ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
গেরুয়া সন্ত্রাসের জন্য সিপিএমকে দোষারোপ অভিষেকের, বাংলায় বিজেপির মডেলই ত্রিপুরায় তৃণমূলের দিশা
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

গেরুয়া সন্ত্রাসের জন্য সিপিএমকে দোষারোপ অভিষেকের, বাংলায় বিজেপির মডেলই ত্রিপুরায় তৃণমূলের দিশা

বিরোধী হিসেবে বাংলায় যে ফর্মুলা নিয়েছিল গেরুয়া শিবির, তা-ই কার্যত বিজেপি শাসিত ত্রিপুরায় প্রয়োগ করার কথা বললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আগের পাঁচ বছরেই বিরোধী হিসেবে সিপিএমের নিষ্ক্রিয়তা প্রকট হয়েছিল। রাস্তার আন্দোলনের বদলে গোটা বামফ্রন্ট মুখ গুঁজেছিল ফেসবুক আর মিডিয়া বাইটে। নবান্নে গিয়ে বিমান বসুদের ফিশফ্রাই খাওয়া নিয়েও কম কটাক্ষ সিপিএম নেতাদের শুনতে হয়নি।

সেইসময়েই ‘কার্যত বিরোধী শূন্য’ বাংলায় বিজেপি নিজেদের প্রকৃত বিরোধী হিসেবে তুলে ধরা শুরু করেছিল। বলেছিল, তৃণমূলকে হারাতে পারে তারাই। প্রতিবুথে সংগঠন গড়ে তোলার ডাক দিয়েছিল ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেন। এদিন আগরতলায় বসে কার্যত সেকথাই বললেন অভিষেক।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আগামী ১৫ দিন পর ফের আমি ত্রিপুরায় আসব। সেদিন আমাদের রাজ্য কমিটির পদাধিকারীদের নাম আমি ঘোষণা করব। আজকে অগস্টের ২ তারিখ। ডিসেম্বরের ৩১ তারিখের মধ্যে ত্রিপুরার ৩৩২৪টি বুথে সংগঠন গড়বে তৃণমূল। বিপ্লববাবুর ক্ষমতা থাকলে আটকে নেবেন।”

এখানেই থামেননি অভিষেক। বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলই প্রকৃত লড়াই লড়তে পারে বলে দাবি করেছেন অভিষেক। ত্রিপুরায় এখন বিরোধী দল সিপিএম। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে তরুণ তৃণমূল নেতা বলেছেন, “গোটা রাস্তায় একটাও সিপিএমের পতাকা দেখতে পাইনি। বিরোধী শূন্যতার জন্যই আসলে বিজেপি মানুষের উপর অত্যাচার করতে পারছে।”

বাংলাতেও বিজেপি বাম-কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলত। দিলীপ ঘোষরা বলতেন, বাম-কংগ্রেস শুধু ডেপুটেশন দেওয়ার রাজনীতি করছে। ও ভাবে বিরোধী আন্দোলন হয় না। বিরোধী আন্দোলনে একটু গরম লাগে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বাংলায় বিজেপি যেভাবে বাম-কংগ্রেসকে সরিয়ে বিরোধী পরিসর দখল করেছিল, তৃণমূলও একই কায়দায় ত্রিপুরায় বিরোধী পরিসর থেকে সিপিএমকে সরিয়ে সেই জায়গাটা দখল করতে চাইছে। সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেককে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তৃণমূল কি সিপিএমের সঙ্গে জোট করবে? জবাবে অভিষেক বলেন, “সিপিএম যা অত্যাচার করেছে তাতে তাদের সঙ্গে জোটের কোনও প্রশ্ন নেই। তবে হ্যাঁ, তারা যদি মনে করে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের হাত শক্ত করবে তাহলে স্বাগত।”

এদিন আগরতলা থেকে উদয়পুরে ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে যাওয়ার পথে অভিষেকের কনভয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। সেই প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বলেছেন, ত্রিপুরায় পা রাখার প্রথম দিনই বিজেপি ভয় ওইয়ে গিয়েছে। কিন্তু এভাবে আমায় ধমকে চমকে আটকানো যাবে না। এদিন অভিষেক স্পষ্ট করেছেন। মাসে দু’বার করে তিনি ত্রিপুরায় যাবেন। এও বলেছেন, প্রতিদিন বাংলার কোনও না কোনও নেতা ত্রিপুরায় থাকবেন। একদিন বাদ দেওয়া হবে না।

২০১৬ সালে বাংলায় জয়ের পর ত্রিপুরাকে টার্গেট করেছিল তৃণমূল। আগরতলার প্রাণ কেন্দ্রে আস্তাবল ময়দানে জনসভা করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুদীপ রায় বর্মন-সহ গুচ্ছ কংগ্রেস বিধায়ক সরাসরি যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। তৃণমূল সেই সময়ে ত্রিপুরার বিরোধী দল হয়ে উঠেছিল। পরে দেখা যায় যাঁরা কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে শামিল হয়েছিলেন তাঁরা সকলেই বিজেপিতে যোগ দেন এবং ১৮-র বিধানসভা নির্বাচনে টিকিটও পেয়েছিলেন।

একথা ঠিক, ১৮-র বিধানসভা ভোটে ত্রিপুরায় শূন্য থেকে সরকার গড়েছিল বিজেপি। বিপ্লব দেব প্রায় প্রতিটি সভাতেই একথা বলেন। এদিন বিজেপিকে সেটাও স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছেন অভিষেক। বোঝাতে চেয়েছেন, শূন্য থেকেও সরকার গড়া সম্ভব।

এদিন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বাছাবাছা শব্দে আক্রমণ শানান ডায়মন্দ হারবারের সাংসদ। তাঁর কথায়, “ত্রিপুরায় এত শিক্ষিতের হার তবু এখানকার মুখ্যমন্ত্রী এখন হাসির খোরাক। আমি তাঁকে খুব একটা দোষ দিই না। বিপ্লববাবুকে আসলে বলির পাঁঠা করা হয়েছে। উনি দিল্লির তল্পিবাহক।”

যদিও ত্রিপুরা বিজেপির এক মুখপাত্র এদিন বলেছেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ত্রিপুরার মানুষ দেখছেন বাংলায় তৃণমূল তোলাবাজি, কয়লা, গরু চুরি, সিন্ডিকেট আর বিরোধীদের উপর নির্মম অত্যাচারের মডেল তৈরি করেছে। ওই মডেলকে ত্রিপুরার মানুষ এক ইঞ্চিও জায়গা দেবে না। সিপিএমের ২৫ বছরের জগদ্দল পাথরকে সরিয়ে যে বিকাশের রথ ছুটছে ত্রিপুরায় তা অব্যাহত রাখবে ত্রিপুরার ৩৭ লক্ষ জনগণ।”

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *