ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন
ভারতে করোনার ভয়ে ১৫ মাস তাঁবুর মধ্যে পুরো পরিবার, উদ্ধার করল স্থানীয় পুলিশ
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

ভারতে করোনার ভয়ে ১৫ মাস তাঁবুর মধ্যে পুরো পরিবার, উদ্ধার করল স্থানীয় পুলিশ

করোনাভাইরাসের ভয়ে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে টানা এক বছর তিন মাস তাঁবুর মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছে একটি পরিবার। বুধবার অসুস্থ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বৃহস্পতিবার এই খবর জানিয়েছে।

অন্ধ্র প্রদেশের কাদালি গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান চোপালা গুরুনাথ জানান, করোনায় এক প্রতিবেশী মারা যাওয়ায় পর ওই পরিবারের তিন সদস্য রুথামা (৫০), কান্থামনি (৩২) ও রানী (৩০) প্রায় ১৫ মাস ধরে নিজেদের তাঁবুবন্দী করে রেখেছিলেন।

সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবীরা গ্রামে কাজ করতে গিয়ে পরিবারটির সন্ধান পান। বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁরা পঞ্চায়েত প্রধান ও অন্যদের জানান। সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পঞ্চায়েত প্রধান চোপালা গুরুনাথ জানান, চুত্তুগালা বেনি নামের এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তানসহ এখানে বসবাস করতেন।

করোনাভাইরাসের আতঙ্কে প্রায় ১৫ মাস তাঁরা একটি তাঁবুর মধ্যে ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ওই বাড়িতে বিভিন্ন সময় গেলেও কারও সাড়া পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি তাঁদের কিছু আত্মীয় জানান, তাঁরা স্বেচ্ছাবন্দী হয়ে আছেন এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ।

পঞ্চায়েত প্রধান আরও বলেন, ‘খবর শুনে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে ছুটে যাই এবং পুলিশকে জানাই। পুলিশের সাব–ইন্সপেক্টর কৃষ্ণমচারী তাঁর দল নিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। এ সময় তাঁদের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। চুল না কাটায় সেগুলো অনেক লম্বা হয়ে গিয়েছিল, এমনকি দীর্ঘদিন গোসলও করেননি তাঁরা। উদ্ধারের পর দ্রুত স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, তাঁদের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে ওই অবস্থায় আর ২–৩ দিন থাকলে হয়তো তাঁদের বাঁচানো যেত না। চোপালা গুরুনাথ আরও বলেন, স্বেচ্ছাসেবকেরা যখন তাঁদের ঘরের বাইরে বের হতে বলেন, তখন তাঁরা বলেন, বের হলে মারা যাবেন। পরিবারটি একটি ছোট্ট তাঁবুর মধ্যে বসবাস করছিল। এমনকি তাঁরা প্রস্রাব–পায়খানাও তাঁবুর ভেতরেই করতেন।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *