রেস্ট নিলে তো এসব দেখতে পারতাম না। কি সৌভাগ্য আমার.! তোরা বিয়ের আগে এসব কি শুরু করেছিস বলতো। ছিঃ.! লজ্জা করে না তোদের.? হাসপাতালটাকে কি তোদের পার্ক মনে হয় যে যেখানে খুশি চিপায় চাপায় ঢুকে রোমান্স করবি.! আর তরী, তোমাকে তো ভাল মেয়ে ভেবেছিলাম। কিন্তু তুমিও তো দেখি শাহিনের চেয়ে কম না। শাহিন সেড় হলে তুমি সোয়া সেড়.! (রিমি)
    .
    — রিমি, তুমি যেমনটা ভাবছো সেরকম কিছুই না। আসলে আমরা একটু….??? (তরী)
    .
    তরী আর কিছু বলতে পারলো না। তার আগেই রিমি হাতের ইশারায় তরী'কে থামিয়ে দিল। তারপর ঝনঝনে গলায় বলে উঠল,
    .
    — থাক, কিছু বলতে হবে না আর। নিজের চোখেই সব দেখেছি.! আর তোরা কিস করা থামালি কেন.? আবার শুরু কর। নাকি আমি এসে তোদের বিরক্ত করলাম.? (রিমি)
    .
    — বিরক্ত তো হবোই। কাজের সময় এসে ডিস্টার্ব করলে বিরক্ত হওয়ার-ই কথা। (আমি)
    .
    রিমি আগুন চোখে আমার দিকে তাকালো। আমি জিহ্বায় কামড় দিয়ে অবুঝ শিশুর মত নিরীহ দৃষ্টিতে রিমির পানে তাকিয়ে রইলাম। রিমি দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
    .
    — সারাজীবন লুচ্চামি করে গেলি, মানুষ আর হলি না। (রিমি)
    .
    — তুই ও তো কম লুচ্চামি করিস না। নিজে করলে কিছু না, আমি করলেই যত দোষ। (বিরবির করে)
    .
    আমি কথাটা আস্তে বললেও রিমি মনে হয় কিছুটা শুনতে পেয়েছে। সে বাকা চোখে আমার দিকে একবার তাকিয়ে পরখ করে নিলো। তারপর দু'পা আমার কাছে এগিয়ে এসে ঝাঝালো গলায় বলল,
    .
    — কি বললি তুই.? (রিমি)
    .
    — কই, কিছু না তো। (ভয়ে ভয়ে)
    .
    — লুইচ্চা কোথাকার.! জীবনেও ভাল হবি না তুই। তোরা দু'জন জাহান্নামে যা। (রিমি)
    .
    কথাটা বলেই রিমি উল্টো দিকে হাটা দিলো। কিন্তু রিমি ঠিকভাবে হাটতে পারছে না। মনে হচ্ছে, হেলেদুলে পড়ে যাবে। আমি দৌঁড়ে গিয়ে রিমির হাত ধরলাম। রিমি এবার যেন তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলো। এক ঝটকায় নিজের হাত ছাড়িয়ে নিল। চোখ দু'টো সরু করে দাঁত কটমট করে বলল,
    .
    — একদম ধরবি না আমায়। ছাড় আমাকে… (রিমি)
    .
    — না ধরলে পরে যাবি তো। এই অসুস্থ শরীর নিয়ে কেউ হাঁটাহাঁটি করে.? (আমি)
    .
    — আহা, কি দরদ.! দরদ যেন উতলে পড়ছে। শোন, এসব লোকদেখানো দরদ দেখানো বাদ দিয়ে ওই রূপের ডালীর কাছে যা। তারপর দু'জন মিলে লটরপটর করেক গা.! (রিমি)
    .
    আমি রিমির কথায় কান না দিয়ে তাকে ধরে কেবিনে নিয়ে এলাম। রিমি খুব একটা বাঁধা দিল না। আমি রিমি'কে আস্তে করে বেডের উপর বসালাম। রিমি মুখটা ঘুটঘুটে অন্ধকার বানিয়ে বসে রইলো। আমি রিমির থুতনিতে হাত দিয়ে মুখ উচু করে বললাম,
    .
    — তরী'কে কিস করাতে তুই এত রেগে গিয়েছিস কেন.? আরে, তরী আমার হবু বউ.! আজ বাদে কাল আমার সাথে তার বিয়ে হবে। তাই একটু ওসব করছিলাম। এখানে এত রিয়েক্ট করার কি আছে বুঝলাম না। (আমি)
    .
    — ঠাসস…. (রিমি)
    .
    কথাগুলো বলা শেষ হতেই রিমি আমার গালে ঠাস করে চড় বসিয়ে দিল। আমি মোটেও অবাক হলাম না। জানতাম এমনটা হবে। তাই আগে থেকেই তৈরি হয়ে ছিলাম। তবে রিমি যে এত জোরে মারবে তা বুঝতে পারি নি। ইসস, অসুস্থ শরীর নিয়ে কি জোরে চড়'টাই না মারলো.!
    .
    আমি গালে হাত দিয়ে ভয়ার্ত চোখে রিমির দিকে তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে বিপদের দোয়া পড়ছি। রিমি চোখ গরম করে বলল,
    .
    — এত খারাপ কেন তুই.? কাল যদি কোন কারণে তরীর সাথে তোর বিয়ে না হয় তখন কি হবে.? আর আমি যদি সেখানে না যেতাম তাহলে তো সেখানেই উল্টাপাল্টা কাজ শুরু করে দিতি.! (রিমি)
    .
    — আরে না। আসল কাজটা বাসর রাতে করবো। তখন তো জাস্ট একটু রিহার্সাল করছিলাম। আর কে বলছে আমাদের বিয়ে হবে না.? ইচ্ছা করলে আজকেই তরী'কে বিয়ে করতো পারবো। শুধু তোর জন্য বিয়েটা আটকে আছে। আর তাছাড়া বিয়ের আগে এসব কাজ সবাই করে। কেউ কেউ তো রুমডেট পর্যন্ত করে ফেলে আর আমি তো মাত্র কিস করেছি। কিচ্ছু হবে না। (আমি)
    .
    — ছিঃ.! তোর মন-মানসিকতা এত খারাপ কেন.? এতবড় একটা অন্যায় করে বলছিস বিয়ের আগে এসব সবাই করে.! আমার ইচ্ছা করছে তোকে জুতা পিটা করি। (প্রচন্ড রেগে)
    .
    — আচ্ছা একটা কথা বল তো, তরী'কে কিস করাতে তোর এত জ্বলছে কেন.? এমন ভাব করছিস যেন আমি তোকে কিস করেছি। (আমি)
    .
    — আমার কেন জ্বলছে সেটা বুঝলে তুই কখনোই তরী'কে কিস করতি না। (রিমি)
    .
    — আমি বুঝতে পেরেছি। তোর ব্রেকআপ হয়েছে তাই আমার ভালবাসা সহ্য হচ্ছে না। (আমি)
    .
    — এটা ভালবাসা.? আরে তুই তো ভালবাসার নামে নষ্টামি করছিস.! (রিমি)
    .
    — কিসের নষ্টামির কথা বলছিস তুই.? আমি জোর করে তরীর সাথে ওসব করেছি নাকি.? আমাদের দু'জনেই এসবে মত ছিল। আর তরী নিজে থেকেই এসব শুরু করেছিল। আমার বাঁধা দিতে পারি নি। তাছাড়া ওই সময় কারো হুশ থাকে না। আর তরী যে পরিমাণ সেক্সি, পুরাই মাখন.! তাই আর কন্ট্রোল করতে পারি নি। ইসস.! তরী'কে যখন কিস করেছিলাম মনে হচ্ছিল আমি সাত রাজার ধন হাতে পেয়ে গেছি। কি নরম ঠোঁট, আস্তে করে টিপলেই মনে হয় রসের বন্যা বয়ে যাবে, তুলোর মত নরম গাল, মাখনের মত মসৃণ পেট.! বিশ্বাস কর আমি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। আমার ইচ্ছা করছিল……??? (আমি)
    .
    — চুপ কর তুই। আমি আর শুনতে পারছি না। (চিৎকার করে)
    .
    আমি আর কিছু বলতে পারলাম না। রিমি জোরে চিৎকার দিয়ে আমাকে থামিয়ে দিল। আমি দু'হাত দিয়ে গাল দু'টো চেপে ধরলাম। রিমি ভয়ংকর রাগী লুক নিয়ে আমার পানে তাকালো। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে রিমি আবার চড় মারবে। কিন্তু রিমি চড় মারলো না। আমার শার্টের কলার ধরে টেনে কাছে নিয়ে এলো। চোখ-মুখ পাথরের মত কঠিন বানিয়ে বলল,
    .
    — এসব তো রাস্তার ছেলেরা করে। তুই কি রাস্তার ছেলে.? নাকি তোর মা-বাবা তোকে কোন শিক্ষা দেয় নি.? (রিমি)
    .
    রিমির কথা শুনে আমারও এবার রাগ উঠে গেল। আমার মা-বাবা'কে নিয়ে কথা বলার রিমি কে.? আমি এসব কথা বলতে চাইছিলাম না কিন্তু এখন না বললেও হচ্ছে না। আমি রিমির থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বললাম,
    .
    — তাতে তোর কি.? আমি তরীর সাথে যা ইচ্ছা করবো। তুই আমাকে বাধা দেওয়ার কে রে.? আর যেভাবে আমাকে জ্ঞান দিচ্ছিস মনে হচ্ছে তুই ধোয়া তুলসি পাতা। (আমি)
    .
    — অবশ্যই। আমি তোর মত না যে এসব অকাজ-কুকাজ করে বেড়াবো। (রিমি)
    .
    — হুমম, তুই আমার মত না কিন্তু আমার চেয়েও বেশি খারাপ.! শোভনের সাথে কি কি করেছিস আমি সব জানি। (আমি)
    .
    আমার কথা শুনে রিমি যেন আকাশ থেকে পড়েছে এমন ভাব করলো। রিমি মাথাটা হেলিয়ে চোখ দু'টো ৯০ ডিগ্রি এঙ্গেলে ঘুরিয়ে অবাক হওয়ার ভান করে বলল,
    .
    — শোভনের সাথে কি করেছি আমি.? (রিমি)
    .
    — একটু আগে আমি যেটা তরীর সাথে করেছি সেটাই করেছিস। (আমি)
    .
    — লাত্থি দিয়ে কোমড় ভেঙে দিবো, কুত্তা। আমি শোভন'কে সামান্য আমার হাত'টাই ধরতে দেয় নি আর ওসব কিস করা তো দূরের কথা। (রেগে আগুন হয়ে)
    .
    — হাট মিথ্যাবাদী। তোর মত মেয়ে এসব না করে থাকতে পারে নাকি। আমার তো মনে হয়, শুধু কিস না, শোভনের সাথে রুমডেট পর্যন্ত করে ফেলেছিস। যে ধরিবাজ মেয়ে তুই.! (আমি)
    .
    কথাগুলো আমি মজা করে বললাম শুধু মাত্র রিমি'কে রাগানোর জন্য। কিন্তু রিমি যে এত পরিমাণে রেগে ভাবতে পারি নি।
    আমার কথাগুলো শুনে রিমি চোখ দু'টো বড় বড় করে আমার দিকে তাকালো। মনে হচ্ছে চোখ দিয়ে গিলে খাবে আমাকে। সেই সাথে সাপের মত ফোঁসফোঁস শব্দ করছে। এক্ষুণি হয়তো ছোবল মারবে। আমি মনভোলানো একটা হাসি দিলাম। যেন কিছুই জানি না।
    .
    এদিকে,
    রিমি আমার দিকে কিছুক্ষণ বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে থেকে সজোরে আমার পিছনে লাথি মারলো। আমি তাল সামলাতে না পেরে বেডে থেকে হুমড়ি খেয়ে ফ্লোরে পড়ে গেলাম। কোমড়ে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করলাম। আমি কোমড় ধরে কোনমতে উঠে দাঁড়ালাম।
    .
    প্রচন্ড রাগ উঠলো আমার। আমি রিমি'কে মারতে যাবো তখন দেখি মা আর তরী আসলো। আমাকে দেখেই মা বলল,
    .
    — কিরে, হাসপাতালে এসেও কি তোরা ঝগড়া করা বন্ধ করবি না.? সবসময় ছোট বাচ্চাদের মত ঝগড়া করিস কেন.? (মা)
    .
    — ঝগড়া রিমি আগে শুরু করেছে। (আমি)
    .
    — তাহলে কি নিয়ে ঝগড়া শুরু করেছি সেটাও
    বলে দে। (রিমি)
    .
    — থাক আর ঝগড়ার কারণ শোনাতে হবে না। তোরা তো কারণ ছাড়াই ঝগড়া করিস। (মা)
    .
    কথাটা বলে মা আমার দিকে তাকালো। তারপর পাশে রাখা খাবারের প্লেট'টা আমার হাতে দিয়ে বলল,
    .
    — রিমি সকাল থেকে না খেয়ে আছে। এত চেষ্টা করেও কিছু খাওয়াতে পারলাম না। তুই ওকে একটু খাইয়ে দে তো। না খেলে আবার শরীর খারাপ করবে। এমনিতেই শরীরের অবস্থা ভাল না। (মা)
    .
    — কেন, মহারানীর নিজের হাত নেই নাকি.? নিজে তুলে খেতে পারে না.? (আমি)
    .
    — তুই তুলে খাওয়ালে কি সমস্যা.? রিমি তোর হাতে ছাড়া খাবে না। (মা)
    .
    — না খেলে নাই। আমি ওর চাকর না যে খেদমত করতে হবে। (আমি)
    .
    — থাক, কাউকে খাওয়াতে হবে না। আমি নিজেই খেতে পারবো। (রিমি)
    .
    রিমি মুখ ভার করে কথাটা বলল। তারপর মা'র হাত থেকে খাবারের প্লেট'টা নিয়ে খাওয়া শুরু করলো।
    .
    — কারো ঝাঁঝ কম না। (মা)
    .
    বলেই মা চলে গেল। আমি রিমির পাশে গিয়ে বসলাম। রিমি খাবার খাচ্ছে কম গুনছে বেশি। একটা একটা করে দানা মুখে দিচ্ছে। রিমি অসুস্থ হলে এমন-ই করে, একদম খেতে চায় না। তখন জোর করে তাকে তুলে খাওয়াতে হয়। সেটাও আমার হাতে। না হলে সারাদিন না খেয়ে কাটিয়ে দিবে। বড্ড জেদি মেয়ে। সামান্য সর্দি লাগলেই রিমির বাহানা শুরু হয়ে যায়। আমার হাতে খাওয়ার জন্য বায়না ধরে। ছোটবেলার অভ্যাস তাই আমিও ছাড়তে পারি না।
    .
    আমি রিমির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে প্লেট'টা ছিনিয়ে নিলাম। ভাত মাখাতে মাখাতে বললাম,
    .
    — হা কর, খাইয়ে দিচ্ছি। (আমি)
    .
    — লাগবে না, আমার হাত আছে। (অভিমানি গলায়)
    .
    — ঢং বাদ দে। আমি না খাইয়ে দিলে এই কয়টা ভাত খেতে ১ সপ্তাহ লাগাবি। নে হা কর… (আমি)
    .
    রিমি হা করলো। আমি রিমির মুখে খাবার পুরে দিতেই রিমি আমার আঙুলে কামড় বসিয়ে দিল। আমি ব্যথায় ককিয়ে উঠলাম। রাগী গলায় রিমি'কে বললাম,
    .
    — কামড় দিলি কেন.? (আমি)
    .
    — প্রতিশোধ নিলাম। আর যদি কখনো আমার সাথে লাগতে আসিস তাহলে সত্যি সত্যি কোমড় ভেঙে দিবো। (রিমি)
    .
    — ধ্যাত, আর খাওয়াবই না তোকে। (আমি)
    .
    — না খাওয়ালে তোকে খেয়ে ফেলবো। আমার খুব ক্ষিদে লেগেছে, চুপচাপ খাওয়া। (রিমি)
    .
    আমি আর কিছু না বলে রিমি'কে খাওয়াতে লাগলাম। হটাৎ আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তরীর দিকে চোখ গেল। দেখি, তরী আমাদের দিকে কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে। কোন হেলদুল নেই। আমি গলা খাকড়ি দিয়ে তরী'কে বললাম,
    .
    — এভাবে তাকিয়ে কি দেখছো.? (আমি)
    .
    — কিছু না। একটা কথা ভাবছিলাম। (তরী)
    .
    — কি কথা.? (আমি)
    .
    — তোমাদের দু'জনের ব্যবহার দেখে মনে হয় না তোমরা ভাই বোন। বাইরের কেউ তোমাদের দেখলে ভাববে তোমরা স্বামী-স্ত্রী.! (তরী)
    .
    তরীর কথা শুনে হুট করে মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল। সকালবেলা ডাক্তার ও একই কথা বলেছিল। আমি রাগী স্বরে বললাম,
    .
    — মাথা খারাপ নাকি.? মানুষ খামোখা আমাদের স্বামী-স্ত্রী ভাবতে যাবে কেন.? তাছাড়া কোন এ্যাঙ্গেল থেকে আমাদের স্বামী-স্ত্রী মনে হয় বলো তো। যত্তসব আলতু ফালতু কথাবার্তা। (আমি)
    .
    — আরে, রেগে যাচ্ছো কেন.? আমি মজা করে বললাম। (তরী)
    .
    — এসব মজা আমার সাথে আর করবে না বলে দিলাম। (আমি)
    .
    — আচ্ছা বাবা, স্যরি.! (তরী)
    .
    আমার রাগ কমানোর জন্য তরী মিষ্টি করে হাসি দিল। পাশ থেকে রিমি বলল,
    .
    — তরী, তোমাকে একটা কথা বলি.? (রিমি)
    .
    — হুমম, বলো। (তরী)
    .
    — আমার কেন জানি মনে হচ্ছে তোমার আর শাহিনের বিয়েটা হবে না। (রিমি)
    .
    রিমির কথা শুনে আমরা দু'জনেই চমকে উঠলাম। তরীর মার্বেলের মত ছোট ছোট সাইজের চোখ দু'টো ইয়া বড় বড় হয়ে গেল। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে তরীর হাসি মুখটা চুপসে গেছে। তরী কিছু সময় আমার দিকে তাকিয়ে থেকে উত্তেজিত গলায় রিমি'কে বলল,
    .
    — কেন.? আমাদের বিয়ে হবে না কেন.? (তরী)
    .
    তরীর এমন সিরিয়াস অবস্থা দেখে রিমি হেসে দিল।
    হাসতে হাসতে বলল,
    .
    — আরে আমি মজা করছিলাম। ভয় পেও না। (রিমি)
    .
    — তুমি তো আমাকে মেরেই ফেলেছিলে। এভাবে কেউ মজা করে নাকি.? শয়তান মেয়ে.! (তরী)
    .
    রিমি আর তরী এবার একসাথে হেসে উঠলো। কিন্তু আমার মনে এক অজানা ভয় কাজ করছে।
    কেন জানি মনে হচ্ছে, বিয়েতে রিমি বড়সড় কোন অঘটন ঘটাবে.! যেটার জন্য হয়তো সবকিছু ওলট-পালট হয়ে যাবে.!

    দেখতে দেখতে ৭ দিন কেটে গেল। এই ৭ দিন রিমি হাসপাতালেই ছিল। আজ সকালে তাকে বাড়ি নিয়ে এসেছি। এখন রিমি পুরোপুরি সুস্থ। অবশ্য রিমির সুস্থ হওয়ার পেছনে আমার অবদান ও কম ছিল না।
    .
    রিমির সাথে ৭ দিন আমাকেও হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। নিয়ম করে রিমি'কে খাওয়াতে হয়েছে, হাসপাতালে বারান্দায় হাত ধরে হাটিয়েছি, রাতে রিমির মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়েছি। মোট কথা এই কয়দিনে রিমি আমাকে নার্স বানিয়ে ফেলেছিল। তাতে অবশ্য আমার কোন আক্ষেপ নেই। রিমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠেছে এতেই অনেক.!
    .
    রাতে সবাই মিলে একসাথে খেতে বসলাম। মনে হচ্ছে, না জানি কতদিন পর একসাথে খেতে বসেছি। পরিবারের একটা মাত্র সদস্য অসুস্থ ছিল তাতেই সবকিছু ওলট-পালট হয়ে গিয়েছিল।
    মা আমাদের খাবার বেড়ে দিল। আমরা খাওয়া শুরু করলাম। খেতে খেতে বাবা বলল,
    .
    — শাহিন, ১ সপ্তাহের মর্ধ্যে তোর আর তরীর বিয়েটা সেরে ফেলতে চাচ্ছি। তরীর বাবা দেরি করতে চাইছে না। কাল বিকালে তরী'কে আঙটি পড়াতে যাব এবং সামনে শুক্রবারে তোদের বিয়ে.! (বাবা)

     

    চলবে….. ??????

     

    পরের পর্ব গুলো পরতে nbs24.org সাথেই থাকুন 

     

    পর্ব ২৬ পরতে এখানে ক্লিক করুন  – পর্ব ২৬ 

    বাংলা ভূতের গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন

      

    Follow and like us:
    0
    20

    আপনার মন্তব্য লিখুন...

    nbs24new3 © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    নিউজ ব্রডকাস্টিং সার্ভিস - এনবিএস
    ২০১৫ - ২০২০

    সিইও : আব্দুল্লাহ আল মাসুম
    সম্পাদক ও প্রকাশক : সুলতানা রাবিয়া
    চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান : মোঃ রাকিবুর রহমান
    -------------------------------------------
    শাল, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
    ফোন : +৮৮ ০২ , +৮৮ ০১৭১৮ ৫৮০ ৬৮৯
    Email : news@nbs24.org, thenews.nbs@gmail.com

    ইউএসএ অফিস: ৪১-১১, ২৮তম এভিনিউ, স্যুট # ১৫ (৪র্থ তলা), এস্টোরিয়া, নিউইর্য়ক-১১১০৩, 
    ইউনাইটেড স্টেইটস অব আমেরিকা। ফোন : ৯১৭-৩৯৬-৫৭০৫।

    প্রসেনজিৎ দাস, প্রধান সম্পাদক, ভারত।
    যোগাযোগ: সেন্ট্রাল রোড, টাউন প্রতাপগড়, আগরতলা, ত্রিপুরা, ভারত। ফোন +৯১৯৪০২১০৯১৪০।

    Home l About NBS l Contact the NBS l DMCA l Terms of use l Advertising Rate l Sitemap l Live TV l All Radio

    দেশি-বিদেশি দৈনিক পত্রিকা, সংবাদ সংস্থা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে সংগৃহিত এবং অনুবাদকৃত সংবাদসমূহ পাঠকদের জন্য সাব-এডিটরগণ সম্পাদনা করে
    সূত্রে ওই প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে প্রকাশ করে থাকেন। এ জাতীয় সংবাদগুলোর জন্য এনবিএস কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না।
    আমাদের নিজস্ব লেখা বা ছবি 'সূত্র এনবিএস' উল্লেখ করে প্রকাশ করতে পারবেন। - Privacy Policy l Terms of Use