ঢাকা, বুধবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন
পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অদূরে ‘আন্ডার গ্রাউন্ড’ সুবিধা নিয়ে চিনের নয়া নির্মাণ কাজ শুরু, কী ঘটছে সীমান্তে
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অদূরে 'আন্ডার গ্রাউন্ড' সুবিধা নিয়ে চিনের নয়া নির্মাণ কাজ শুরু, কী ঘটছে সীমান্তে

লাদাখ সংঘাতের পর থেকে কেটে গিয়েছে অনেকটা সময়। গতবছর অগাস্ট মাসে লাদাখে ফের একবার নতুন কের রক্তচক্ষু দেখাতে যায় চিন। তবে লাভের লাভ হয়নি। মুহূর্তে লাদাখের স্ট্র্যাটেজিক এলাকায় দখল জমিয়ে ভারত তার কড়া জবাব দেয়। এরপর থেকে শীতকালীন সময় জুড়ে চিন ও ভারতের মাঝে লাদাখ পরিস্থিতি কার্যত ঠান্ডাই ছিল! তবে শীতের বরফ সরতেই চিন সীমান্তের বুকে একাধিক ঘটনা পরম্পরা ঘিরে তুমুল তোলপাড় শুরু হয়েছে। স্যাটেলাইলট চিত্রে এমনই কিছু ছবি ধরা পড়েছে , যা চিন সীমান্তের ঘটনা পরম্পরা নিয়ে বিস্তর জল্পনা তৈরি করছে।

এক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে, চিনের তাশকুরগান এলাকার কাছাকাছি জায়গায় একটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত তা সম্পূর্ণ রূপে তৈরি হয়ে যায়নি। তবে স্যাটেলাইট ছবি বলছে, সেখানে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া একটি আন্ডারগ্রাউন্ড সুবিধা যুক্ত নির্মাণ শৈলী নিয়ে বিমানবন্দর তৈরি হচ্ছে। বিমানবন্দরকে কার্যত চিনের তরফে মধ্য এশিয়ার ভরকেন্দ্র বলে চিহ্নিত করতে শুরু করে দিয়েছে বিভিন্ন মহল। সেই জায়গা থেকে এই এই বিমানবন্দরের নানান রকমের সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই বিমানবন্দরের অদূরেই রয়েছে বিভিন্ন দেশের সীমান্ত। ফলে এর স্ট্র্যাটেজিক অবস্থান নিয়েও রয়েছে জল্পনা।

যে এলাকায় চিনের এই বিমানবন্দর তৈরি হয়েছে, তার স্ট্র্যাটেজিক অবস্থান রীতিমতো তোলপাড় করছে এশিয়ার কূটনৈতিক মহলকে। মূলত , তশকুরগান এলাকা চিনের সহ্গে তাজাকিস্তানের সীমাবন্ত লাগোয়া। আবার তাশকুরগান থেকে কাছেই রয়েছে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর। কাছেই রয়েছে অফগানিস্তান সীমান্ত। প্রসঙ্গত, এই পাওকের কাছে এই বিমানবন্দরের নির্মাণ ঘিরে চিনের দিকে ফোকাস ক্রমেই বাড়াচ্ছে দিল্লি। এদিকে, তাশকুরগানের কাছে থাকা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে একটি বিশেষ বাঁধ ঝিলাম নদীর ওপর বসানোর প্রজেক্ট শুরু করেছে চিন। যা নিয়ে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বহু বাসিন্দাই প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। আশ্চর্যজনকবাবে সেই প্রতিবাদীদের অনেকেই 'গুম ' হয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, সেই পিওকে সীমান্তের অদূরে চিনের এই নয়া নির্মাণ কার্যত স্ট্র্যাটেজিক দিক থেকে চিনকে ভালো অবস্থানে রাখবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

এদিকে, ভারতের সঙ্গে যখন চিনের সংঘাত চরমে লাদাখ পরিস্থিতি ঘিরে, তখন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর সীমান্তের অদূরে তিন এই বিশেষ বিমানবন্দর নির্মাণ শুরু করে। ২০২০ সালে এই নির্মাণ শুরু হয়। প্রসঙ্গত, সেই সময়ই ভারত ও চিনের মধ্যে লাদাখ ঘিরে প্রবল সংঘাত শুরু হয়। উল্লেখ্য, লাদাখ সংঘাতের সময়ই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে একটি করিডর গঠনের ডাক দিয়ে কার্যত ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিকে চিনপন্থী করে তোলার চেষ্টা বেজিং করেছিল বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।

চিনের উহানে ফের করোনার দানবীয় প্রাদুর্ভাব শুরু, আতঙ্কের চোরাস্রোতে এলাকাবাসীদের নিয়ে নয়া পদক্ষেপে বেজিংচিনের উহানে ফের করোনার দানবীয় প্রাদুর্ভাব শুরু, আতঙ্কের চোরাস্রোতে এলাকাবাসীদের নিয়ে নয়া পদক্ষেপে বেজিং

উচ্চ অক্ষাংশে তৈরি হওয়া চিনের এই বিমানবন্দরটি নিয়ে রীতিমতো জল্পনা রয়েছে। বিমানবন্দরের নিচে মাটির তলায় বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে একটি নির্মাণ কাজে কেন চিন ব্রতী হয়েছে? এই প্রশ্ন এশিয়ার কূটনৈতিক মহলে ঘোরপেরা করছে। কোন কোন ক্ষেত্রে এই আন্ডারগ্রাউন্ড সুবিধা চিন কাজে লাগাতে পারে, তা নিয়ে রয়েছে বহু জল্পনা। বিষয়টিকে মোটেও সহজে নেয়নি দিল্লি। চিনের সামনে থাকা অপশান নিয়ে ভাবনা চিন্তা বহু স্ট্র্যাটেজিক বিশেষজ্ঞই করছেন বলে জানা গিয়েছে।

স্ট্র্যাটেজিক দিক থেকে দেখতে গেলে সীমান্তের কাছে চিনের এই বিশেষ নির্মাণ রচনাশৈলী 'চায়না পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর' এর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করছে। একদিকে, তাজাকিস্তানে চিবের প্রবল বিনিয়োগ, আর অন্যদিকে, পাকিস্তানেক বুকে একাধিক প্রজেক্টে চিনের বিনিয়োগ রীতিমতো তাক লাগাচ্ছে। সেই জায়গা থেকে তাশকুরগানকে অঙ্ক কষেই বিমানবন্দরের জন্য চিন বেছে নিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।

এদিকে, আফগানিস্তানের বুকে মাথাচাড়া দিচ্ছে তালিবানরা। এদিকে, সেই আফগানিস্তান সীমান্তে তাশকুরগানে বিমানবন্দরের অবস্থান দক্ষইণ এশিয়ার কূটনৈতিক মহলে আলোচনায় বারবার উঠে আসছে। বহু বিশেষজ্ঞের মতে, আফগানস্তানে তালিবানের রমরমায় খানিকটা ত্রস্ত চিন। যার জেরে জিনজিয়াংএ জিনপিং সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করছেন বহু চিনা তত্ত্ববিদ। সেই ভয় থেকে এমন একটি অবস্থানে এই চিনা নির্মাণ শৈলী তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই চিনের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে তালিবানদের একটি বিশেষ বৈঠক হয়েছে। সেই জায়গা থেকে চিন আফগান সীমান্তে লালফৌজের নজরদারিও ক্রমে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্জারগ্রাউন্ড সুবিধা সম্পন্ন এই বিমানবন্দর রীতিমতো প্রাসঙ্গিক। খবর ওয়ান ইন্ডিয়ার

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: