ঢাকা, শনিবার ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন
কেন্দ্রের নতুন ওবিসি সংরক্ষণ বিলে কী আছে? সব বিরোধীরাই সমর্থনে প্রস্তুত
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

কেন্দ্রের নতুন ওবিসি সংরক্ষণ বিলে কী আছে? সব বিরোধীরাই সমর্থনে প্রস্তুত

 সংসদের বাদল অধিবেশনের শেষ সপ্তাহ শুরু হল সোমবার। গত তিন সপ্তাহ ধরে পেগাসাস ইস্যুতে সংসদের অধিবেশন কার্যত অচল করে রেখেছিল বিরোধীরা। তাছাড়া তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতেও সরগরম ছিল অধিবেশন। বিরোধীদের হই-হট্টগোলে একটা দিনও অধিবেশন চলেনি। হাতে আর মাত্র চারদিন অবশিষ্ট। বাদল অধিবেশন চলবে ১৩ তারিখ অবধি। তার আগেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করিয়ে নিতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। তার মধ্যে একটি হল ‘ওবিসি বিল’। সংসদের দীর্ঘকালীন অচলাবস্থার পরে এখন ওবিসি বিলই হাতিয়ার কেন্দ্রের। এই বিল পাশ করানোর ব্যাপারে বিরোধীরাও সরকারকে সমর্থন করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সোমবার সকালে সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে বৈঠক হয় বিরোধীদের। জানা গেছে, এই প্রথমবার সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীন উভয় কক্ষেই এই বিল নিযে আলোচনা, ভোটাভুটি হতে পারে।

সূত্রের খবর, সম্ভবত এই সপ্তাহের শেষেই ওবিসি বিল পাশ হতে পারে সংসদে। শীর্ষ আদালতের রায়কে খারিজ করে অনগ্রসর শ্রেণির তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে রাজ্যগুলির হাতে বাড়তি ক্ষমতা তুলে দিতে পারে সরকার। অনগ্রসর ও অনুন্নত শ্রেণির সামাজিক ও শিক্ষাগত অগ্রগতির জন্য সরকারের এই প্রস্তাবে সায় দিতে বাধ্য থাকবে বিরোধীরাও।

অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণিতে কারা থাকবেন তা ঠিক করতে পারবে রাজ্যগুলিও। সামাজিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির তালিকা এখনও তৈরি করে রাজ্যগুলি। তবে গত ৫ মে মারাঠা সংরক্ষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যগুলির এই ক্ষমতা কেড়ে নেয়। সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ মহারাষ্ট্রে শিক্ষায় ও চাকরিতে মারাঠাদের সংরক্ষণ বাতিল করে, সেই সঙ্গে শীর্ষ আদালতের রায়ে এও বলা হয়, কোনও রাজ্যেই শিক্ষায় ও চাকরির ক্ষেত্রে সংরক্ষণের ঊর্ধ্বসীমা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে না। সরকার শুধুমাত্র তার রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণিকে চিহ্নিত করে কেন্দ্রকে সে ব্যাপারে জানাতে পারে। স্বীকৃতি দেওয়া বা সংরক্ষণের আওতায় ফেলার পুরো প্রক্রিয়াটাই রাষ্ট্রপতির নির্দেশে হওয়া উচিত।

কেন্দ্রীয় সরকার এখন শীর্ষ আদালতের সেই রায়কে খর্ব করে ফের অনগ্রসর শ্রেণি চিহ্নিত করার ব্যাপারে রাজ্যের হাতেই সম্পূর্ণ ক্ষমতা তুলে দিতে চায়। তার ফলে কী পরিবর্তন আসবে? ধরা যাক, পশ্চিমবঙ্গ সরকার অন্নুনত শ্রেণির তালিকা তৈরি করল, এই তালিকাভুক্ত লোকজন পশ্চিমবঙ্গে তো বটেই অন্য রাজ্যে গেলেও অনুন্নত শ্রেণির আওতাতেই পড়বেন। আগে কোনও এক রাজ্যে ওবিসি তালিকায় থাকা লোকজন সেই রাজ্যেই সুবিধা ভোগ করতেন। নতুন বিলে পরিবর্তন আসবে। কোনও এক রাজ্যের নির্বাচিত তালিকা অন্যান্য রাজ্যেও বহাল থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকার এই বিল পাশ করাতে চাইলে বিরোধীরাও তাতে সমর্থন করবে বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষকদের একাংশ। বস্তুত, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের পরে উত্তরপ্রদেশের বিএসপি নেত্রী মায়াবতীও জানিয়ে দিয়েছেন,ওবিসিদের আলাদা তালিকা তৈরির জন্য কেন্দ্র ইতিবাচক পদক্ষেপ করলে সংসদের ভিতরে ও বাইরে মোদী সরকারকে সমর্থন করবে তাঁর দল। তাছাড়া বিজেপির এই বিল আনার তাড়নার পিছনে আরও একটি কারণ উত্তরপ্রদেশের ভোট। সেখানে যোগী সরকারের শরিক আপনা দল -এর নেত্রী মোদী।মন্ত্রিসভার সদস্য অনুপ্রিয়া প্যাটেল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় পৃথক ওবিসি মন্ত্রক করতে হবে। ওবিসি বিল এনে তাঁকে খানিক সন্তুষ্ট করা যাবে মনে করছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা। এছাড়া বিজেপি উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভা ভোতে দলিত ও পিছড়ে বর্গের ভোতেকেও টার্গেট করেছে। খবর দ্য ওয়ালের /এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *