ঢাকা, শুক্রবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন
ধর্ম-বর্ণ-দেশ-জাতি মিলেমিশে একাকার, টোকিও অলিম্পিকে হাই জাম্পের সোনা ভাগ করে নিলেন দুই বন্ধু
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

খেলা, ক্রীড়াবিদরা যে কোনও দেশ-কাল-ধর্ম-বর্ণ-জাতির গণ্ডিতে আবদ্ধ নন তার এক অসামান্য নজির দেখা গেল টোকিও অলিম্পিকের আসরেই। টাইব্রেকিং জাম্প-অফ এড়িয়ে পুরুষদের হাই জাম্পে সোনা ভাগ করে নিলেন কাতারের মুতাজ এসা বারশিম ও ইতালির জিয়ানমার্কো তামবেরি। ফ্রেন্ডশিপ ডে-তে তাঁরা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা নিয়েই মুগ্ধতা সোশ্যাল মিডিয়ায়।
পুরুষদের হাই জাম্পের ফাইনালে দুজনেই ২.৩৭ মিটার উচ্চতা লাফ দিতে পার করতে সক্ষম হলেও ২.৩৯ মিটার উচ্চতা পার করতে পারেননি। কাতারের বারশিম যখন ইতালীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টাইব্রেকিং জাম্প-অফের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই তাঁর কাছে আসেন তামবেরি। দুজন নিজেদের মধ্যে কিছু শলাপরামর্শের পর নিজেদের জড়িয়ে ধরেন এবং জানিয়ে দেন, তাঁরা দুজনেই জাম্প-অফে অংশ নেবেন না। ফলে দুজনেই ভাগ করে নেবেন সোনা। এরপরই তামবেরি গোটা মাঠ প্রদক্ষিণ করতে শুরু করেন। আর ধীরে ধীরে স্টেডিয়ামের একটি জায়গায় গিয়ে বন্ধুর স্বার্থত্যাগের আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বারশিম। ২০১২ ও ২০১৬-র অলিম্পিকে তিনি ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। এবার একেবারে সোনা।
এরপরই দুই বন্ধুর সম্পর্ক নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। কাতার মুসলিম প্রধান দেশ, ইতালিতে খ্রিস্টান বেশি। তামবেরি শ্বেতাঙ্গ, বারশিম কৃষ্ণাঙ্গ। কিন্তু তাতে তাঁদের এক দশকেরও বেশি বন্ধুত্ব অটুট থেকেছে। ২০১০ সালে বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে দুজনের আলাপ। সেই প্রতিযোগিতায় বারশিম খেতাব জিতলেও যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিলেন তামবেরি। আবার তামবেরির চোট সারিয়ে রিও অলিম্পিকে নামার সময়ও বারশিম তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। সেই বন্ধুত্বই আজ স্পোর্টসম্যানশিপের আরও এক নজির তৈরি করল যা মুগ্ধ ও আবেগাপ্লুত করেছে বিশ্বকে।
খবর ওয়ান ইন্ডিয়ার
এনবিএস ২০২১/একে
 

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: