ঢাকা, শনিবার ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
ভারতে প্রতি বছর সাপের কামড়ে মারা যান বহু মানুষ, নেপথ্যে শুধুই অশিক্ষা, কুসংস্কার
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

ভারতে প্রতি বছর সাপের কামড়ে মারা যান বহু মানুষ, নেপথ্যে শুধুই অশিক্ষা, কুসংস্কার

জঙ্গলের আনাচে কানাচে গাছগাছালির ফাঁকফোকরে আস্তানা তাদের। কিন্তু জঙ্গল আর কোথায়। চারপাশে কার্যত বিনা বিচারেই কাটা পড়ছে গাছ। যত দিন যাচ্ছে ততই সাপেদের ডেরা খতম হচ্ছে। আর তারা ঢুকছে লোকালয়ে।

গত এক শতকে ভারতের নানা প্রান্তে সাপের কামড়ে মারা গিয়েছেন বারো লাখের বেশি মানুষ, পরিসংখ্যান বলছে তেমনটাই। মুম্বইয়ের আইসিএমআর ল্যাবরেটরিতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন রিপ্রোডাকটিভ হেলথের গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। সাপের কামড়ের চিকিৎসায় গাফিলতি, অজ্ঞানতা সর্বোপরি অবহেলাই এর মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। আর এই অবহেলা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বিভিন্ন আদিবাসী ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে।


আজও গ্রামে গঞ্জে সাপে কাটলে ডাক্তার বা হাসপাতালে যাওয়ার কথা ভাবেন না অধিকাংশ মানুষ। তাঁরা প্রথমেই ওঝার শরণাপন্ন হন। ওঝার আজগুবি ঝাড়ফুক তুকতাকে বেশিরভাগ মানুষকেই কার্যত বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়।

ইতিমধ্যে সর্পদংশনকে ক্রান্তীয় অঞ্চলের সবচেয়ে অবহেলিত রোগের আখ্যা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সারা পৃথিবীতে প্রতি বছর ৫৪ লাখ সর্পদংশনের ঘটনা ঘটে। মৃত্যু হয় ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখের কাছাকাছি। এছাড়া সাপে কাটার পর বহু মানুষ প্রাণে বাঁচলেও দীর্ঘস্থায়ী জটিলতার মুখোমুখি হন।

পরিসংখ্যান বলছে সারা পৃথিবীতে যত সর্পদংশনে মৃত্যু্র ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে ৫০ শতাংশই হয়েছে ভারতে। এদের মধ্যে মূলত আছেন চাষী, শ্রমিক, শিকারী, রাখাল, সর্প বিশেষজ্ঞরা। কারণটা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সাপে কাটলে যে অ্যান্টিভেনাম ইঞ্জেকশন দিতে হয়, তা এক কথায় জীবনদায়ী। কিন্তু এই ইঞ্জেকশন সকলে দিতে পারেন না। এর জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয়। সর্পদংশনে মৃত্যু্র এটাও অন্যতম কারণ। সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ চিকিৎসক খুঁজে পাওয়া যায় না। খবর দ্য ওয়ালের /এনবিএস /২০২১/ একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *