ঢাকা, সোমবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন
সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নামা করেন? তাহলে জেনে নিন এই বিষয়গুলো
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নামা করেন? তাহলে জেনে নিন এই বিষয়গুলো

সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নামা করার সময় সারা শ’রীরে র’ক্তের প্রবাহ এতটা বেড়ে যায় যে র’ক্তচা’প স্বা’ভাবিক মাত্রায় নেমে আসতে সময় লাগে না। সেই স’ঙ্গে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের মতো মা’রণ রোগে আক্রা’ন্ত হওয়ার আশ’ঙ্কাও কমে। এখানেই শেষ নয়, সিঁড়ির স’ঙ্গে ব’ন্ধুত্ব পাতা’লে মেলে আরও অনেক শা’রীরিক উপকার।

মনকে চাঙ্গা করে তোলে: কথাটা শোনার পর নিশ্চয় অ’বাক হচ্ছেন, কিন্তু একথার মধ্যে কোনও ভুল নেই যে মন খা’রাপের প্রকোপ কমিয়ে মুডকে চাঙ্গা করে তুলতে সিঁড়ির ব্যবহার বিশেষ ভূমিকা পা’লন করে থাকে। আ’সলে সিঁড়ি দিয়ে ওঠা বা নামা’র সময় আমাদের মস্তিষ্কের অন্দরে এন্ডোরফিন নামক “ফিল গুড” হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে স্বা’ভাবিকভাবেই মন চাঙ্গা হয়ে উঠতে সময় লাগে না। তাই তো এবার থেকে কাজে’র চা’পে বা অন্য কারণে মন ক্ষ’তবিক্ষ’ত হলেই সিঁড়ির সামনে এসে দাঁড়াবেন, দেখবেন নিমেষে সব ভালো লাগতে শুরু করবে।

একস’ঙ্গে দুটো সিঁড়ি ভাঙলে মিলবে বেশি উপকার: একাধিক স্টাডিতে দেখা গেছে একটা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় একটা একটা করে সিঁড়ি ভা’ঙার পরিবর্তে যদি একস’ঙ্গে দুটো করে সিঁড়ি টোপকে টোপকে ওঠা যায়, তাহলে আরও বেশি উপকার মেলে। কারণ এমনটা করলে শ’রীরের অন্দরে উপকারি হরমোনের ক্ষরণ যেমন বেড়ে যায়, তেমনি শ’রীরের প্রতিটি পেশীর ক’র্মক্ষ’মতা বৃ’দ্ধি পায়। সেই স’ঙ্গে অক্সিজেন সমৃদ্ধ র’ক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়। ফলে স্বা’ভাবিকভাবেই প্রতিটি অ’ঙ্গের ক’র্মক্ষ’মতা বৃ’দ্ধি পায়।

জয়েন্টের ক’র্মক্ষ’মতা বাড়ে: বয়সের স’ঙ্গে স’ঙ্গে আমাদের শ’রীর যেমন বুড়ো হতে থাকে, তেমনি জয়েন্টের সচলতাও কমতে শুরু করে। ফলে ব্য’থা-যন্ত্রাণায় জীবন জর্জ’রিত হয়ে ওঠে। আপনি যদি না চান আপনার স’ঙ্গে ও এমনটা হোক, তাহলে ভুলেও লিফট ব্যবহার করবেন না। পরিবর্তে সিঁড়ির স’ঙ্গে ব’ন্ধুত্ব পাতাতে হবে। কারণ খেয়াল করে দেখবেন সিঁড়ি ব্যবহার করলে জয়েন্টের ক’র্মক্ষ’মতা বেড়ে যায়। ফলে শ’রীরের বয়স বাড়লেও তার প্র’ভাব জয়েন্টের উপর পরতে পারে না।

পায়ের পেশীর সচলচতা বৃ’দ্ধি পায়: সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা’র সময় আম’রা আমাদের গ্র্যাভিটির বিপরীত মুখি হই। তাই এই সময় নিজে’র ওজনকে সামলে একের পর এক ধাপ নিয়ে উপরে ওঠার সময় পায়ের পেশীর উপর চা’প পরতে থাকে। এমনটা দিনের পর দিন হতে থাকলে একদিকে যেমন পায়ের নিচের অংশের ক’র্মক্ষ’মতা বৃ’দ্ধি পায়। তেমনি পে’টের পেশীর সচলতাও বাড়তে থাকে। ফলে বেলি ফ্যাট কমা’র সম্ভাবনা বৃ’দ্ধি পায়।

হাড়ের স্বা’স্থ্যের উন্নতি ঘ’টে: সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নাম করলে বোন ডেনসিটির উন্নতি ঘটতে শুরু করে। ফলে স্বা’ভাবিকভাবেই হাড় শক্তপোক্ত হতে শুরু করে। সেই স’ঙ্গে আর্থ্রাইটিসের মতো রোগে আক্রা’ন্ত হওয়ার আশ’ঙ্কাও হ্রাস পায়। এই কারণেই তো ৪০-এর পর থেকে মহিলাদের লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহারের প’রাম’র্শ দিয়ে থাকেন চিকি’ৎসকেরা।

জিমের সমান উপকার মেলে: জিমে গিয়ে ৩০ মিনিট ঘাম ঝরালে যতটা উপকার পাওয়া যায়, ততটা না হলেও কিছু কম উপাকার পাওয়া যায় না সিঁড়ি ব্যবহার করলে। একাধিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত ওঠা-নামা করলে যে পরিমাণ ক্যালরি বার্ন হয়, তা অন্য কোনও এক্সারসাইজ করলে হয় না। তাই শা’রীরিক ভাবে চাঙ্গা থাকতে এবং ওজনকে নি’য়ন্ত্রণে রাখতে সিঁড়ির স’ঙ্গে ব’ন্ধুত্ব ক’রতে ভুলবেন না যেন!

ওজন কমতে থাকে: অ’তিরি’ক্ত ওজনের কারণে কি চিন্তায় রয়েছেন? তাহলে ভুলেও লিফটের দিকে পা বাড়াবেন না। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত সিঁড়ি ভা’ঙার অভ্যাস করলে শা’রীরিক সচলচতা বৃ’দ্ধি পায়। সেই স’ঙ্গে শ’রীরে জমতে থাকা অ’তিরি’ক্ত ক্যালরি ঝরতে শুরু করে। ফলে স্বা’ভাবিকভাবেই ওজন কমা’র সম্ভাবনা বৃ’দ্ধি পায়, যা লিফট ব্যবহার করলে কখনই সম্ভব হত না।

হার্টের ক’র্মক্ষ’মতা বৃ’দ্ধি পায়: যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করার সময় সারা শ’রীরে অক্সিজেন সমৃদ্ধ র’ক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়। সেই শঙ্গে হার্টের ক’র্মক্ষ’মতাও বৃ’দ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে স্বা’ভাবিকভাবেই কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজে আক্রা’ন্ত হওয়ার আশ’ঙ্কা হ্রাস পায়। যাদের পরিবারে হার্টের রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের তো এই কারণেই বেশি করে সিঁড়ি ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: