ঢাকা, শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন
বিতর্কিত সীমান্ত থেকে রক্ষী সরাবে অসম-নাগাল্যান্ড, সিদ্ধান্ত মুখ্যসচিবদের বৈঠকে
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

কিছুদিন আগেই অসম-মিজোরাম সীমান্তে সংঘর্ষে অসম পুলিশের ছয় কর্মী নিহত হয়েছেন। কিন্তু শনিবার অসম-নাগাল্যান্ড সীমান্তে দেখা গেল অন্য দৃশ্য। দুই রাজ্যই এদিন স্থির করেছে, পারস্পরিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সীমান্তের বিতর্কিত দেসসোই অভয়ারণ্য থেকে রক্ষী সরিয়ে নেবে। অসমের মুখ্যসচিব জিষ্ণু বড়ুয়া এদিন ডিমাপুরে নাগাল্যান্ডের মুখ্যসচিব জে আলমের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানেই বিতর্কিত সীমান্ত সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিওকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

টুইট করে হিমন্ত বলেন, “দুই রাজ্যের সম্পর্ক ভাল করার জন্য ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সীমান্তে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য নেইফিউ রিওকে অভিনন্দন জানাই। অসম সীমান্তে শান্তি চায়। সামগ্রিকভাবে উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতিই তার কাম্য।”

দুই রাজ্যের মুখ্যসচিবের সই করা একটি নোটও টুইটারে আপলোড করেছেন হিমন্ত। তাতে বলা হয়েছে, দেসসোই অভয়ারণ্য তথা সুরাংকোং উপত্যকায় উত্তেজনা কমানোর জন্যই এদিন বৈঠক হয়েছে। নাগাল্যান্ডে যে অঞ্চলটি আও সেনদেন গ্রাম এবং ভিকুটু গ্রাম নামে পরিচিত, অসম তাকে বলে জানখোনা নালা এবং নাগাজানখা। সেখানে দুই রাজ্যের রক্ষীরা রয়েছেন। অসম ও নাগাল্যান্ড স্থির করেছে, তাঁদের বেস ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনা হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সরতে শুরু করবেন রক্ষীরা। বিতর্কিত অঞ্চলের ওপরে আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল ও উপগ্রহ থেকে নজর রাখা হবে।

পাঁচটি জেলায় অসম ও নাগাল্যান্ডের সীমান্ত রয়েছে। অসমের জেলাগুলির নাম হল চারাইদেও, শিবসাগর, জোরহাট, গোলাঘাট এবং কার্বি আংলং। গত মে মাসে অসমের তৎকালীন কংগ্রেস বিধায়ক রূপজ্যোতি কুমারী ও তাঁর দেহরক্ষীরা দেসসোই অভয়ারণ্যে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। রূপজ্যোতি পরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি দেখতে গিয়েছিলেন, দেসসোই অভয়ারণ্যের কতখানি নাগাল্যান্ড ‘জবরদখল’ করেছে।

অসম ও মিজোরামের দ্বন্দ্ব আরও গুরুতর রূপ নিতে চলেছে। এদিন মিজোরামের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন মেঘালয়ের বিজেপি মন্ত্রী। মেঘালয়ের শ্রমমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সানবর শুল্লাই এদিন বলেন, আন্তঃরাজ্য সীমান্ত ‘শত্রুর’ হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আমরাও পুলিশ মোতায়েন করব।

পরে সানবর বলেন, মিজোরামের পুলিশ ও জনগণ প্রমাণ করেছেন, তাঁরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মন্ত্রীর দাবি, মেঘালয়ের মানুষও পুলিশের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ। যদি আন্তঃরাজ্য সীমান্তে অসমের মানুষ মেঘালয়ের বাসিন্দাদের হয়রান করতে থাকে, তাহলে আমরা কেবল চায়ের টেবিলে বসে আলোচনা করব না। আমরা প্রতিক্রয়া জানাব। ঘটনাস্থলেই আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।

মিজোরামের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এভাবেই শক্তিপ্রয়োগ করে নিজেদের লোকজনকে রক্ষা করতে হয়। আমাদের পুলিশেরই সবার আগে গিয়ে অসম পুলিশের সঙ্গে কথা বলা উচিত। আমরা অনেক সময় দেখেছি, সাধারণ মানুষকে এগিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ থাকে পিছনে। প্রশাসনের কর্তাদের উচিত, পুলিশকে সকলের আগে থাকতে বলা । খবর দ্য ওয়ালের – এনবিএস /২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *