ঢাকা, মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন
‘কারবালার শোকাবহ স্মৃতি আজও মুসলমানদের বুক বিদীর্ণ করছে’
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

‘কারবালার শোকাবহ স্মৃতি আজও মুসলমানদের বুক বিদীর্ণ করছে’

বছর ঘুরে আবারও এসেছে শোকাবহ মাস মহররম। ৬১ হিজরীর এ মাসের ১০ তারিখে অন্যায়, জুলুম, শোষণ এবং অধর্ম ও খোদাদ্রোহিতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে কারবালার ময়দানে ইয়াজিদি বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করেছিলেন বিশ্বনবীর দৌহিত্র হজরত ইমাম হুসাইন (আ)ও তাঁর ৭২ জন সঙ্গী।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনী (রহ.) এ সম্পর্কে বলেছেন, “সব দিনই আশুরা, সব জমিনই কারবালা”- আমাদের কর্তব্যকে হযরত সাইয়েদুশ শুহাদাই নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সংখ্যা স্বল্পতায় ভয় পাবেন না, শাহাদতে ভীত হবেন না। মানুষের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও আদর্শ যত মহান হবে ততই এর জন্য কায়ক্লেশ ও কষ্ট বরদাশত করতে হবে।”

সমস্ত আম্বিয়াগণ সমাজ সংস্কারের জন্য এসেছিলেন। তাদের সবাই বিশ্বাস করতেন যে, সমাজের জন্য ব্যক্তিকে আত্মত্যাগ করতে হবে। ব্যক্তি যত বড়ই হোক না কেন, দুনিয়াতে তার মূল্য সর্বাধিক হলেও যখন সমাজের কল্যাণের বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়ায় তখন ঐ ব্যক্তির অবশ্যই আত্মত্যাগ করা উচিত। এই মাপকাঠিতেই তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং চলে গেলেন ময়দানে আর নিজেকে আর নিজের সঙ্গী সাথী ও পরিবারবর্গকে উৎসর্গ করলেন। কেননা সমাজের স্বার্থে ব্যক্তি বিশেষকে আত্মত্যাগ করতেই হবে; সমাজকে অবশ্যই বিশুদ্ধ করতে হবে। জনগণের মাঝে ও সমাজে অবশ্যই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ লক্ষ্যে ছিল তার শাহাদাতবরণ। আল্লাহর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর ঘরকে হেফাজত করার জন্যই ছিল তার ত্যাগ-তিতিক্ষা। সাইয়েদুশ শুহাদার জীবনের তাৎপর্য এটাই ছিল যে, অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।

“কারবালা” বা “আশুরা”- মুসলিম উম্মাহর মধ্যে এই দিনটি মহিমান্বিত ও তাৎপর্যময়। এ দিনটিকে মুসলমানরা পবিত্র ও বরকতময় হিসেবে পালন করছেন দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু অতীতের সব ঘটনা ছাপিয়ে ৬১ হিজরি সনের ১০ মহররম এমন একটি দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার অবতারণা হয়, যার কাছে সব ঘটনা ম্লান হয়ে যায়। ফলে এ দিনটি অনন্য ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের রূপ নেয়।


১০ মহররম মহানবী (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র, খাতুনে জান্নাত হজরত ফাতেমা (সা. আ.)-এর কলিজার টুকরা হজরত হোসাইন (আ.) কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদবাহিনীর হাতে অত্যন্ত নির্মম ও নৃশংসভাবে শাহাদাতবরণ করেন। ঐতিহাসিক ফোরাত নদীর তীরে অবস্থিত কারবালার ঘটনা ইসলামের ইতিহাসের সব ঘটনাকে অতিক্রম করে একটি শোকাবহ স্মৃতি নিয়ে আজও মুসলমানদের বুক বিদীর্ণ করছে। স্মরণকালের ইতিহাসে কারবালার দুঃখজনক ঘটনার সঙ্গে আশুরার সম্পর্ক যেন একাকার হয়ে গেছে। এদিন থেকে আশুরা নতুন এক আঙ্গিক লাভ করেছে। মহররম ও আশুরা এখন অন্য রকম এক চেতনা নিয়ে পালিত হচ্ছে। মহররম মাস ও আশুরার দিন এখন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ত্যাগ, শক্তি ও প্রতিবাদের কথা।

কোন সমাজের সত্য পথের পথিকরা যখন আলোকিত মানুষের কথা বলেন, ন্যায়-ইনসাফপূর্ণ সমাজের কথা ভাবেন তখন তাঁরা মানবেতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল উত্থানের মাঝে উপমা দেখতে চান। আর তা থেকে শিক্ষা নিতে চান। ন্যায় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনগুলোর মাঝে শীর্ষে যে আন্দোলনের অবস্থান তার অন্যতম হলো শহীদদের নেতা ইমাম হুসাইনের আন্দোলন যার বহুমাত্রিক আবেদন এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিপ্লবের ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

কারবালার মর্মান্তিক স্মৃতি থেকে মুসলমানরা শুধু শোকের আবহই লাভ করছেন না, তাঁরা জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ারও চেতনা খুঁজে পাচ্ছেন। মহররম ও আশুরা আমাদের ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হতে শেখায়। সত্য ও ন্যায়কে প্রতিষ্ঠা করার জন্য অসত্য ও অন্যায়কে প্রতিরোধ করার সাহস জোগায়। আশুরা আমাদের আল্লাহর ওপর ভরসা করে জুলুমের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার জন্য সদা প্রস্তুত থাকার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। ইমাম খোমেনী (রহ.) বলেছেন, “মহররম এমন এক মাস যখন জুলুমের বিরুদ্ধে আমি বিচার ও বাতিলের বিরুদ্ধে হক অভ্যুত্থান করেছে এবং প্রমাণ করেছে যে, সমগ্র ইতিহাসে হক সময় বাতিলের উপর বিজয় লাভ করেছে।পার্স টুডে  / এনবিএস/২০২১/ একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *