ঢাকা, মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন
বেপরোয়া মনোরঞ্জন, নিজের দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই উগরে দিলেন ক্ষোভ!
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

বেপরোয়া মনোরঞ্জন, নিজের দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই উগরে দিলেন ক্ষোভ!

ফের বেপরোয়া মনোরঞ্জন ব্যাপারী। স্পষ্ট ও ঠোঁটকাটা মন্তব্য তিনি বারেবারেই করে এসেছেন, তবে এবার নিজেরই দলের নেতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি তুললেন অভিযোগের আঙুল। বুধবার রাতে একটি ফেসবুক লাইভ ভিডিও পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, বলাগড় বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁর জয় অনেকেরই চক্ষুশূল। এলাকার দলীয় নেতাদের একাংশের কাছেই তিনি বহিরাগত। তাই এলাকায় তাঁকে কাজই করতে দেওয়া হচ্ছে না, ব্যক্তি আক্রমণেরও শিকার তিনি।

ফেসবুক লাইভের পরে সংবাদমাধ্যমের কাছেও সরাসরি মুখ খুললেন তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “কোনও কলেজে বা সরকারি প্রতিষ্ঠানে মমতাদির ছবি ছাড়া অন্য নেতার ছবি থাকবে না বলে দলের নির্দেশ। তবে জিরাট কলেজের গেটে দিদির ছবি পেছনে রেখে, সামনে অসীম মাঝি এবং শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেদের ছবি টাঙিয়ে কী বোঝাতে চাইছেন?”

বস্তুত, হুগলির বলাগড়ে জিরাট কলেজে টাঙানো ছবি নিয়েই শুরু সমস্যার। সেখানকার পোস্টারে বলাগড়ের প্রাক্তন বিধায়ক অসীম মাঝি এবং জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কারিগরি কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি রয়েছে। ওই দু’জনের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক মনোরঞ্জন।

তিনি বলেন, “দিদির এতগুলো জনহিতকর প্রকল্প রয়েছে, সে সব ছবি টাঙানো উচিত। কিন্তু কোনও ব্যক্তি বিশেষের ছবি থাকবে না। এমনকি আমারও ছবি রাখা হবে না। শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর ছবি থাকবে। আমরা একশো ছবির কোলাজ দিয়ে কলেজ ভরিয়ে দেব। আমাকে জিরাট কলেজের সভাপতি করেছে সরকার ও দল। অসীম এবং শান্তনুর অনুগামীরা কলেজে ছবি লাগিয়েছে। গন্ডগোল পাকাচ্ছে। এর কারণটা কী?”

মনোরঞ্জন আরও দাবি করেন, বিধানসভা ভোটে তাঁর জয় সহ্য করতে পারছেন না লোকাল নেতারা। তাঁকে মানিয়ে নিতে পারছেন না। তিনি উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন বলে মনে করছেন অনেকে। এমনকি সাম্প্রতিক ভোটে তাঁকে হারানোর চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মনোরঞ্জন। নির্বাচন প্রচারেও কেউ ছিলেন না তাঁর সঙ্গে।

শুধু তাই নয়। মনোরঞ্জন জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তি-আক্রমণেরও শিকার। তাঁকে প্রতিনিয়ত কটূক্তি ও বিদ্রূপ সহ্য করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি অমানবিকতা কেন উচ্চারণ করতে পারিনি, আমার গলায় গামছা কেন, আমি খৈনি কেন খাই, আমি কেন টোটো চালাই– এই সব নিয়ে ওরা বলে যাচ্ছে। অথচ ওদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলছে না, ওদের থামাচ্ছে না। সেই জন্যই আমায় মুখ খুলতে হচ্ছে এতদিনে। এবার একটা মীমাংসা দরকার।”

তিনি বলেন, “আমি সবার সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলতে চেয়েছি। আমি তো গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চাইনি। কিন্তু ভোটে কারা কী ষড়যন্ত্র করেছে, সব খবর আসছে। শান্তনুর বুথে আমার দেড়শো ভোটে হার হয়েছে। এসব কথায় যদি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে, আসুক! এ নিয়ে দলকে জানাব। দলই সঠিক ব্যবস্থা নেবে।” খবর দ্য ওয়ালের

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *