ঢাকা, রবিবার ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫৬ অপরাহ্ন
ছ’মাস বৈঠকের পরে বরফ গলল, পূর্ব লাদাখ থেকে সেনা সরাতে রাজি হল ভারত-চিন
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

গত শনিবার কোর কম্যান্ডার স্তরের বৈঠকে বসে ভারত ও চিনের সেনাবাহিনী। সেখানে স্থির হয়, পূর্ব লাদাখের মূল টহলদার পয়েন্টগুলি থেকে সেনা সরাবে দুই দেশ। যদিও সীমান্তের অন্যত্র এখনও কয়েকটি বিতর্কিত এলাকা রয়েই গেল। পূর্ব লাদাখ নিয়ে ১৫ মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে চুসুল-মোলডো সীমান্তে ভারতের সেনা চৌকিতে দুই দেশের বৈঠক হয়।

একটি সূত্রে খবর, চিন গোরা পোস্ট অঞ্চল থেকে সরতে রাজি হয়েছে। কিন্তু হট স্প্রিং অঞ্চল নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সেখানে তারা আগের মতোই সেনা মোতায়েন রাখবে। দেপসাং সমভূমি ও চারডিং-নিংলুং অঞ্চলে যেভাবে চিনারা সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকে এসেছে, তা নিয়ে শনিবারের বৈঠকে কথা হয়নি।

সোমবার দুই দেশের সেনাবাহিনীর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। ভারত-চিন সীমান্তের ওয়েস্টার্ন সেক্টরে অন্যান্য এলাকা থেকেও সেনা সরানোর ব্যাপারে কথা বলেছেন দুই দেশের সেনাকর্তারা। দু’পক্ষই মনে করে, এদিনের বৈঠক ছিল গঠনমূলক। তা দুই দেশের বোঝাপড়া বাড়াতে সাহায্য করেছে।

একটি সূত্রে খবর, শনিবারের বৈঠক শুরু হয় সকাল সাড়ে দশটায়। শেষ হয় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। অন্যান্যবারের তুলনায় এবার বৈঠক হয়েছে কম সময় ধরে। এর আগে আলোচনা শেষ হতে রাত দু’টো-তিনটে বেজে যেত।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে জানা যায়, প্যাঙ্গং-এর পাহাড়ি এলাকা থেকে সেনা সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। চুসুল সীমান্তে ভারত-চিন নবমতম সেনা কম্যান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের পরেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি করেছে তারা। তবে চিনের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে নারাজ ভারতীয় সেনাবাহিনী। শান্তি আলোচনার মাঝেই লাগাতার বিশ্বাসঘাতকতার নজির তৈরি করেছে চিন। তাই ভারতীয় সেনা সূত্র জানাচ্ছে, স্পর্শকাতর দেপসাং ভ্যালি থেকে সেনা সরানোর প্রশ্নই নেই, বরং গোগরা ও গালওয়ান উপত্যকা থেকে ধাপে ধাপে সেনা সরিয়ে নেওয়া প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

গতবছর এপ্রিল-মে মাস থেকে পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ঢিল ছোড়া দূরত্বে দাঁড়িয়ে রয়েছে দু’দেশের সেনা। ঘটেছে একাধিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। সীমান্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এর আগে একাধিকবার সেনা সরিয়ে নেওয়া বা ডিসএনগেজমেন্টের কথা বলেছিল দুই দেশই। চিন সেনা সরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা হয়নি। বরং সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করে ফের আগ্রাসনের চেষ্টা করেছে। তবে শেষবারের বৈঠকের পরে চিন দাবি করেছে, দু’পক্ষই দ্রুত সেনা প্রত্যাহার করার প্রশ্নে সম্মত হয়েছে। খবর দ্য ওয়ালের / এনবিএস ২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *