ঢাকা, সোমবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন
৪ দিনের রিমান্ডে পরীমনি ও রাজ
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

৪ দিনের রিমান্ডে পরীমনি ও রাজ

সমালোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি এবং চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) রাতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ শুনানি শেষে তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।

এর আগে আদালতে হাজির করে মাদকদ্রব‌্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বনানী থানায় র‌্যাবের দায়ের করা মামলায় পরীমনির ৭ দিন রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করে পুলিশ। মাদক ও পর্নোগ্রাফির মামলায় নজরুল ইসলাম রাজেরও ৭ দিন রিমান্ড চাওয়া হয়।

বুধবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বনানীর ১২ নম্বর রোডে পরীমনির বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় ওই বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। ওই রাতে বনানীর ৭ নম্বর রোডের বাসা থেকে নজরুল ইসলামকে আটক করে র‌্যাব। তার বাসা থেকেও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়।

র‌্যাব অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া চিত্রনায়িকা পরীমণি ও রাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নজরুল ইসলাম রাজের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে। মাদক আইনে একটি মামলা করা হয়েছে পরীমণির বিরুদ্ধে এবং মাদক ও পর্নোগ্রাফি আইনে দুটি মামলা করা হয়েছে রাজের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে পরীমণি ও রাজের বেশ কয়েকটি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এসব ব্যাংক হিসাবে পাওয়া গেছে বিপুল অর্থের লেনদেন।

পরীমনিকে গাড়ি উপহার দেয়া একটি বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। মাত্র কিছুদিন আগে এক নায়িকার ছুঁড়ে দেওয়া প্রশ্নের জবাবে পরীমণি বলেছিলেন, তিনি গাড়িটি কিনেছেন ব্যাংক ঋণে এবং থাকেন ভাড়া বাড়িতে। সম্পূরক প্রশ্ন এখানেও ছিল যে, ব্যাংক ঋণ ও বাড়ি ভাড়ার টাকা পরিশোধের জন্যও টাকা উপার্জনের প্রয়োজন হয়। এখন শোনা যাচ্ছে, বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান তাকে গাড়িটি উপহার দিয়েছেন। র্যা বের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রাজ মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে রাজ অনৈতিক কাজ করে বিপুল অংকের অর্থের মালিক হয়েছেন।

ব্যবসায়িক ও চিত্রজগতের দুই ক্ষেত্রে তার সংযোগ থাকায় তিনি অতিরিক্ত অর্থ লাভের আশায় উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নিজ অবস্থানের অপব্যবহার করেন। এর আগে র্যা ব সূত্র জানিয়েছিল, নজরুল রাজ একেক সময় একেক পরিচয়ে চলাফেরা করেন। কখনও চিত্রপরিচালক, কখনও ব্যবসায়ী আবার কখনও রাজনীতিবিদ। প্রতারণার মাধ্যমে তিনি অঢেল টাকার মালিক বনে গেছেন। বেশ কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৪টি হিসাবে ৯ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে র্যা ব। অবশ্য ব্যাংকের বাইরেও তার হাতে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা রয়েছে।

রাজের উত্থানের পেছনের ইতিহাস জানাতে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরো বলেন, রাজ গ্রেফতার শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান ও মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানের সহযোগিতায় ১০-১২জন তরুণী নিয়ে একটি অপরাধচক্র তৈরি করে। এই চক্রটি গুলশান, বনানী, বারিধারাসহ রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ডিজে পার্টির আয়োজন করত। এসব পার্টিতে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অনৈতিক কার্যক্রম সংঘটিত হতো। এসব পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের থেকে বিভিন্নভাবে মোটা অংকের অর্থ সংগ্রহ করা হতো। এরইমাধ্যমে রাজসহ এই চক্রের সদস্যরা রাতারাতি বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক বনে যান। পরীমণির গডফাদার হিসেবে পরিচিত রাজের মাধ্যমেই পরীমণি গ্ল্যামার জগতের সঙ্গে যুক্ত হন।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: