ঢাকা, শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন
মাত্র একটি উপায়ে ত্বকের ফাটা দাগ দূর হবে নিমিষেই
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

মাত্র একটি উপায়ে ত্বকের ফাটা দাগ দূর হবে নিমিষেই

আমাদের শরীরের ত্বক নানা কারণে ফেটে যায়। কারো ত্বক ফাটে মেদের কারণে আবার কারো ত্বক ফাটে অ’তিরিক্ত শুষ্কতার কারণে। আবার গর্ভবতী নারীদেরও মাতৃত্বকালীন সময়ে ত্বক ফেটে যায়। এ নিয়ে সবার দুশ্চিন্তার শেষ নেই। তবে অল্প পরিশ্রমে কিছু সহ’জ ঘরোয়া উপায়ে আম’রা সারাতে পারি বা ফেটে যাওয়ার আগেই নিশ্চিত করতে পারি ত্বকের সুরক্ষা। আসুন দেখে নিই।

প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণে প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন মাছ, ডিমের সাদা অংশ, দই, বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ, তরমুজের বীজ খাবেন। এগুলো আপনার ত্বককে জলযোয়িত রাখবে। শরীরের ফাটা দাগ নির্মূলে সহায়তা করবে।

নারী-পুরুষ উভ’য়েরই কম বেশি স্ট্রেচ মা’র্ক বা ত্বকের ফাটা দাগ থাকে। হুট করেই শারীরিক পরিবর্তনের ফলে এই ফাটা দাগ হয়ে থাকে। এতে সৌন্দর্যের উপর প্রভাব পরে।

তবে এতে ঘাবড়াবার কিছু নেই। কিছু ঘরোয়া উপায়ে খুব সহ’জেই এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। নারিকেল তেল, অ্যালো’ভেরা, চিনি আরো অনেক কিছু দিয়েই দূর করা যায় “স্ট্রেচ মা’র্ক” বা ত্বকের ফাটা দাগ। চলুন জেনে নেয়া যার এর প্রতিকারের উপায়-

ত্বকের ফাটা দাগ হওয়ার কারণ – অ’তিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়া কিংবা অ’তিরিক্ত ওজন থেকে দ্রুত চিকন হওয়া, সন্তান প্রসবের পর, বয়সন্ধিকালে শরীরে ফাটা দাগ দেখা দিতে পারে।ত্বক দ্রুত আকৃতি পরিবর্তন করলে বা সংকুচিত বা প্রসারিত হলে নারী-পুরুষ উভ’য়েরই এই দাগ হতে পারে। এর পেছনে কোনো রোগের ভূমিকা নেই। ত্বক যখন প্রসারিত হয়, তখন তার “কোলাজেন” দুর্বল হয়ে যায় এবং ত্বকের উপরিভাগে ফেটে যায় বা চেরা দাগ তৈরি হয়। চলুন জেনে নেয়া যাক স্ট্রেচ মা’র্ক বা ত্বকের ফাটা দাগ দূর করার উপায়-

চিনি – ত্বকের ফাটা দাগ তোলার “ক্লিনিকালি” প্রমাণিত একটি পদ্ধতি হলো “মাইক্রোডার্মাব্রেশন’।এই পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে চিনি। এক কাপ চিনির সঙ্গে এক কাপের এক চতুর্থাংশ পরিমাণ আলমন্ড অয়েল কিংবা নারিকেল তেল মিশাতে হবে। এবার সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে দাগ আ’ক্রান্ত অঞ্চলে স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন গোসলের আগে মিশ্রণটি মাখতে হবে। ৮ থেকে ১০ মিনিট মালিশ করতে হবে। এভাবে ভালো পাওয়া যায়।

“অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট” এবং প্রদাহরোধী উপাদান দুটোই আছে “শিয়া বাটার”। “ময়েশ্চারাইজিং”য়ে “শিয়া বাটার” অ’তুলনীয় এবং নিয়মিত ব্যবহার ত্বককে করে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও দূর করে মৃ’ত কোষ। বিশুদ্ধ “শিয়া বাটার” নিয়ে ফাটা দাগে সরাসরি প্রয়োগ করতে হবে। কিছুক্ষণ মালিশ করে রাখতে হবে। চাইলেই প্রতিদিন কয়েকবার এটি ব্যবহার করতে পারেন।

নারিকেল তেল – এই তেলের ক্ষয়রোধকারী উপাদান আছে, যা ত্বককে দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে। আর এজন্য অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে “ভা’র্জিন” নারিকেল তেল। দিনে দুইবার দাগ হওয়া স্থানে এই তেল লাগাতে হবে।

অ্যালো’ভেরা – ক্ষয়পূরণের পাশাপাশি ত্বক মসৃণ করতেও বেশ কার্যকরী অ্যালো’ভেরা। এতে আছে “গ্লুকোমানান” এবং “গিবেরেলিন” নামক উপাদান, যা ত্বকে “কোলাজেন” উৎপাদনের গতি বাড়ায় এবং ক্রমেই হালকা হয় ফাটা দাগ। অ্যালো’ভেরার থেকে জে’ল বের করে নিয়ে তাতে ‘ভিটামিন এ’ এবং ‘ভিটামিন ই’ ক্যাপসুলের তেল মিশিয়ে নিতে হবে। ভালো’ভাবে মিশিয়ে দাগ আ’ক্রান্ত অংশে লাগাতে হবে ।

ক্যাস্টর অয়েল – “রিসিনোলেইক অ্যাসিড” থাকে ক্যাস্টর অয়েলে, যা ত্বকের একটি “কন্ডিশনিং এজেন্ট”। তাই ফাটা দাগ দূরে এটি বেশ কার্যকরী। এর পাশাপাশি ত্বক ও চুলের জন্যও এই তেল উপকারি। ক্যাস্টর অয়েল সামান্য হালকা গরম করে ফাটা দাগ আ’ক্রান্ত অংশে ১৫ -২০ মিনিট মালিশ করতে হবে।

তবে যেকোনো জিনিস ব্যাবহার এর পূর্বে তা ভালো করে যাচাই করতে হবে। সব থেকে ভাল হয় যদি এ ব্যাপারে প্রথমে ডাক্তারের বা ঐ বিষ‍য়ের বিশেষজ্ঞের পরাম’র্শ নেয়া হয়। তাই যেকোনো পদ্ধতি অনুসরণের আগে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরাম’র্শ নিয়ে নেয়া ভালো।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *