ঢাকা, মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম, কোনও সাড়া পাইনি, বললেন নীতীশ
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম, কোনও সাড়া পাইনি, বললেন নীতীশ

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার চান, এবার তাঁর রাজ্যে জাতপাতের ভিত্তিতে জনগণনা হোক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার নীতীশ জানালেন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে কোনও সাড়াশব্দ পাননি। কিছুদিন আগে নীতীশের জেডি ইউ-এর সাংসদরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তাঁদের বলা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে দেখা করা সম্ভব নয়। তাঁরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতে পারেন।

নীতীশ এদিন বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার জাতপাতের ভিত্তিতে জনগণনা করবে কিনা, তা তাদের ব্যাপার। আমাদের কাজ, নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি সরকারের সামনে পেশ করা। অনেকে ভাবছেন, জাতপাতের ভিত্তিতে গণনা হলে একটি জাতের সুবিধা হবে, অন্য জাতগুলির অসুবিধা হবে। এই ধারণা অমূলক। জাতপাতের ভিত্তিতে জনগণনা হলে সকলেরই সুবিধা হবে।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ব্রিটিশ আমলেও জাতপাতের ভিত্তিতে জনগণনা হত। এভাবে জনগণনা হলে সমাজের সব স্তরের মানুষই লাভবান হবে।” নীতীশের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে তাঁরই জোটশরিক বিজেপি। বিহার বিজেপির প্রধান সঞ্জয় জয়সোয়াল বলেন, এর ফলে সমাজে অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

এর আগে পেগাসাস নিয়ে বিজেপি সরকারের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন নীতীশ। তিনি দাবি করেন, পেগাসাস স্পাইওয়ারের সাহায্যে ফোনে আড়ি পাতা নিয়ে তদন্ত করতে হবে। এই প্রথমবার এনডিএ-র কোনও শরিক দল পেগাসাস নিয়ে তদন্তের দাবি তুলল। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর ফলে অস্বস্তিতে পড়বে মোদী সরকার।

নীতীশ বলেছেন, কাউকে হয়রান করার জন্য তাঁর ফোনে আড়ি পাতা উচিত নয়। সব কিছু প্রকাশ্যে জানানো উচিত।
ফোনে আড়ি পাতার বিষয়টা প্রথম সামনে আসে যখন একটি ডেটাবেস লিক হয়ে যায়। তাতেই সরকার ও বিরোধী পক্ষের একাধিক নেতা-মন্ত্রী, সাংবাদিক, আমলা, মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, শিল্পপতি সহ প্রায় ৩০০ জনের ফোন নম্বর লেখা ছিল। তা থেকেই সন্দেহ জাগে, তাহলে কি এইসব নম্বর হ্যাক করে ফোনে আড়ি পাতা হচ্ছে।

এরপর প্রশ্ন ওঠে, কে আড়ি পাতার নির্দেশ দিয়েছিল? অভিযোগের তির মোদী সরকারের দিকে। কারণ ইজরায়েলি সংস্থা এনএসও আগেই জানিয়েছে, তারা শুধুমাত্র বিভিন্ন দেশের সরকারকেই তাদের পেগাসাস স্পাইওয়্যার বিক্রি করে। বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাই এই স্পাইওয়্যার কাজে লাগিয়ে ফোনে আড়ি পেতে থাকে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রসচিবের অনুমতি ছাড়া আড়ি পাতা যায় না।

গত জুলাই মাসে বিজেপি সরকারের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নীতির বিরোধিতা করেছিলেন নীতীশ। অসম ও উত্তরপ্রদেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আইন করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। কিন্তু নীতীশ স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তিনি মনে করেন, আইন করে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকানো যায় না।

পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী দিনে নীতীশ কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে আরও সুর চড়াবেন। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে তিনি ফের বিরোধীপক্ষে যোগ দিলেও আশ্চর্যের কিছু নেই। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের সময় বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করেন নীতীশ। কারণ হিসাবে তিনি বলেন, এনডিএ যেভাবে গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে তুলে ধরেছে, তাতে তাঁর আপত্তি আছে। খবর দ্য ওয়ালের

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *