ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
পাবনা প্রেসক্লাব সম্পাদক সৈকত’র বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার দাবি
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

পাবনা প্রেসক্লাব সম্পাদক সৈকত’র বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার দাবি

সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে পাবনা প্রেসক্লাবের সম্পাদক সৈকত আফরোজের বিরুদ্ধে পাবনা-২ আসনের সাবেক সাংসদ খন্দকার আজিজুল হকের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন জেলায় কর্মরত সাংবাদিকেরা। শনিবার দুপুরে তাঁরা জেলা শহরের আবদুল হামিদ সড়কে মানববন্ধন করেন। পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহারের সময়সূচি বেঁধে দিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেন তাঁরা। একই সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি তোলা হয়।

তিন দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জেলা থেকে প্রকাশিত সব স্থানীয় দৈনিকে সাদা কলাম স্থাপন, সাবেক সাংসদ খন্দকার আজিজুল হকের সব সংবাদ বর্জন ছাড়াও রোববার জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং সোমবার প্রতিবাদ সমাবেশ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানান, নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বেলা ১১টা থেকে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকেরা প্রেসক্লাবে সমবেত হতে থাকেন। দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা মধ্য শহরের আবদুল হামিদ সড়কে এসে বিক্ষোভ দেখান। পরে মানবন্ধন করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন তাঁরা। মানববন্ধন চলাকালে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদ, মামলা প্রত্যাহার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি তুলে বিভিন্ন পোস্টার, ব্যানার ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয়। সাংবাদিকদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিভিন্ন সামাজিক–সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরা মানববন্ধনে অংশ নেন।

মানববন্ধন চলাকালে পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইয়াদ আলী মৃধা পাভেলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, জেলা সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি আবদুল মতীন খান, সাধারণ সম্পাদক শহীদুর রহমান শহীদ, পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উৎপল মির্জা, আঁখিনূর ইসলাম রেমন, সাবেক সহসভাপতি কামাল আহম্মেদ সিদ্দিকী, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহবুব মোর্শেদ বাবলা, পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রাজিউর রহমান রুমী, পাবনা সংবাদপত্র পরিষদ কল্যাণ সম্পাদক এস এম মাহবুব আলম, পাবনা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক আহমেদ হুমায়ুন কবীর তপু, অর্থ সম্পাদক শুশিল তরফদার, কল্যান সম্পাদক সরোয়ার মোর্শেদ উল্লাস, দৈনিক জনকন্ঠের স্টাফ রির্পোটার কৃষ্ণ ভৌমিক, পাবনা টেলিভিশন ও অনলাইন সাংবাদিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রিজভী জয়, একাত্তর টিভির পাবনা প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল প্রমুখ। 

বক্তারা বলেন, খন্দকার আজিজুল হক একসময় জাসদ করতেন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে বিনা ভোটে সাংসদ নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে নদী দখল করে মার্কেট নির্মাণ, সরকারি সম্পত্তি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হন। ধারাবাহিক এই ক্ষিপ্ততার অংশ হিসেবে তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার করে হয়রানিমূলক মামলাটি করেছেন। সাংবাদিকদের এ ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে এই কালো আইন দ্রুত বাতিল প্রয়োজন।

সাংবাদিক উৎপল মির্জা বলেন, মামলার বাদী সাবেক সংসদ সদস্য আজিজুল হক আরজু রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সরকারী জমি দখল, চরমপন্থিদের মদদ দিয়ে নগরবাড়ি ঘাট এলাকায় চাঁদাবাজীর নেপথ্যেও নায়ক। তার বিরুদ্ধে যে কোন ধরনের সংবাদ করতে গেলেই তিনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সাথে অশোভন আচরণ করেন। অনৈতিক প্রস্তাবের মাধ্যমে সংবাদ বন্ধ করার চেষ্টা করেন, তাতে রাজি না হলে মামলা হামলারও ভয় দেখান। তিনি অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার না করলে তার সকল অপকর্ম গণমাধ্যমে তুলে ধরা হবে ধারাবাহিক ভাবে। 

পাবনা প্রেসক্লাবের সহ সম্পাদক ডেইলি ষ্টার প্রতিনিধি তপু আহমেদ বলেন, সম্প্রতিকালে দূর্বৃত্তরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে গণমাধ্যমকর্মীদেও হেনস্থা করতে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। সাহকর্মী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাবেক এমপির মামলা সেই ধারাবাহিকতারই নগ্ন বহি:প্রকাশ। 

দৈনিক প্রথম আলো প্রতিনিধি সরোয়ার উল্লাস বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার করে অসত্য অভিযোগ এনে পাবনা প্রেসক্লাব সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদ’র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এতে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের স্বাধিনতার বিরুদ্ধে তিনি অবস্থান নিয়েছেন বলে আমরা মনে করি। 

সাংবাদিক আব্দুল মতীন খান বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি গ্রস্তরা তাঁদের অপরাধ ঢাকতে এই আইনের অপব্যবহার করছেন। সাবেক সাংসদও একই কাজ করেছেন। ফলে, দ্রুত এই মামলা প্রত্যাহার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানাই।’

সভাপতির বক্তব্যে এ বি এম ফজলুর রহমান বলেন, ‘পাবনার প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকতা সারা দেশে মর্যাদার আসন প্রতিষ্ঠা করেছে। মামলা দিয়ে এই জেলার সাংবাদিকদের দুর্বল করা যাবে না। আমরা আগামী তিন দিনের মধ্যে এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় চলমান বিধিনিষেধ শেষ হলে ১০ আগস্ট থেকে সাবেক সাংসদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

গত ৮ মার্চ সাবেক সাংসদ খন্দকার আজিজুল হকের পৈতৃক বাড়ি জেলার বেড়া উপজেলার নাটিয়াবাড়ি গ্রামে আমিনপুর থানার পুলিশ একটি অস্ত্র তৈরি কারখানার সন্ধান পায়। সে ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। সাংবাদিক সৈকত আফরোজ সম্পাদিত পাবনা মেইল টোয়েন্টিফোর ডটকমে ‘সাবেক এমপির ভাতিজার বাড়িতে কারখানা, আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার, আটক ২’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে পাবনা-২ আসনের সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খন্দকার আজিজুল হক সাংবাদিক সৈকত আফরোজের বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। শনিবার দুপুরে শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে শতাধিক সংবাদকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতকি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। 

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকতার নীতি মেনে অভিযুক্তের বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরেও পাবনা-২ আসনের সাবেক এমপি আজিজুল হক আরজু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার করে সাংবাদিক সৈকতের বিরুদ্ধে সম্প্রতি সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন। সংবাদকর্মীদের কন্ঠরোধ করতেই তিনি এ মামলা দায়ের করেছেন বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। অবিলম্বে এই মামলাটি প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে বলে জানান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। 

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *