ঢাকা, শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
কাউকে ভোটপ্রার্থী ঘোষণা করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হবে তাঁর নামে ক্রিমিনাল রেকর্ড আছে কিনা
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

কাউকে ভোটপ্রার্থী ঘোষণা করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হবে তাঁর নামে ক্রিমিনাল রেকর্ড আছে কিনা

 রাজনীতির অপরাধীকরণ রুখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, কোনও দল যখন কাউকে ভোটপ্রার্থী বলে ঘোষণা করবে, তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হবে, তাঁর নামে ক্রিমিনাল রেকর্ড আছে কিনা। এর আগে গতবছর ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, কেউ প্রার্থী মনোনীত হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অথবা মনোনয়ন পেশের দু’সপ্তাহ আগে তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে হবে। কিন্তু এদিন বিচারপতিরা বলেছেন, প্রার্থী মনোনীত হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সব জানাতে হবে।


কিছুদিন আগে এক ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন করে বলেন, যে দল তার প্রার্থী অপরাধের রেকর্ড প্রকাশ্যে আনবে না, তার প্রতীক কেড়ে নেওয়া হোক। সেই আবেদনের ওপরে এদিন শুনানি হয়। ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, প্রত্যেক দলকে ওয়েবসাইটে জানাতে হবে, প্রার্থীর নামে কোনও অপরাধের রেকর্ড আছে কিনা। যদি থাকে, তাহলে কেন তারা এমন লোককে প্রার্থী করেছে তাও ব্যাখ্যা করতে হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলিকে বলা হয়, তারা যেন প্রার্থীদের সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য সংবাদপত্রে প্রকাশ করে।


বিহারে গত বিধানসভা ভোটে প্রার্থীদের অপরাধের রেকর্ড প্রকাশ্যে না আনার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে নিঃশর্তে ক্ষমা চায় সিপিএম এবং এনসিপি।

২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনও নির্দেশ দেয়, যাঁরা প্রার্থী হবেন, তাঁদের নামে যদি ফৌজদারি মামলা থাকে বা অতীতে কোনও মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে তা খবরের কাগজ এবং টিভিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানাতে হবে। এক দিন দিলেই হবে না। কমিশন নির্দিষ্ট করে বলে দিয়েছে, প্রচার পর্বে তিন দিন ওই বিজ্ঞাপন দিতে হবে।

অনেকেই ভাবতে পারেন, প্রার্থীরা কৌশল করে কোনও ছোট খবরের কাগজ বা লোকাল টেলিভিশন চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দিয়ে দায় সেরে ফেলবেন। কিন্তু সে গুড়ে বালি। কমিশন এ ব্যাপারেও স্পষ্ট করে নির্দেশ দিয়েছে। কমিশন তার নির্দেশিকায় বলেছে, ‘ওয়াইডলি সার্কুলেটেড’ অর্থাৎ যে খবরের কাগজ অনেক মানুষ পড়েন বা যে টেলিভিশন চ্যানেল অনেক মানুষ দেখেন তেমন জায়গাতেই এই বিজ্ঞাপন দিতে হবে আলাদা তিনদিন।

এমনিতে প্রার্থী হতে গেলে নির্বাচন কমিশনের কাছে হলফনামা দিয়ে প্রার্থীর সম্পত্তির হিসেব-সহ মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে সব তথ্য জানাতে হয়। কিন্তু এ বার কমিশন তাতেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না। ক্রিমিনাল কেস রয়েছে এমন কেউ যদি লোকসভা ভোটে দাঁড়ান তাহলে অবশ্যই তাঁকে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। এবং এই খরচ যুক্ত হবে প্রার্থীর নির্বাচনের খরচের মধ্যেই। খবর দ্য ওয়ালের   / এনবিএস/২০২১/ একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *