ঢাকা, শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:১৭ অপরাহ্ন
তিহার জেলের মধ্যে মৃত বিজেপি নেতার হত্যাকারী, পিটিয়ে মারার অভিযোগ ।
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

তিহার জেলের মধ্যে মৃত বিজেপি নেতার হত্যাকারী, পিটিয়ে মারার অভিযোগ ।
 বুধবার সকালে তিহার জেলের মধ্যে মিলল গ্যাংস্টার অঙ্কিত গুজ্জরের দেহ। ২৯ বছর বয়সী ওই দুষ্কৃতী বিজেপি নেতা বিজয় পণ্ডিতকে হত্যায় অভিযুক্ত। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, চারজন তাকে পিটিয়ে মেরেছে। জেলের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্টও ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গুজ্জর একসময় সুন্দর ভাটি গ্যাং-এর হয়ে কাজ করত। বিজেপি নেতা খুনের দায়ে ২০১৫ সালে সে গ্রেফতার হয়। তার বিরুদ্ধে খুন ও তোলাবাজি সহ মোট ২২ টি মামলা আছে। গুজ্জরের বাবা বিক্রম সিং-এর অভিযোগ, তাঁর ছেলে কারারক্ষীদের তোলা দিতে চায়নি। তাই তাকে খুন হতে হল। তাঁর কথায়, “গত একবছর আমার ছেলেকে তিহার জেলে রাখা হয়েছিল। জেলের অফিসাররা তাকে পিটিয়ে মেরেছে। তারা আমার ছেলের কাছে ১০ হাজার টাকা চেয়েছিল। সে দিতে রাজি না হওয়ায় খুন হয়েছে।”

ডিজি (তিহার) সন্দীপ গোয়েল জানিয়েছেন, মৃত কয়েদি জেল নম্বর থ্রি-তে ছিল। বুধবার সকালে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিহার জেল কর্তৃপক্ষ এই মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে। একইসঙ্গে বিচারবিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে।

এর আগে মে মাসের শুরুতে তিহার জেলে মারা যান প্রাক্তন আর জে ডি এমপি সাহাবুদ্দিন। ২০০৪ সালের একটি জোড়া খুনের মামলায় তিহার জেলে যাবজ্জীবন সাজা খাটছিলেন লালুপ্রসাদ যাদবের দলের এই ডাকসাইটে নেতা। তিনি বাহুবলী বলেও পরিচিত ছিলেন। ৫৩ বছর বয়সি সাহাবুদ্দিন গত ২০ এপ্রিল কোভিড ১৯ পজিটিভ হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেদিনই তাঁকে দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় (ডিডিইউ)হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে তিহার জেলের ডিজি সন্দীপ গোয়েলকে উদধৃত করে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এএনআই। গোয়েল বলেছেন, দিল্লি জেলের বন্দি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের মৃত্যুসংবাদ এসেছে। তাঁকে ২০ এপ্রিল ডিডিইউয়ে ভর্তি করা হয়।

দিল্লি হাইকোর্ট অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আপ সরকার ও তিহার জেল কর্তৃপক্ষকে সাহাবুদ্দিনের সঠিক চিকিত্সা, তত্ত্বাবধান ও সেবাযত্ন  নিশ্চিত করতে বলেছিল। বিচারপতি প্রতিভা এম সিং বলেছিলেন, কোভিড-১৯ জেলবন্দি রোগীদের দেখভাল করার ভারপ্রাপ্ত ডাক্তারকে সাহাবুদ্দিনের শারীরিক অবস্থা ও চিকিত্সার ওপর নজর রাখতে হবে।

এককালে সাহাবুদ্দিন ছিলেন গ্যাংস্টার। তারপর রাজনীতিতে প্রবেশ। তিহার জেলে ছোটা রাজনের মতো হাইপ্রোফাইল বন্দিদের অন্যতম ছিলেন তিনি। রাজনকে একটি আলাদা রাখা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে তার তেমন মেলামেশা ছিল না। তা সত্ত্বেও করোনা পজিটিভ হয় রাজন।

তিন ডজনের বেশি মামলা ঝুলছিল সাহাবুদ্দিনের নামে। তিহারের আগে তিনি দীর্ঘদিন ভাগলপুর, সিওয়ানের জেলেও কাটিয়েছিলেন। ২০১৮য় তাঁকে সিওয়ান থেকে তিহারে বদলির নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। খবর দ্য ওয়ালের /এনবিএস/২০২১/ একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *