ঢাকা, শুক্রবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন
রাহুল ব্রেকফাস্টে ডাকলেন সুদীপদের, পেগাসাসের প্যাঁচে অচল সংসদ
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

 পেগাসাস কাণ্ডে সংসদ কার্যত অচল। তার মধ্যেই আবার যেটুকু সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে তাতে তড়িঘড়ি বিল পাশ করানোর হিড়িক চলছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবিরের কৌশল নির্ধারণের জন্য মঙ্গলবার সকালে বিরোধী নেতাদের ব্রেকফাস্ট মিটিংয়ে ডাকলেন রাহুল গান্ধী।

কংগ্রেস সূত্রে বলা হচ্ছে, ওই বৈঠকে ডাকা হয়েছে লোকসভায় তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। চোদ্দটি বিরোধী দলের নেতাকে ডাকা হয়েছে ওই বৈঠকে।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, লোকসভায় তৃণমূল-সহ বাকি বিরোধী দলগুলির সঙ্গে কক্ষ সমন্বয় করে চলতে চাইছেন সনিয়া-রাহুল। কিন্তু গত সপ্তাহে সংসদে কংগ্রেসের ডাকা এমন এক বৈঠকে অনুপস্থিত ছিল তৃণমূল। তবে সেদিন বিকেলেই দশ নম্বর জনপথে গিয়ে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাহুলও ছিলেন সেখানে। এখন দেখার, আগামী কাল রাহুলের ডাকা বৈঠকে তৃণমূল থাকে কিনা।
সূত্রের খবর, সরকার-বিরোধী প্রতিবাদ দেখাতে বিরোধী শিবির ছদ্ম সংসদ বানিয়ে অধিবেশন চালানোর কথাও বিবেচনা করছে। মূল লক্ষ্য হল, সামগ্রিক ভাবে বিজেপি বিরোধিতার পরিবেশ তৈরি করা।
সংসদের অধিবেশন যে ভাবে চলছে তা নিয়ে সোমবার কটাক্ষ করেছেন রাজ্যসভায় তৃণমূল নেতা ডেরেক ও ব্রায়েনও। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “গড়ে সাত মিনিটে একটা করে বিল পাশ হচ্ছে। সরকার কি ‘পাপড়ি চাট বানাচ্ছে!” এভাবে সরকার সংসদের ‘পবিত্রতা ক্ষুন্ন করছে’ বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

সোমবার সকালে মোদী সরকারকে হুল ফোটানো ট্যুইটে ডেরেক লেখেন, প্রথম ১০ দিনে মোদী-শাহ দ্রুততার সঙ্গে ১২টা বিল পাশ করিয়ে নিল। এক একটার পিছনে খরচ হয়েছে গড়ে সাত মিনিট করে। এ যেন পাপড়ি চাট বানানো চলছে।

ট্যুইটের সঙ্গে তিনি সংসদের দুই পক্ষে অনুমোদিত বিলগুলির গ্রাফিক্সে বানানো তালিকা জুড়ে দিয়েছেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, পেশ হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে বিলে ছাড়পত্র মিলছে। সবচেয়ে দ্রুত পাশ হয়েছে কোকোনাট ডেভেলপমেন্ট বোর্ড বিল, মাত্র এক মিনিটে। আর সবচেয়ে বেশি সময় (১৪ মিনিট) লেগেছে এয়ারপোর্টস ইকনমিক রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া বিলটি গৃহীত হতে।

১৯ জুলাই থেকে সংসদের বাদল অধিবেশনের সূচনার পর থেকে পেগাসাস, কৃষি আইন সহ নানা ইস্যুতে বিরোধীদের হট্টগোলে দুই কক্ষেই কাজ বলতে গেলে কিছুই হয়নি। এজন্য গত সপ্তাহেই কংগ্রেসকে নিশানা করে তারা সভা চালাতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করে দলীয় এমপিদের মিডিয়ায়, জনগণের সামনে তাদের মুখোশ দিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

পাশাপাশি কিছু সূত্রের মাধ্যমে পাওয়া একটি তথ্যকে অস্ত্র করে সরকার দাবি করে, সংসদ অচল থাকায় জনগণের ট্যাক্সের ১৩৩ কোটি টাকার অপচয় হয়েছে। লোকসভায় কাজ হতে পারত ৫৪ ঘন্টা, হয়েছে মাত্র সাত ঘন্টা। রাজ্যসভায় কাজ হতে পারত ৫৩ ঘন্টা, সেখানে হয়েছে মাত্র ১১ ঘন্টা।
খবর দ্য ওয়ালের 
এনবিএস ২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: