ঢাকা, মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন
তালিবানের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে, পাক জেহাদিরা, গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা আফগানিস্তানে
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

 আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে আফগানিস্তানে। আমেরিকা, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সরকার এমনই আশঙ্কা করছে। ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা চলে গিয়েছে তালিবানের দখলে। তারা এখন বড় শহরগুলি দখলের চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের জেহাদিদের উপস্থিতি। গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানের বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষায়তনের অনেক ছাত্র তালিবানের সঙ্গে যোগ দিতে আফগানিস্তানে গিয়েছে। যুদ্ধে নিহত হয়েছে তাদের অনেকে।
পাকিস্তান সরকার তাদের দেশ থেকে জেহাদিদের আফগানিস্তানে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। কিন্তু হত কয়েকদিনে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের চমন ও স্পিন বোলডাক সীমান্ত দিয়ে আনা হয়েছে অনেকগুলি মৃতদেহ। সেগুলি পাকিস্তানি জেহাদিদের দেহ বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। বালুচিস্তানের উত্তরে খাইবার-পাখতুনখাওয়া প্রদেশের স্থানীয় মানুষ জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে আফগানিস্তান থেকে কয়েক ডজন মৃতদেহ আনা হয়েছে।
বালুচিস্তান সীমান্তের ওপারে, আফগানিস্তানের পাশতুন অধ্যুষিত অঞ্চলেও অনেক দেহ সমাহিত করা হয়েছে। তালিবান নেতারা ওই সব শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন। মৃতদের ‘শহিদ’ বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।
আফগানিস্তানের ইনডিপেনডেন্ট হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ১৬৭৭ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩৬৪৪ জন। মোট ১৫৯৪ টি সংঘর্ষ হয়েছে। তালিবান দমনে আফগানিস্তানের কয়েকটি অঞ্চলে বিমান হানা চালিয়েছে আমেরিকা।
আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি রবিবার দাবি করেন, তাঁদের দেশের পরিস্থিতি বদলে যাবে আর ছ’মাসের মধ্যে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, গত দুই দশকে আরও হিংস্র ও অত্যাচারী হয়ে উঠেছে তালিবান। তারা শান্তি, উন্নয়ন বা প্রগতি চায় না। সরকার চায় শান্তি। কিন্তু তালিবান চায়, সবাই তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করুক। যুদ্ধের পরিস্থিতি না বদলালে তালিবানকে আলোচনায় বসানো যাবে না। সুতরাং আমাদের দেশ জুড়ে সেনাবাহিনীকে সংহত করতে হবে।
এর মধ্যে জানা যায়, চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে চায় পাকিস্তান। সম্প্রতি আফগানিস্তানের তালিবানের এক প্রতিনিধিদল গিয়েছে চিনে। গত সপ্তাহের বুধবার তাঁদের সঙ্গে চিনা কর্তৃপক্ষের কথা হয়। চিন তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আফগানিস্তানে যুদ্ধ থামাতে তালিবানকে বিশেষ ভূমিকা নিতে হবে। পরবর্তীকালে দেশের পুনর্গঠনেও ভূমিকা নিতে হবে তালিবানকে। তালিবান প্রতিনিধিরা আশ্বাস দেন, তাঁরা আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে কাউকে চিনের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে দেবেন না। চিনের বিদেশমন্ত্রক বুধবার এই খবর জানিয়েছে।
তালিবানের এক মুখপাত্র বলেছেন, তাঁদের ন’জন দূত এদিন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠক করেন। চিনের তিয়ানজিন শহরে ওই বৈঠক হয়। সেখানে আফগানিস্তানের শান্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওয়াং বলেন, “আশা করা হচ্ছে, আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে তালিবান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।” চিনের আশা, পূর্ব তুর্কিস্তানের ইসলামি আন্দোলনকেও দমন করবে তালিবান। কারণ ওই আন্দোলন চিনের জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপদস্বরূপ।

খবর দ্য ওয়ালের 

এনবিএস ২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *