ঢাকা, সোমবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন
ন’বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে খুন, জোর করে দেহ পুড়িয়ে দিল দুষ্কৃতীরা
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

 দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট এরিয়ার পুরানা নাঙ্গাল অঞ্চলে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাস করত ন’বছরের এক শিশুকন্যা। দরিদ্র পরিবারের ওই শিশুটি সোমবার বিকালে জল আনতে গিয়েছিল। তারপর আর ফেরেনি। তাদের বাড়ি শ্মশানের কাছেই। শ্মশানের পুরোহিত রাধেশ্যামের পরিচিত কয়েকজন সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ মেয়েটির মাকে ডেকে নিয়ে যায়। তার মা দেখেন শ্মশানে মেয়ের মৃতদেহ পড়ে আছে।
রাধেশ্যামের পরিচিত ব্যক্তিরা বলে, মেয়েটি কুলার থেকে জল নেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে। তার মা বলেন, মেয়ের কবজিতে ও কনুইয়ে পোড়া দাগ ছিল। তার ঠোঁট নীল হয়ে গিয়েছিল। পুরোহিত ও তার সঙ্গীরা মেয়েটির মাকে বলে, তিনি যেন পুলিশে খবর না দেন। তাদের যুক্তি ছিল, পুলিশে খবর দিলেই ময়না তদন্ত হবে। তাতে দেহের নানা অঙ্গ চুরি হয়ে যাবে। তার চেয়ে মেয়ের দেহের সৎকার করে ফেলাই ভাল।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, সম্ভবত মেয়েটির বাবা-মাকে কিছু টাকাও দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা মৃতদেহ সৎকারে রাজি হয়ে যান। পরে অবশ্য মেয়েটির মা স্থানীয়দের সব জানান। তাঁদের এলাকার ২০০ লোক শ্মশান ঘেরাও করে। পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়।
সাউথ ওয়েস্ট ডিস্ট্রিক্ট পুলিশের পদস্থ অফিসার প্রতাপ সিং জানান, রাত ১০ টা বেজে ৫০ মিনিট নাগাদ তাঁদের ফোনে জানানো হয়, একটি শিশুকে খুন করা হয়েছে। তাঁরা শ্মশানের পুরোহিত ও তার তিন সঙ্গীকে গ্রেফতার করেন। তাদের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন হেনস্থা বিরোধী আইন ও তফসিলী জাতি-উপজাতিদের বিরুদ্ধে অপরাধ দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
এর আগে দিল্লিতে ফেসবুকে ফাঁদ পেতে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের খবর পাওয়া যায়। দিল্লি পুলিশের এক অফিসার জানান, গত ৩০ জুলাই একটি হাসপাতাল থেকে তাঁরা খবর পান, ১৬ বছরের একটি মেয়ে ধর্ষণের পর সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়েছে বলে মেডিকেল পরীক্ষায় বেরিয়েছে।  মেয়েটির বয়ান রেকর্ড করা হয়। প্রাথমিক দ্বিধা, সঙ্কোচ কাটিয়ে সে অভিযোগ দায়ের করে। জানায়, কয়েক মাস আগে বাড়ির কাছে এক যুবকের সঙ্গে তার আলাপ হয়। ক্রমশঃ সম্পর্ক গড়ায় শারীরিক ঘনিষ্ঠতায়। কিন্তু তারপর থেকেই ছেলেটি তাকে এড়িয়ে যেতে থাকে, এমনকী নিজের ফোন নম্বরও সে দেয়নি।
এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু করেন এসআই প্রিয়ঙ্কা সাইনি। এসএইচও (দাবরি) এস এস সান্ধু একটি টিম গড়ে ফেসবুকে লোকটির খোঁজ শুরু করেন। সাইনি তার নামে থাকা ১০০ র ওপর প্রোফাইল ঘাঁটেন। নির্যাতিতাকে সেগুলি দেখানো হলে সে তাদের একজনকে চিহ্নিত করে। সাইনি নতুন একটি প্রোফাইল করে তাকে বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠালে সে তা গ্রহণ করে। সাইনি তাকে ফোন নম্বর শেয়ার  করতে বললে সে রাজি হয়নি। সাইনিকে সে তার সঙ্গে দেখা করতে বলে জানায়, সাক্ষাতেই সে বিস্তারিত তথ্য দেবে। তবে সাইনি তাকে পটিয়েপাটিয়ে শেষ পর্যন্ত ফোন নম্বর বের করে নেন। ৩১ জুলাই সে প্রথমে সাইনিকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় দশরথ পুরী মেট্রো স্টেশনে আসতে বলে। এরপর মুহূর্তে মুহূর্তে সে লোকেশন বদলাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত শ্রীমাতা মন্দির মহবীর এনক্লেভ থেকে ধরা পড়ে ছেলেটি।
খবর দ্য ওয়ালের 
এনবিএস ২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: