ঢাকা, বুধবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৪০ অপরাহ্ন
সিস্টেম হ্যাক করে স্বপ্নের ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৩
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

সিস্টেম হ্যাক করে স্বপ্নের ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৩

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, চক্রের হোতা মো. নাসিমুল ইসলাম, রেহানুর হাসান রাশেদ ও রাইসুল ইসলাম। এ সময় তাদের কাছ থেকে হ্যাকিংয়ের কাজে ব্যবহৃত ৬টি মোবাইল সেট, ২টি ল্যাপটপ ও ১টি সিপিইউ, ক্রিপ্টোকারেন্সি, নগদ টাকা, ইলেকট্রনিক কার্ড ও ‘স্বপ্ন’ ই-ভাউচারের মাধ্যমে ক্রয়কৃত বিপুল পরিমাণ পণ্য সামগ্রী জব্দ করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষায়িত সিটিটিসি ইউনিট বলছে, সুপার শপ ‘স্বপ্ন’ ও ফ্রিল্যান্সারডটকমসহ দেশি-বিদেশি একাধিক ওয়েবসাইট হ্যাক করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দেশিয় এ হ্যাকার চক্র। শুধুমাত্র সুপার শপ স্বপ্নর ডিজিটাল সিস্টেম হ্যাক করে চক্রটি ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

রবিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স সেন্টারে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামান বলেন, সুপার শপ ‘স্বপ্ন’ তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সারাদেশের ১৮৬টি আউটলেটের সেলস মনিটরিং, ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট, কর্মী ব্যবস্থাপনা, আর্থিক লেনদেনের হিসাব ও ডিজিটাল ভাউচার ম্যানেজমেন্টসহ সকল ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ‘স্বপ্ন’ -এর ডিজিটাল সিস্টেমটি তাই এডভান্স সাইবার সিকিউরিটি প্রটোকল অনুযায়ী অত্যন্ত সুরক্ষিত করে তৈরি করা হয়েছিল।

তবে গত ২৬ জুন থেকে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে সুপার শপ ‘স্বপ্ন’র শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ব্রিচ করে বিপুল অংকের অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক ডিজিটাল ভাউচার জেনারেট করে বিক্রি করা হয়। বিষয়টি স্বপ্ন কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে তারা সিটিটিসি- সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের কাছে অভিযোগ জানান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ছায়া তদন্ত শুরু করে আমাদের একটি চৌকশ টিম। তদন্তের ধারাবাহিকতায় স্বপ্ন সুপার শপের ডিজিটাল সিস্টেমের ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও রিভার্স এনালাইসিসসহ উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে হ্যাকার চক্রটির ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট শনাক্ত করতে আমরা সক্ষম হই। শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর মিরপুর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। চক্রের হোতা মো. নাসিমুল ইসলাম বগুড়া পলিটেকনিক থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার পাস করে হ্যাকার গ্রুপের সদস্য হন।

গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সিটিটিসি প্রধান জানান, স্বপ্নর ডিজিটাল সিস্টেম হ্যাক করে ১৮ লাখ টাকা মূল্যের ডিজিটাল ভাউচার ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে ২৫% ছাড়ে কয়েকটি ই-কমার্স ব্যবহারকারীদের কাছে বিক্রি করে চক্রটি। এভাবে তারা জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি একাউন্টে জমা করে। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইস থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়াও এই হ্যাকার গ্রুপটি প্রথমসারির বাংলাদেশি এয়ারলাইন্স, দেশের প্রসিদ্ধ বাস কোম্পানি, ইলেকট্রনিক গেজেট চেইন আউটলেটসহ স্বনামধন্য অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে।

আসাদুজ্জামান আরও বলেন, এমনকি চক্রটি সুচতুর এই হ্যাকারদের কাছে সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমের একসেস রয়েছে। তারা বিভিন্ন ডার্ক ওয়েব মার্কেট থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিময়ে লগ ইন ক্রিডেনশিয়াল ক্রয় করে, যা ডিজিটাল ভাউচার তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় বলেও তথ্য প্রদান করে। এছাড়াও তারা ফ্রিল্যান্সারডটকম নামের বিদেশি একটি ওয়েবসাইট হ্যাক করে বিপুল পরিমাণ বিটকয়েন হাতিয়ে নিয়েছে। এসব বিষয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: