ঢাকা, শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৩ অপরাহ্ন
কুমিল্লায় গণটিকা কেন্দ্রগুলোতে পুরুষের চাইতে মহিলা বেশি
মশিউর রহমান সেলিম

কুমিল্লায় গণটিকা কেন্দ্রগুলোতে পুরুষের চাইতে মহিলা বেশি

কুমিল্লার লাকসাম পৌরএলাকাসহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন জুড়ে মহামারী করোনার ভয়াবহতা কোন ক্রমেই যেনো পিছু ছাড়ছে না। প্রতিনিয়ত রেকর্ড গড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার। এলাকার মানুষ এতদিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলা মানুষদের মনেও এখন এ ভয় ঢুকেছে করোনার বর্তমান পরিস্থিতি। আজ শনিবার থেকে মহামারী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গণ টিকাদান কর্মসূচী শুরু করেছে লাকসাম পৌরপরিষদ, উপজেলা প্রশাসনসহ উপজেলা স্বাস্থ্যদপ্তর কর্তৃপক্ষ। ৭ আগষ্ট থেকে ১২ আগষ্ট পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রায় ৪০ হাজার ডোজ টিকা নারী-পুরুষের মাঝে প্রয়োগ করবেন তারা। পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন গণটিকা কেন্দ্রগুলোতে পুরুষের চাইতে মহিলার উপস্থিতি ছিলো অনেক বেশি। তবে সকল কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি অনেকটাই ছিলো উপেক্ষিত। 

এলাকার জনৈক স্বাস্থ্যকর্মী জানায়, এতদিন করোনার টিকা নিতে অনীহা ছিলো সাধারণ মানুষের। সময়ের বির্বতনে এখন তারাও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন টিকা নিতে এবং ভীড় জমাচ্ছেন গণ টিকা কেন্দ্রগুলোতে। ১ম দফায় প্রত্যেক  কেন্দ্রে ৬’শ ডোজ টিকা প্রয়োগ করবে এবং পর্যায়ক্রমে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে টিকা প্রয়োগ করা হবে। বর্তমানে সাময়িক ভাবে টিকার কিছুটা সংকট থাকলেও আগামী ৪/৫ দিনের মধ্যে এ সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। গণটিকা কেন্দ্রগুলোতে পুরুষের চাইতে মহিলার সংখ্যা অত্যাধিক বেশি হওয়ার ফলে স্বাস্থ্যবিধি ছিলো অনেকটাই অনুপস্থিত। টিকা কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ, আনসারের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয়েছে। তারপর নানাহ ভাবে সচেতনতার কথা জানিয়ে দিলেও তা যেনো কেহই মানতে নারাজ। 

স্থানীয় লোকজনের একাধিক সূত্র জানায়, গণটিকা কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকে দু’লাইনে দাড়িয়ে নারী-পুরুষরা অপেক্ষারত থাকলেও স্থানীয় একটি পেশীচক্র জোরপূর্বক নিয়মের বাহিরে গিয়ে এ টিকা প্রয়োগ করে নেন। আজ সকাল থেকেই লাকসাম পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক আবুল খায়ের, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.কে.এম সাইফুল আলম ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নাজিয়া বিনতে আলম গনটিকা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন। এছাড়া পৌরএলাকার কেন্দ্রগুলোতে স্ব স্ব ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও উপজেলার কেন্দ্রগুলোতে স্ব স্ব ইউপি চেয়ারম্যান এবং মেম্বার ছাড়াও স্থানীয় আওয়ামীলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ তদারকির দায়িত্ব পালন করেছেন। আবার এরই মধ্যে গণটিকা কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা নেতৃবৃন্দ একাধিক মাইক দিয়ে প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ গণটিকা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে করোনার টিকা প্রয়োগ করতে আহবান জানিয়েছেন। 

লাকসাম সরকারি হাসপাতালের জনৈক চিকিৎসক জানায়, হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের চাপও অনেক বেড়ে গেছে। তবে আজ থেকে গণটিকা কেন্দ্র চালু হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং কমছে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা অনেক নারী পুরুষই মানতে চায় না। ৩রা আগষ্ট  পর্যন্ত লাকসাম সরকারি হাসপাতালে করোনা টিকার রেজিঃ করেছে ৩৭হাজার ৮০ জন, ৩৯ হাজার ৭’শকরোনা টিকা ডোজের মধ্যে মানুষের মাঝে ৩রা আগষ্ট পর্যন্ত প্রয়োগ হয়েছে ২২হাজার ২’শ৪১ জন, আক্রান্ত হয়েছে ১হাজার ৬’শ৫৫ জন, মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মানুষের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮’শ৫৪ জনের। হাসপাতালে ভর্তি আছে ৮৫ জন। এছাড়[া ৭আগষ্ট থেকে ১২ আগষ্ট পর্যন্ত লাকসাম পৌরসভা ৯টি ওয়ার্ড ও উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ৪০ হাজার ডোজ করোনা টিকা গণহারে মানুষের মাঝে প্রয়োগ করা হবে।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *