ঢাকা, রবিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন
পঙ্গপাল কী’ভাবে ক্ষতি করে, যেভাবে একটি দেশের কী’ বিপদ ডেকে আনতে পারে
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

পঙ্গপাল কী’ভাবে ক্ষতি করে, যেভাবে একটি দেশের কী’ বিপদ ডেকে আনতে পারে

নুতন ধরণের যে ছোট পোকাগুলো দেখা গেছে, সেগুলো পঙ্গপাল কি-না তা খতিয়ে দেখবে কৃষি মন্ত্রণালয়। তবে এগুলো পঙ্গপাল হলে তা ফসলের জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশ’ঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পোকাগুলোর নমুনা পরীক্ষা করার আগে এগুলোকে পঙ্গপাল বলে নিশ্চিত করতে রাজি নন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পতঙ্গ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্ম’দ রুহুল আমিন।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “এখনো আম’রা নিশ্চিত না যে এই পোকা কোন প্রজাতির। গবেষণাগারে পরীক্ষা না করে এই পোকা স’ম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে না।”

তবে এই পোকা গাছপালা খেয়ে নষ্ট করায় এটিকে ক্ষতিকর মনে করছেন স্থানীয় কৃষি কর্মক’র্তারা। পোকা ছড়িয়ে পড়া রোধে কী’টনাশক স্প্রে করার পরাম’র্শ দিচ্ছেন তারা।

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দেশে পঙ্গপালের আক্রমণ ঘটেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়া ও ইথিওপিয়ায় ফসলের ক্ষেতে পঙ্গপালের আক্রমণ ঠেকানোর জন্য ব্যবহার করা হয় ব’ন্দুক, টিয়ারগ্যাস এবং সাইরেন।

এরপর পঙ্গপালের হা’মলার মুখে পড়ে পা’কিস্তান ও ভা’রত।

ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি বাংলাদেশের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক এজেডএম ছাব্বির ইবনে জাহান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিলন, পঙ্গপালের আক্রমণ সংক্রান্ত সতর্কতা এবং প্রস্তুতি রাখার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

কিন্তু পঙ্গপাল কী’ ধরণের ক্ষতি সাধন করতে পারে? আর পঙ্গপাল একটি দেশের জন্য কী’ ধরণের বিপদ ডেকে আনতে পারে?

যেভাবে ফসল নষ্ট করে পঙ্গপাল – পঙ্গপাল এক ধরণের ঘাসফড়িং জাতীয় পতঙ্গ। ডিম থেকে বের হয়ে পরিপূর্ণ একটি পতঙ্গে পরিণত হতে এর তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে।

পূর্ণবয়স্ক পতঙ্গে পরিণত হওয়ার আগে পর্যন্ত এর পাখা থাকে না – কাজেই এটি তখন উড়তে পারে নাম বরং এটি লাফিয়ে লাফিয়ে চলে।

পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গে পরিণত হওয়ার পর এটি রঙ বদলায়, অ’ত্যন্ত দ্রুত বংশবিস্তার করে এবং বিশাল ঝাঁক তৈরি করে।

একেকটি ঝাঁকে এক হাজার কোটি পর্যন্ত পোকা থাকতে পারে এবং দিনে ২০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অ’তিক্রম করতে পারে এরা। তাদের যাত্রা পথে খাওয়ার উপযোগী সব ধরণের ফসল, গাছপালা ধ্বংস করে দিয়ে যায় তারা।

একটি এলাকায় তাদের খাবার শেষ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই দলবেঁধে সেখান থেকে চলে যায় তারা।

বাতাসের গতিপথ যেদিকে থাকে, পঙ্গপাল সেদিকে অগ্রসর হয়। কাজেই তারা সবসময়ই নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে যায় – এমন এলাকায় যেখানে বৃষ্টি হয়, অর্থাৎ শস্য উৎপাদনের জন্য আদর্শ জায়গা।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা’র তথ্য অনুযায়ী, একটি মাঝারি আকৃতির পঙ্গপালের ঝাঁক যে পরিমাণ ফসল ধ্বংস করতে পারে, তা দিয়ে আড়াই হাজার মানুষকে এক বছর খাওয়ানো সম্ভব।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পঙ্গপালের সংখ্যা হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় পশ্চিম আফ্রিকায় ২৫০ কোটি ডলার সমমূল্যের শস্য নষ্ট হয়েছিল।

একটি প্রাপ্তবয়স্ক পঙ্গপাল নিজের ওজনের সমান (২ গ্রাম) শস্য একদিনে খেয়ে শেষ করতে পারে। এক বর্গ কিলোমিটার এলাকাব্যাপী পঙ্গপাল যে পরিমাণ ফসল নষ্ট করে, তা দিয়ে ৩৫ হাজার মানুষকে এক বছর খাওয়ানো যায় বলে বলছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা।

এক ঝাঁক পঙ্গপাল শত শত টন শস্য একদিনে খেয়ে শেষ করতে পারে।

পতঙ্গ বিজ্ঞানের অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, “ধান, গম, ভুট্টার মত দানাজাতীয় খাবারের ওপর বাংলাদেশ নির্ভরশীল। এটি যদি বিধ্বংসী পঙ্গপাল হয়ে থাকে, তাহলে সে সব শস্যের মা’রাত্মক ক্ষতি হতে পারে।”

এসব শস্য ছাড়াও বহুভোজী এই পোকা অন্যান্য সবজি ও ফলেরও ব্যাপক ক্ষতিসাধন করতে পারে।

তবে বংশবিস্তার করতে এবং টিকে থাকতে এই পোকার অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ড. আমিন বলেন, “সাধারণত গ্রীষ্মকালে, অর্থাৎ মে ও জুন মাসে, এই পোকার বংশবিস্তারের আদর্শ সময়। সে সময় তারা তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে ডিম থেকে পূর্নাঙ্গ রূপে যেতে পারে।”

কী’ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে এই পোকা? ম’রুভূমির পঙ্গপাল সাধারণত পশ্চিম আফ্রিকা ও ভা’রতের মধ্যকার শুষ্ক অঞ্চলের ৩০টি দেশে দেখা যায়।

জাতিসংঘ বলছে, বছর দুয়েক আগে আরব উপদ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলের আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে পঙ্গপালের তিনটি প্রজন্মের বংশবৃদ্ধি নজরদারির মধ্যে রাখা সম্ভব হয়নি।

২০১৯ সালের শুরুর দিকে ইয়েমেন, সৌদি আরব ও ই’রানে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল যায়। সেখান থেকে বংশবৃদ্ধি করে পূর্ব আফ্রিকার দিকে যায় তারা।

গত বছরের শেষদিকে এরিত্রিয়া, জিবুতি ও কেনিয়ায় দেখা যায় এই পোকা।

মিশর, সুদান, সৌদি আরব, ইয়েমেন এবং ভা’রত-পা’কিস্তান সীমান্তে পঙ্গপালের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতিকে ‘অ’ত্যন্ত আশ’ঙ্কাজনক’ বলে অ’ভিহিত করেছে জাতিসংঘ।

তবে টেকনাফে যে পোকাটি পাওয়া গেছে, সেটির বৈশিষ্ট্য দেখে আফ্রিকায় আ’ঘাত হানা ভয়াবহ পঙ্গপাল বলে মনে হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান।

একই মন্তব্য করেছেন পতঙ্গবিজ্ঞানী রুহুল আমিনও।

টেকনাফের স্থানীয়রা সপ্তাহ খানেক যাবত এই ধরণের পোকা দেখতে পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *