ঢাকা, সোমবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন
বিপ্লব দেবের বাবার জমিদারি নয়! ত্রিপুরা থেকে বিজেপিকে উপড়ে ফেলার হুঁশিয়ারি অভিষেকের
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

বিপ্লব দেবের বাবার জমিদারি নয়! ত্রিপুরা থেকে বিজেপিকে উপড়ে ফেলার হুঁশিয়ারি অভিষেকের

ত্রিপুরায় (tripura) বিজেপির (bjp) শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে। এদিন সন্ধেয় তৃণমূল (trinamool congress) নেতাদের মুক্তির পরে এমনটাই মন্তব্য করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (abhishek banerjee)। একই সঙ্গে তিনি জোর গলায় বলেন, বিজেপিকে কী করে হারাতে হয়, তা জানে তৃণমূল কংগ্রেস।


অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন ত্রিপুরায় দাঁড়িয়ে অভিযোগ করেন, যাঁরা আক্রান্ত, তাঁদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। আর যারা মারছে, তাদেরকে প্রশাসন আড়াল করে রাখছে। তিনি বলেন, পুলিশ কোন রাজনৈতিক দলের কথা করছে, তা তিনি জানেন। এটা আলাদা করে বলার কিছু নেই। এব্যাপারে তিনি প্রশাসনকে দোষ দেন না, কারণ আধিকারিকরা তাঁদের পদ বাঁচানোর স্বার্থে এইসব কাজ করতে হচ্ছে।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন. যদি বিপ্লব দেবের সরকার ভেবে থাকে ভয় দেখিয়ে, পাথর মেরে, গাড়ি ভেঙে তৃণমূলকে দমিয়ে রাখা যাবে, তাহলে তারা মুর্খের স্বর্গে বাস করছে। ত্রিপুরার বিজেপির সরকারের শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে তিনি। তিনি বলেছেন, এরা যত তৃণমূলকে আঘাত করবে, ততই তাদের জেদ বাড়বে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, আইনজীবীরা আদালতে পৌঁছতে পারছেন না। তাঁদের গাড়িও ভাঙচুর করা হচ্ছে। তিনি এদিন দলের নেতা সুবল ভৌমিকের গাড়ির ওপরে হামলার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন।


অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ত্রিপুরার চারিদিকে নৈরাজ্য, অরাজকতা, অনাচার। তিনি বলেছেন, মানুষ সিপিএম-এর ২৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল এক বুক স্বপ্ন নিয়ে। তিনি বলেন, তারপর বিজেপি এই রাজ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তাতে ত্রিপুরাকে একশো বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরায় উন্নয়ন এবং অগ্রগতি কিছুই নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। যাঁদের ওপরে হামলা করা হচ্ছে, তাঁদেরকেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রাথমিক যে সহায়তা করার কথা, তাও করা হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেছেন সুদীপ রাহার মাথায় আঘাত লাগলেও পুলিশ কোনও সাহায্য করেনি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, শনিবার রাতে ১৪ জন থানা থেকে বেরনোর সময় তাঁদেরকে বলা হয়, এখন বেরোবেন না। রাস্তায় বিজেপির হামলা হতে পারে। সেই ভরসায় তাঁরা থানাতেই থেকে যান। কিন্তু সকাল পাঁচটা বাজতে না বাজতেই তাঁদেরকে গ্রেফতার করা হয়। বলা হয়ে নিয়ম ভেঙেছেন, তাই গ্রেফতার। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্টে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিজেপি আইনভঙ্গ করে জমায়েত করলেও তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ত্রিপুরা কি মঙ্গলগ্রহ, প্রশ্ন করেন তিনি। তিনি বলেন এই দ্বিচারিতা বেসিদিন চলবে না। ১৭ মাস থেকে ১৮ মাস। বিপ্লব দেবের শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে। আর বিজেপিকে কী ভাবে হারাতে হয়, তা তৃণমূল জানে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন মোদীজির ডাবল ইঞ্জিন সরকার ত্রিপুরায় কত ভাল চলছে, সবাই দেখছেন। পুলিশের সামনেই হামলার ঘটনা ঘটছে। তিনি দুবার ত্রিপুরায় এসেছে। সেই দুবারেই তৃণমূল কংগ্রেসের গাড়ি ভাঙা হয়েছে। তাঁদের কর্মীদের ওপরে পাথর দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ত্রিপুরা বিপ্লব দেবের বাবার জমিদারি নয়, এই রাজ্য এখানকার মানুষের। তিনি বলেছেন, বিজেপি যদি মনে করে বিজেপি হামলা চালিয়ে যাবে, তাহলে তারা ভুল করছে। আগামী দেড় বছর সময়ে যত রকমের সংঘর্ষ করার তৃণমূল করবে আর বিজেপির সরকারকে তুলে ফেলে দেবে, এমনটাই চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেছেন এবার থেকে সপ্তাহে তিন দিন সেখানে যাবেন। আর যতদিন না বিজেপি সরকারকে উৎখাত করা যাচ্ছে, ততদিন তিনি সেখানে যাবেন।

শনিবার আমবাসায় তৃণমূলের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া দেবাংশু ভট্টাচার্য, জয়া দত্ত-সহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করে ত্রিপুরা পুলিশ। রবিবার আগে থেকে ঘোষণা মতোই সকালে ত্রিপুরা পৌঁছে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সকালেই ত্রিপুরায় যান, রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, কুণাল ঘোষ, দোলা সেন। যদিও গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল নেতাদের আদালতে তোলা হলে পুলিশ তাঁদের সবাইকেই জামিন দেয়। খবর ওয়ান ইন্ডিয়ার  /এনবিএস /২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: