ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন
ত্রিপুরায় তৃণমূল-সিপিএম বোঝাপড়া? জেনে নিন কী বললেন লাল পার্টির নেতা
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

ত্রিপুরায় তৃণমূল-সিপিএম বোঝাপড়া? জেনে নিন কী বললেন লাল পার্টির নেতা

ত্রিপুরায় তৃণমূলের সঙ্গে সিপিএমের সম্পর্ক কী হবে? তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হতে চলেছে শুক্রবার থেকে শুরু হতে চলা সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির তিনদিনের বৈঠকে। এদিন নিজেই একথা জানিয়েছেন সিপিএমের ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক তথা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গৌতম দাশ।

নয়ের দশকের গোড়া থেকে সিপিএমের অভ্যন্তরে সবচেয়ে বড় বিতর্ক ছিল, কংগ্রেস না বিজেপি, কে বড় শত্রু? কংগ্রেস-বিজেপির সঙ্গে সমদূরত্বের দীর্ঘদিনের লাইন সরিয়ে সিপিএমের পার্টি কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত হয়েছিল মূল শত্রু বিজেপি। এবার সিপিএমের অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল না বিজেপি?

বাংলার সিপিএম ইতিমধ্যেই বলে দিয়েছে বিজেমূল স্লোগান দেওয়া ভুল হয়েছিল। তৃণমূল-বিজেপি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ বলাও পার্টির কর্মসূচিগত বোঝাপড়ার সঙ্গে খাপ খায় না। বিজেপির সঙ্গে আর কোনও দলকে এক করে দেখা যায় না। ত্রিপুরায় আর দেড় বছর পর ভোট। তৃণমূল ইতিমধ্যেই সেখানে সলতে পাকানো শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে এদিন গৌতমবাবুকে প্রশ্ন করা হয়, বড় শত্রু বিজেপিকে ঠেকাতে কম শত্রু তৃণমূলের কাছাকাছি কি সিপিএম আসবে?

জবাবে বর্ষীয়ান কমিউনিস্ট নেতা বলেন, “তাদের কার্যকলাপের উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। সর্বভারতীয় স্তরে আমরা ৬ তারিখ বসছি। ৬-৮ আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক। সেখানেই এগুলো ঠিক হবে। তবে রাজ্যে রাজ্যে নির্দিষ্ট পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে কৌশল নির্ধারণ করা হবে।”

রাজনীতিতে একটি চালু কথা রয়েছে। তা হল নেতারা যা বলেন তা যেমন একটা দিক সেইসঙ্গে যা বলেন না সেটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক। গোটা কথোপকথনে সিপিএমের ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক বাংলায় তৃণমূলের ভূমিকা নিয়ে প্রচ্ছন্ন সমালোচনা করলেও ত্রিপুরায় কাছাকাছি আসার বিষয়টি উড়িয়ে দেননি। বরং বলেছেন, কেন্দ্রীয় কিমিটির বৈঠকে এ ব্যাপারে আলোচনা হবে।

এখানে বলে রাখা ভাল, ত্রিপুরায় গিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলে এসেছেন, “সিপিএমের সঙ্গে জোটের কোনও প্রশ্নই নেই। যদি তারা মনে করে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে তৃণমূলের হাত শক্ত করবে তাহলে স্বাগত।”

তবে এদিন ত্রিপুরা সিপিএমের সম্পাদক স্পষ্ট করে আরও একটি কথা বলেছেন। তা হল, “ত্রিপুরায় বামফ্রন্ট রয়েছে। তা ছাড়া তেইশের ভোট এখনও অনেক দূর। অন্য কিছু চিন্তা করার মতো পরিস্থিতি এখনও নেই।” তিনি আরও বলেছেন, “ত্রিপুরায় তৃণমূল নতুন নয়। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল তৈরি হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। তারপর থেকেই তারা এখানে আসছে। যাদেরকে নিয়ে ত্রিপুরায় তৃণমূল তৈরি করেছিল তারা বিজেপিতে চলে গিয়েছে। ত্রিপুরায় বিজেপিকে আনার জন্য কংগ্রেস এবং তৃণমূলই সাহায্য করেছে। যাই হোক, তাঁরা আসছে আসুক। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের চর্চা অন্যতম প্রধান বিষয়। বিজেপির তো সেসব নেই-ই। আর তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গে কী করছে তা দেখছে মানুষ। ওখানে ২০১১ থেকে এখন পর্যন্ত কী হচ্ছে সবাই দেখতে পাচ্ছেন।”

তৃণমূল আগরতলায় পা রাখতেই রাজনৈতিক পরিবেশ সরগরম হয়েছে। গত কয়েকদিন বাংলার চেয়ে ত্রিপুরার মাটিই তৃণমূলকে বেশি ফোকাস দিয়েছে বলে রাজ্যের শাসকদলের অনেক নেতাই ঘরোয়া আলোচনায় স্বীকার করে নিয়েছেন। তৃণমূল নেতারা এও বলছেন, বিভিন্ন দলের নেতারা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। কেউ কেউ নিভৃতে বৈঠকও সেরেছেন বলে দাবি তৃণমূল নেতাদের। এই পরিস্থিতিতে গৌতম দাসকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ত্রিপুরায় সিপিএমের মধ্যে কি তৃণমূল ভাঙন ধরাতে পারে? এমন আশঙ্কা কি আপনাদের রয়েছে? জবাবে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, “এমন আশঙ্কা আমরা করছি না। আমরা এটা মনে করি না আমাদের দলের কেউ তৃণমূলে যোগ দেবেন।

মাস তিনেক আগেই ত্রিপুরায় অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (এডিসি) নির্বাচন হয়েছে। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা ত্রিপুরার রাজবাড়ির সদস্য প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মন তিপ্রা মথা নামের নতুন দল তৈরি করেছেন। যা উত্তর-পূর্বের ছোট্ট রাজ্যটির রাজনৈতিক সমীকরণেও বদল এনে দিয়েছে। ১৯টি আসন জিতে এডিসি দখল করেছে তিপ্রা মথা। বিজেপি পেয়েছে ৯টি আসন। সিপিএম একটিও আসন জিততে পারেনি। জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার ভোটে সিপিএমের ভোট শতাংশও যৎসামান্য।

এই নয়া সমীকরণ নিয়ে ত্রিপুরা সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বলেছেন, “এডিসি নির্বাচনে আমাদের হার একটা বিপর্যয়। সম্পূর্ণ পরিচিতিসত্তার রাজনীতি করা হয়েছে। যার বিরুদ্ধে আমরা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছি। ১৮-র বিধানসভা নির্বাচনের আগে আইপিএফটি পৃথক তিপ্রা ল্যান্ডের দাবি তুলেছিল। বিজেপি তাতে ইন্ধন দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ও এতে যুক্ত। এখন এটা স্পষ্ট বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মন চলছেন। আগরতলা, অসম, মিজোরাম, বাংলাদেশের অংশ নিয়ে পৃথক রাজ্যের দাবি করা হচ্ছে। তা কী ভাবে সম্ভব? আমরা প্রথম থেকে বলছি এই দাবি অবাস্তব। এডিসি ভোটের আগে সেই কথা বলে ভোট নিল। তারপর বলল এই দাবি তারা করছে না। বিজেপির সংস্কৃতি আর মথার সংস্কৃতি এক। মানি-মাসল। বিজেপির বিরুদ্ধে যে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তা বামেদের দিকে আসার কথা। সেটা রুখতেই এটা করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে আমরা এই পরিচিতিসত্তার রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়ছি। ত্রিপুরা জাতি-জনজাতির ঐক্যের ভূমি। সেই ঐক্য অটুট রাখাই আমাদের উদ্দেশ্য।”

ইতিমধ্যেই বিজেপি তেইশের লক্ষ্যে ত্রিপুরায় সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। তৃণমূলও পাখির চোখ করে ঝাঁপিয়েছে ত্রিপুরায়। এবার সিপিএমও কেন্দ্রীয় কমিটিতে আলোচনা করে ত্রিপুরার রণকৌশল প্রাথমিক ভাবে ঠিক করে ফেলতে চলেছে। সেখানে অন্যতম বিষয় হয়ে উঠতে চলেছে তৃণমূল। খবর দ্য ওয়ালের

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *