ঢাকা, সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:০৩ অপরাহ্ন
আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে যেসব মানুষকে ক’ষ্ট দিলে
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে যেসব মানুষকে ক’ষ্ট দিলে

সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। এ মানুষদের মধ্যে ৩ শ্রেণির মানুষকে ক’ষ্ট দিলে কিংবা আ’ঘাত করলে আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠেছে বলেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

এসব মানুষ হলো তারা, যারা সৃষ্টিগতভাবেই অসহায়। আর তারা হলো- প্রতিবন্ধি, পাগল ও অসহায় নারী। যাদের প্রতি ইহসান করলে আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও পরকালে মানুষকে মুক্তির ব্যবস্থা করে দেবেন।

অসহায় নারী, প্রতিবন্ধি ও পাগলদের প্রতি অ’ত্যাচার-নি’র্যাতন করলে যেমন আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে তেমনি তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করলে দুনিয়া ও পরকালের মুক্তিও সুনিশ্চিত।

যদিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমাজের সব মানুষকে সমান দৃষ্টিতে দেখতেন তথাপিও তিনি প্রতিবন্ধি ও অসহায়দের অধিকারের ব্যাপারে খুব বেশি সজাগ ছিলেন। তিনি প্রতিবন্ধিদের বিশেষ ম’র্যাদা দিতেন। যার প্রমাণ হ’জরত বেলাল ও হ’জরত উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু আনহু’মা।

হ’জরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু মৃদু বাক প্রতিবন্ধি ছিলেন। তারপরও তিনি হ’জরত বেলালকে ম’সজিদে নববির মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগি দিয়েছিলেন।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি সাহাবি হ’জরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমকে ম’দিনার অস্থায়ী শাসনক’র্তা হিসেবে নিযু’ক্ত করেছিলেন।

এমনকি তিনি যখনই তাকে (আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম) দেখতেন, তখনই বলতেন, ‘স্বাগতম জানাই তাকে, যার ব্যাপারে আল্লাহ আমাকে ভর্ৎসনা করেছেন।’

অন্ধ সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমকে কোনো এক বিষয়ে তার কথার অগ্রাধিকার না দেয়ায় আল্লাহ তাআলা সতর্কতামূলক আয়াত নাজিল করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘সে ভ্রুকুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল, কারণ তার কাছে অন্ধ লোকটি এল। তুমি কেমন করে জানবে, সে হয়তো পরিশুদ্ধ হতো অথবা উপদেশ গ্রহণ করত। ফলে উপদেশ তার উপকারে আসতো।’ (সুরা আবাস : ১-৪)

এ আয়াত নাজিলের পর থেকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিবন্ধিদের বিষয়ে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করেন। তাদের প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে দেন। তাদেরকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে থাকেন। আর প্রতিবন্ধিদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম সুমহান আদর্শও বটে।

মনে রাখতে হবে – প্রতিবন্ধি, পাগল, অসহায় নারী সমাজের মানুষদেরই একটা অংশ। তাদের বাদ দিয়ে সুন্দর সমাজ কল্পনা করা যায় না। তাদের প্রতি সহম’র্মিতা দেখালে দুনিয়া ও পরকালের মুক্তি সুনিশ্চিত।

এসব অসহায় মানুষদের ন্যূনতম মৌলিক অধিকারগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা যেমন জরুরি তেমনি এগুলো তাদের অধিকার। তাই প্রতিবন্ধিদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা দেখানো ও সহনুভূতিশীল হওয়ার কথা বলেছেন বিশ্বনবি। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোম’রা ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, অ’সুস্থ (প্রতিবন্ধি) ব্যক্তির খোঁজ খবর নাও এবং ব’ন্দিদের মুক্ত করে দাও।’ (বুখারি)

সুতরাং প্রতিবন্ধি, পাগল ও অসহায় নারীদের প্রতি অবিচার নয়। তাদের প্রতি সুবিচার করার মাধ্যমে আল্লাহর আজাব ও অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।

কেননা তাদের প্রতি বেখেয়াল হওয়ার কারণেই আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সতর্কতামূলক ওহি নাজিল করেছিলেন।

আল্লাহ তাআলা মু’সলিম উম্মাহকে প্রতিবন্ধি, পাগল ও অসহায় নারীদের প্রতি সহনুভূতিশীল হওয়ার পাশাপাশি তাদের অধিকারের প্রতি লক্ষ্য রাখার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *