ঢাকা, রবিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৫০ অপরাহ্ন
ঘন ঘন তাপপ্রবাহ, খরা ও সাইক্লোনের কবলে পড়তে পারে ভারত, রিপোর্ট রাষ্ট্রপুঞ্জের
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

ঘন ঘন তাপপ্রবাহ, খরা ও সাইক্লোনের কবলে পড়তে পারে ভারত, রিপোর্ট রাষ্ট্রপুঞ্জের

 সোমবার জলবায়ু সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করে রাষ্ট্রপুঞ্জের ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ। তাতে সব দেশকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বিশ্বের তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লবের আগের যুগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০৪০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ভারতের কী ক্ষতি হবে, তাও বিস্তারিত বলা হয়েছে রিপোর্টে।


রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে তাপপ্রবাহ বাড়বে। আর্দ্র আবহাওয়া বজায় থাকবে বছরের আরও বেশি সময় ধরে। গরমকালে উষ্ণতা বাড়বে আরও বেশি। সেই সঙ্গে বদলে যাবে বর্ষার গতিপ্রকৃতি। কোনও কোনও জায়গায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়বে। ভারতীয় উপমহাদেশের জন্য সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যৎবাণী করে বলা হয়েছে, এখানে তাপপ্রবাহ হবে আরও তীব্র। সেই তুলনায় ঠান্ডা তেমন পড়বে না। আগামী বছরগুলিতে বাড়বে খরা ও সাইক্লোন।


রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মানুষের কার্যকলাপের ফলেই বাতাসে বাড়ছে এরোসোল ও পার্টিকুলেট ম্যাটার। এর ফলে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকেই ভারতীয় উপমহাদেশে বর্ষায় বৃষ্টিপাত কমছে। বিশ্ব জুড়ে উষ্ণায়ন যে মানুষের কার্যকলাপেরই ফল, তার নির্ভুল প্রমাণ পেয়েছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের গবেষকরা।

রাষ্ট্রপুঞ্জের ওই রিপোর্ট যাঁরা তৈরি করেছেন, তাঁদের অন্যতম হলেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকাল মেটেরিওলজির স্বপ্না পানিকল। তিনি বলেন, ভারত মহাসাগরে জলের তাপমাত্রা প্রতি বছর বাড়ছে। এর ফলে আগে যে ধরনের সামুদ্রিক ঝড় ১০০ বছরে একবার দেখা যেত, তা এবার প্রতি বছরই দেখা যাবে।

বিজ্ঞানীদের মতে, সব দেশ যদি গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমাতে রাজি হয়, তাহলে আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে বিশ্ব জুড়ে তাপমাত্রা স্থিতিশীল হতে পারে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৯০১ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সমুদ্রের জলস্তরের উচ্চতা বেড়েছে ০.২০ মিটার। ১৯০১ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছিল ১.৩ মিলিমিটার। কিন্তু ২০০৬ থেকে ২০১৮-র মধ্যে গড়ে প্রতি বছর সমুদ্রতলের উচ্চতা ৩.৭ মিলিমিটার বাড়তে থাকে।

১৯৫০ সালের পর থেকে বিশ্ব জুড়ে বেড়েছে তাপপ্রবাহ। সেই তুলনায় শৈত্যপ্রবাহ তত বাড়েনি। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভূ-উষ্ণায়নের হটস্পট হল শহরগুলি। সেখানে জলাশয় বা গাছপালার মতো কুলিং এরিয়া কম। সামগ্রিকভাবে বিশ্ব জুড়ে জলবায়ু হয়ে উঠছে আরও চরমভাবাপন্ন। নতুন নতুন জায়গায় দেখা যাচ্ছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। অনেক সময় একই জায়গায় দু’টি বিপর্যয় দেখা যাচ্ছে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, অনেক জায়গায় একইসঙ্গে দেখা যাচ্ছে তাপপ্রবাহ এবং খরা। খবর দ্য ওয়ালের / এনবিএস/২০২১/ একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *