ঢাকা | শনিবার | ৬ মার্চ, ২০২১ | ২১ ফাল্গুন, ১৪২৭ | ২১ রজব, ১৪৪২ | English Version | Our App BN | বাংলা কনভার্টার
  • Main Page প্রচ্ছদ
  • করোনাভাইরাস
  • বিদেশ
  • বাংলাদেশ
  • স্বদেশ
  • ভারত
  • অর্থনীতি
  • বিজ্ঞান
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ভিডিও ♦
  • ♦ আরও ♦
  • ♦ গুরুত্বপূর্ণ লিংক ♦
    • NBS » ৪ শিরোনাম » পশ্চিমবঙ্গে বোমা বিস্ফোরণে মন্ত্রীসহ আহত ২৬, ‘হত্যার ষড়যন্ত্র’ বললেন মমতা


    ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

    নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু : বীর বিপ্লবী 
    এনবিএস | Saturday, January 23rd, 2021 | প্রকাশের সময়: 10:53 pm

    নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু : বীর বিপ্লবী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু : বীর বিপ্লবী 

    ।। এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।।

    অনলাইন ডেস্ক-  বৃটিশ বিরোধী ভারতীয় আজাদী আন্দোলনের সূর্যসৈনিক, প্রখ্যাত বিপ্লবী রাজনীতিবিদ সুভাষচন্দ্র বসু যার পরিচিতি ‘নেতাজী’ নামে। ভারতীয় রাজনীতিতে বামপন্থী ধারার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই নেতা বিখ্যাত রাজনৈতিক দল ‘ফরওয়ার্ড ব্লক’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন চোখে, মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অংশ নিয়েছিলেন সশস্ত্র বিপ্লবে। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ভারতীয় ইতিহাসে এক আবেগের নাম। সবাইকে নিয়ে চলার মন্ত্র তিনি আয়ত্ত করতে পেরেছিলেন বলেই আজও কোটি কোটি মানুষের প্রেরণা তিনি। ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ তাঁর ১২৪তম জন্মবার্ষিকী।

    সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম ১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি বাবা জানকীনাথ বসুর কর্মস্থল কটকে। বাবা ছিলেন আইনজীবী জানকীনাথ বসু ও মা প্রভাবতী দেবী। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী। ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হলেও ইংরেজদের অধীনে সেই চাকরিতে যোগ দেন নাই। তাঁর মূল্যবোধের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল একইসাথে জাতীয়তাবাদী ও সমাজতান্ত্রিক চেতনায়। রাজনৈতিক জীবনে নেতাজীর প্রেরণা ছিল দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ। স্বামী বিবেকানন্দ এবং শ্রী অরবিন্দের চিন্তাধারায়ও প্রভাবিত ছিলেন তিনি। ১৯২৮ সালে সুভাষচন্দ্র ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সম্পাদক এবং ১৯৩০ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার লক্ষ্যে তিনি ছিলেন আপোষহীন। মাহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতিতে সমর্থন ছিল না তাঁর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অক্ষশক্তির সাহায্যে আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন সুভাষ। 

    ১৯৪৩ সালে তাঁর নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ সরকার গঠিত হয় এবং এই ফৌজ নিয়েই তিনি সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হন। আজাদ হিন্দ ফৌজের সদর দফতর ছিল তদানীন্তন রেঙ্গুনে। দুঃসাহসী, নির্ভিক, মহান এই দেশপ্রেমিকের নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ ফৌজ ব্রিটিশদের পরাজিত করে ইম্ফল ও কোহিমায় দুটি বিমান ঘাঁটি দখল করে নেয়। দেশের স্বাধীনতার লক্ষ্যে আজীবন সংগ্রামী সুভাষচন্দ্র বসু একাধিকবার জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। তবু তিনি তাঁর আদর্শ থেকে সরে আসেন নি। ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট ফরমোজার তাইহুকু বিমান বন্দরে এক বিমান দুর্ঘটনায় সুভাষচন্দ্র বসু নিহত হন বলে প্রচারিত। ‘অ্যান ইন্ডিয়ান পিলগ্রিম’ নামে একখানা আত্মজীবনী লিখছিলেন তিনি। সেটি অসমাপ্ত থেকে যায়। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘তরুণের স্বপ্ন’।

    নেতাজিকে যিনি পূর্ণ স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত করেছিলেন তিনি হচ্ছেন মৌলানা ওবায়দুল্লা সিন্ধি, ঐতিহাসিক সুপ্রকাশ রায় যাঁকে 'ওবেদুল্লা' বলেছেন। তিনি সুভাষ চন্দ্র বসুকে ভারতের বাইরে নানা নামে পাঠিয়েছিলেন। তিনিই সুভাষ বসুর নাম দিয়েছিলেন মাওলানা জিয়াউদ্দিন। ওই বিখ্যাত বিপ্লবী মাওলানাকে (নেতাজি সুভাষকে) যখন ভারত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল তখন সেই বিপজ্জনক সময়ের মধ্যে তিনি জার্মানি, জাপান, ফ্রান্স, কাবুল প্রভৃতি স্থানে এমন কায়দায় সংগঠন করে এসেছিলেন যাতে পরবর্তীকালে প্রতিনিধি হিসেবে অন‍্যের যাওয়া সহজ হয়‌। তাছাড়া প্রত‍্যেকটি জায়গায় শিষ্য ও বন্ধু সৃষ্টি করে ভারতের স্বাধীনতার সাহায্য-সোপান সৃষ্টি করে এসেছিলেন। সেখানে যাঁদের সঙ্গে আলাপ করেছিলেন এবং যাঁদের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি আদায় করেছিলেন তাঁরা বেশিরভাগই ছিলেন রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক কর্মী। সুভাষ বসু ওরফে মাওলানা জিয়াউদ্দীন নামক বাঙালিকে ইতিহাসে যদিও অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে স্থান দেওয়ানো হয়েছে কিন্তু সুভাষের নেতা অর্থাত্‍ নেতাজির নেতা মাওলানা ওবায়দুল্লাকে আমাদের বর্তমান ও ভাবী সন্তানরা যে কী করে চিনবে তার কোনো উপায় রাখা হয়নি। 

    নেতাজির মৃত্যু আজও রহস্যাবৃত। তবে কর্নেলের মতো কয়েকজনের স্মৃতিতে অমলিন ছিলেন তিনি। সদা জাগ্রত ছিল নেতাজির আদর্শ। যা তিনি বরাবর ছড়িয়ে দিয়েছেন তার উত্তরসূরিদের মধ্যেও।

    নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু নামের মধ্যেই জড়িয়ে রয়েছে এক বুক চাপা আবেগ। সাহসী বীর এই বাঙ্গালিসন্তানকে ঘিরে যে সমস্ত অধ্যায় লেখা হয়েছে তার একাংশে যেমন যুদ্ধের দামামার শব্দ রয়েছে, তেমনই তার অন্য অংশে রয়েছে রহস্যের মেঘ। এই দুইয়ের মিলিত স্রোতের নেতাজি বাঙালির কাছে এক যুগ পুরুষের নাম হয়ে উঠেছেন। যাঁর জীবনের বিভিন্ন দিক চলার পথের প্রত্যেকটি দিনের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। সততা ও অনুপ্রেরণা যুব সমাজ যখন বিভ্রান্ত হয়ে ওঠে সৎ- অসৎ পথ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে, তখন নেতাজির একটি বাণী অত্যন্ত উপযোগী। 

    নেতাজি বলেন, 'নিজের প্রতি সত্য হলে বিশ্বমানবের প্রতি কেউ অসত্য হতে পারে না ' বেঁচে থাকা আর টিকে থাকার মধ্যে পার্থক্য জীবন সংগ্রামে বেঁচে থাকা আর শুধুমাত্র টিকে থাকার মধ্যে বেশ খানিকটা পার্থক্য আছে। আর সেই পার্থক্য আরও স্পষ্ট করে দেয় সুভাষ চন্দ্রের এই বাণী,' মানুষ যতদিন বেপরোয়া, ততদিন সে প্রাণবন্ত '। ভাবাদর্শ সম্পর্কে নেতাজির বক্তব্য কোন রাস্তাকে একজন বেছে নেবে জীবনের বড়পদক্ষেপে নেওয়ার ক্ষেত্রে? উত্তর মিলছে, নেতাজির এই বক্তব্যে। তিনি বলেন ' জগতের সব কিছু ক্ষণভঙ্গুর। শুধু একটা জিনিস ভাঙে না, সে বস্তু, ভাব বা আদর্শ '। 

    স্বাধীনতা ও নেতাজির বক্তব্য শুধুমাত্র দেশের স্বাধীনতা নয় , স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার গুরুত্বও বারবার তুলে ধরেছেন নেতাজি। আর সেই মর্মেই সুভাষ বোস বলেন, 'স্বাধীনতা দেওয়া হয়না, ছিনিয়ে নিতে হয়।' আর দেশের সংগ্রামের নিরিখে তাঁর বার্তা ছিল, 'তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব'। 

    অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ নয়.. আগাগোড়া সততার রাস্তায় চলা, নির্ভীক জীবনযাপনে অভ্যস্ত নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু বহুবার বলেছেন, 'মনে রাখতে হবে যে সবচেয়ে বড় অপরাধ হল অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ।' লড়াই নিয়ে বার্তা কোনপথে লড়াই করা যাবে? উত্তর এসেছে নেতাজির এই বাণী থেকে.. 'ভারত ডাকছে। রক্ত ডাক দিয়েছে রক্তকে। উঠে দাঁড়াও আমাদের নষ্ট করার মতো সময় নেই। অস্ত্র তোলো!….যদি ভগবান চান , তাহলে আমরা শহিদের মৃত্যু বরণ করব।' 

    ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে একটা অন্য ধারার প্রবক্তা সুভাষচন্দ্র বসু শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন না। কলকাতা পৌরসভার মেয়র থেকে জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সব ক্ষেত্রেই তিনি কম বয়সে তার নিজস্ব চিন্তাধারার প্রমাণ রেখেছিলেন। তাঁর ঐতিহাসিক আহ্বান “আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব” বাঙালিকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তাঁর যে আদর্শ, যে ধ্যানধারণা তিনি ভবিষ্যতের জন্য রেখে গিয়েছিলেন, সেখানেও তাঁকে আমরা একজন শ্রেষ্ঠ বাঙালি চিন্তাবিদ বলে গ্রহণ করতে পারি। 

    সুভাষ চন্দ্র বসুর মৃত্যুকে ঘিরে আজও রয়ে গেছে একটা রহস্য। তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলো নিয়ে আজও বিতর্কের শেষ হয়নি।

    তার ১২৪তম জন্মবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা। 

    [লেখক : কলাম লেখক ও রাজনীতিক, মহাসচিব, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ও আহ্বায়ক, জাতীয় কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন]


    আপনার মন্তব্য লিখুন...

    nbs24new3 © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    নিউজ ব্রডকাস্টিং সার্ভিস - এনবিএস
    ২০১৫ - ২০২০

    সিইও : আব্দুল্লাহ আল মাসুম
    সম্পাদক ও প্রকাশক : সুলতানা রাবিয়া
    চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান : মোঃ রাকিবুর রহমান
    -------------------------------------------
    বংশাল, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
    ফোন : +৮৮ ০১৭১৮ ৫৮০ ৬৮৯
    Email : [email protected], [email protected]

    ইউএসএ অফিস: ৪১-১১, ২৮তম এভিনিউ, স্যুট # ১৫ (৪র্থ তলা), এস্টোরিয়া, নিউইর্য়ক-১১১০৩, 
    ইউনাইটেড স্টেইটস অব আমেরিকা। ফোন : ৯১৭-৩৯৬-৫৭০৫।

    প্রসেনজিৎ দাস, প্রধান সম্পাদক, ভারত।
    যোগাযোগ: সেন্ট্রাল রোড, টাউন প্রতাপগড়, আগরতলা, ত্রিপুরা, ভারত। ফোন +৯১৯৪০২১০৯১৪০।

    Home l About NBS l Contact the NBS l DMCA l Terms of use l Advertising Rate l Sitemap l Live TV l All Radio

    দেশি-বিদেশি দৈনিক পত্রিকা, সংবাদ সংস্থা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে সংগৃহিত এবং অনুবাদকৃত সংবাদসমূহ পাঠকদের জন্য সাব-এডিটরগণ সম্পাদনা করে
    সূত্রে ওই প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে প্রকাশ করে থাকেন। এ জাতীয় সংবাদগুলোর জন্য এনবিএস কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না।
    আমাদের নিজস্ব লেখা বা ছবি 'সূত্র এনবিএস' উল্লেখ করে প্রকাশ করতে পারবেন। - Privacy Policy l Terms of Use