ঢাকা, মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন
১৪-১৮ বছর বয়সিদের আত্মহত্যায় বাংলা দ্বিতীয়, প্রথম কারণ পড়াশোনার চাপ
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

১৪-১৮ বছর বয়সিদের আত্মহত্যায় বাংলা দ্বিতীয়, প্রথম কারণ পড়াশোনার চাপ

বিগত কয়েক বছরের মতো ফের আত্মহত্যা সংক্রান্ত সর্বভারতীয় রিপোর্ট চিন্তায় রাখল বাংলাকে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টে উঠে এসেছে ২০১৭-২০১৯, এই তিন বছরে দেশে ওই বয়সিদের আত্মহত্যার সংখ্যা প্রায় ২৪ হাজার! এই রিপোর্টে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দ্বিতীয় স্থানেই আছে বাংলা।

কী কারণে এত আত্মহত্যা নাবালক-নাবালিকা, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে? অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে পড়াশোনাজনিত সমস্যাকেই তুলে ধরা হয়েছে রিপোর্টে। এই পরিসংখ্যান অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


বিগত এক দশকে যেখানে দেশে পরীক্ষায় নম্বরের ছড়াছড়ি, সেখানে দাঁড়িয়ে পড়াশোনাজনিত কারণে আত্মহত্যার সংখ্যা চার হাজারেরও বেশি। তাহলে কি সঠিক মূল্যায়ন বা পারিপার্শ্বিক চাপের মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছে এই বয়সি ছেলেমেয়েরা?

পড়াশোনার সমস্যা ছাড়াও এই রিপোর্ট প্রেম গঠিত কারণ, গুরুতর অসুস্থতার কারণ ও বিবাহ সংক্রান্ত জটিলতাকে তুলে ধরেছে।

এই রিপোর্ট প্রসঙ্গে দ্য ওয়ালকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় শহরের অন্যতম ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট সাহেলি গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ‘আত্মহত্যা কোনও মুহূর্তের তাৎক্ষণিক  তাড়না। আত্মহত্যার কারণ একান্তই ব্যাক্তিকেন্দ্রিক হয়। যা ব্যাক্তির আর্থ-মনো-সামাজিক অবস্থার অসামঞ্জস্য থেকে সৃষ্ট অসহায়তার দ্বারা তৈরি করতে পারে। সেই জন্যই সেই ব্যক্তির সঙ্গে কারণটিও চলে যায়, পড়ে থাকে শুধু অনুমানের অপশনটুকুই।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘সেখানে শুধুমাত্র অবসাদের কথা বললে সরলীকরণ হবে। এরা সমর্থক না। এই তাৎক্ষণিক তাগিদ যাকে ইম্পালসিভ অ্যাক্ট বলা হয় তার পেছনে কখনও লজ্জা, কখনও অসহায়তা, কখনও তীব্র রাগ। কখনও তার সমাজের প্রতি, কখনো নিকট পরিজনদের প্রতি, কখনো তা নিজের প্রতিও হয়। কোনো বিশেষ কথা বা ঘটনা এমনকি মুহূর্তে তা ট্রিগার হতে পারে।’

অন্যদিকে, মনোবিদ শর্মিলা সরকার এই রিপোর্ট প্রসঙ্গে দ্য ওয়ালকে জানান, ‘বর্তমানে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে এত বেশি সময় কাটানোর জন্যই সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে এই বয়সের ছেলেমেয়েরা। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের জগৎটাকে নিজের জগৎ ভেবে নিয়েই চাহিদা বাড়ছে।’ এছাড়াও এই বয়সিদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধির জন্য ধৈর্য্যের অভাবকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। এছাড়াও এই বয়সিদের ছেলেমেয়েদের মানসিকতা পরিপূর্ণতা পায় না। তাই এর অনেক বেশি আবেগপ্রবণ হয়। আর এই আবেগপ্রবণতাই এই বয়সিদের আত্মহত্যার দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন শর্মিলাদেবী।

রিপোর্ট প্রকাশ পাওয়ার পরেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখিত বয়সিদের মধ্যে দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মধ্যপ্রদেশ। সংখ্যাটা ৩,১১৫। মধ্যপ্রদেশের ঠিক নিচেই আছে বাংলা। পশ্চিমবঙ্গে এই দুই বছরে সংখ্যাটা ২,৮০২। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছে মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ু। এই দুই রাজ্যে সংখ্যাটা যথাক্রমে ২,৫২৭ ও ২,০৩৫। দ্য ওয়ালের / এনবি এস /২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *