ঢাকা, রবিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন
শেরপুরে চাঞ্চল্যকর ৩৫ লাখ টাকা ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটন
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

শেরপুরে চাঞ্চল্যকর ৩৫ লাখ টাকা ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটন

শেরপুর জেলার সদর থানার প্রকাশ্য দিবালোকে চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই জামালপুর। ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আসামী ১। তুষার রঞ্জন দাস ওরফে রিপন (৪৩), পিতা- মৃত হিরা লাল দাস, মাতা- শিউলী রানী দাস, সাং- দৌলতপুর, থানা- মোহনগঞ্জ, জেলা- নেত্রকোনাকে ইং ০৮ আটগস্ট ২০২১ তারিখ দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ময়মনসিংহ শহরস্থ গাঙ্গিনাপাড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। 

মামলার বাদী মোঃ নূর হোসেন (৫২), পিতা- মৃত আলহাজ্ব আঃ সামাদ, সাং- সাতপাকিয়া, থানা ও জেলা- শেরপুর, শেরপুর সদর থানায় এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করেন যে, ইং ২১/০৩/২০২১ তারিখ বেলা অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় শেরপুর থানাধীন সাতপাকিয়া সাকিনস্থ তাহার নিজ বাড়ী হতে তেত্রিশ লক্ষ টাকা এবং মনোয়ার পেট্রোলিয়াম হতে নগদ দুই লক্ষ টাকা সর্বমোট পঁয়ত্রিশ লক্ষ একটি কাপড়ের তৈরী ব্যাগে ভর্তি করিয়া বাদীর ভাতিজা লিটন মিয়া (৩২) এর মোটর সাইকেল যোগে ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য শেরপুর শহরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হইয়া ঘটনাস্থল শেরপুর সদর থানাধীন মধ্যশেরী ধোপাবাড়ী সাকিনস্থ জনৈক উজ্বল ঠিকাদারের বাড়ীর সম্মুখে রাস্তায় বেলা অনুমান ১১.৪৫ ঘটিকার সময় পৌছা মাত্র অজ্ঞাতনামা ০৫ জন ব্যক্তি দুইটি মোটর সাইকেলযোগে বাদীর ভাতিজার মোটর সাইকেলের গতি থামানোর জন্য সংকেত দিলে বাদীর ভাতিজা তার চালিত মোটর সাইকেলটি থামালে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা আইনের লোক হিসেবে পরিচয় দেয় এবং বাদীর ভাতিজা লিটনের হাত চেপে ধওে আসামীদের সাথে থাকা হ্যান্ডকাপ মোটর সাইকেলের হেন্ডেলের সাথে লাগিয়ে দেয় এবং আসামীদের হাতে থাকা মরিচের গুড়া বাদীর চোখে ছিটেয়ে দিয়ে বাদীর সাথে থাকা ৩৫ লক্ষ টাকাসহ কাপড়ের ব্যাগটি জোড়পূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে দুটি মোটর সাইকেল যোগে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। বাদী ও বাদীর ভাতিজার ডাক চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাদীর ভাতিজা মোঃ লিটন মিয়াকে মোটর সাইকেলসহ থানায় নিয়ে তার হাতের হ্যান্ডকাপ খুলে দেয়। বাদী ঘটনার বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে ও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে শেরপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করে।

মামলাটি শেরপুর সদর থানা পুলিশ ২ মাস তদন্ত করে এবং তদন্তাধীন অবস্থায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মাধ্যমে পিবিআই জামালপুর জেলায় পরবর্তী তদন্তের জন্য প্রেরণ করেন।  ডিআইজি পিবিআই বনজ কুমার মজুমদারের সঠিক  তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই জামালপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার এম.এম. সালাহ উদ্দীনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোখলেছুর রহমান মামলাটি তদন্ত করেন।

পিবিআই জামালপুর জেলা কর্তৃক মামলাটি তদন্ত কালীন সময়ে পিবিআই জামালপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার এম.এম. সালাহ উদ্দীনের দিক নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে পিবিআই জামালপুরের একটি অভিযানিক টিম ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আসামী ১। তুষার রঞ্জন দাস (রিপন) (৪৩), পিতা- মৃত হিরা লাল দাস, মাতা- শিউলী রানী দাস, সাং- দৌলতপুর, থানা- মোহনগঞ্জ, জেলা- নেত্রকোনাকে ইং ০৮/০৮/২০২১ তারিখ দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ময়মনসিংহ শহরস্থ গাঙ্গিনাপাড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। 

জিজ্ঞাসাবাদে আসামী তুষার রঞ্জন দাস ওরফে রিপন জানান, সে এই ঘটনার প্রায় মাস দুয়েক আগে অনুমান গত বছর ডিসেম্বর মাসে একটা সমিতির টাকা আত্মসাতের মামলায় নেত্রকোনা জেলা কারাগারে আটক ছিল। সে সময় নেত্রকোনা জেলা কারাগারে আটক আসামী খোকন উরফে নুরু ও জুয়েলের সাথে তার পরিচয় হয়। নুরু ও জুয়েল কলমাকান্দা থানার বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় হাজতে ছিল। নুরু ও জুয়েল তাকে বলেছিল তাদের বালুর ব্যবসা আছে। তাছাড়া তারা অনেক টাকা পয়সা খরচ করতো দেখে তাদের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা হয়। সে তাদের কাছে একটা কাজ চায়। তারা তাকে হাজত থেকে বের হয়ে যোগাযোগ করতে বলে এবং তাদের ফোন নাম্বার দেয়। প্রায় ২০/২৫ দিন তারা এক সাথে হাজতবাস করার পর খোকন উরফে নুরু ও জুয়েল জামিনে মুক্তি পায়। আরোও মাস খানেক পর সে জামিন পায়। জামিনে বের হয়ে সে নুরু ও জুয়েলকে ফোন দিয়ে যোগাযোগ করলে তখন তাদের কাছে কাজ নাই বলে জানায়। এরপর ঘটনার একদিন আগে খোকন তাহাকে বলে যে একটা কাজ আছে ময়মনসিংহ যেতে হবে। ঐদিনই বিকালে সে ময়মনসিংহ চলে যায়। রেলস্টেশনে আসামী খোকনের সাথে তার দেখা হয়। এরপর তারা দুইজন শেরপুরের বাসে উঠে যে জায়গায় ঘটনাটা ঘটে সেখানে চলে আসে। আসামী খোকন তাদের সমস্ত প্লান পরিকল্পনা তাকে বুঝিয়ে বলে। ঘটনাস্থল দেখিয়ে খোকন তাকে নিয়ে জামালপুর ওর বাসায় চলে যায়। রাত ০৪ টা পর্যন্ত  তারা খোকনের বাসায় থাকে। এরপর সে ঢাকা থেকে অপর আসামী উৎপলকে ময়মনসিংহ চলে আসতে বলে। রাত ৪টার পরে একটা লোকাল ট্রেনে করে সে ও খোকন ময়মনসিংহ চলে যায়। ময়মনসিংহ থেকে সকাল ৯টার দিকে একটা প্রাইভেট গাড়ী করে সে খোকন ও উৎপল শেরপুরের দিকে রওনা হয়। প্রায় ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের একটু আগে পৌছে জুয়েল,রাজু ও লেমনকে দাড়ানো দেখে। তখন দুটো অপরিচিত ছেলে দুইটা মোটরসাইকেল নিয়ে আসে। সে, জুয়েল, উৎপল একটা মোটরসাইকেলে উঠে এবং রাজু, লেমন আরেকটা মোটরসাইকেলে চড়ে ঘটনাস্থলের দিকে আসে। খোকন গাড়ীর ড্রাইভার সহ শেরপুর শহরের দিকে চলে যায়। খোকন ও জুয়েলের সার্বক্ষনিক ফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। প্রায় মিনিট সাতেক পরেই দুজন লোক মোটরসাইকেলে আসতে থাকলে তারা হাত দিয়ে ইশারা করে দাঁড়াতে বলে। জুয়েলের হাতে একটা হ্যান্ডক্যাপ ছিল। জুয়েল হ্যান্ডক্যাপটি মোটরসাইকেল চালকের হাতে পড়িয়ে ফেলে। লেমন তখন দ্রুত মরিচের গুড়া পিছনে বসা লোকের চোখে ছিটিয়ে দেয়। জুয়েল লোকটির হাতে থাকা কাপড়ের ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। জুয়েল ও রাজু ব্যাগ নিয়ে দ্রুত চলে যায়। আরেকটি মোটরসাইকেলে লেমনের পিছনে উৎপল ও সে উঠে। প্রায় ৪০ গজ গিয়ে সে পিছনে বালুতে পড়ে যায়। লেমন ও উৎপল তাকে রেখেই চলে যায়। এরপর সে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে খোকনকে ফোন করে, খোকন তাকে ময়মনসিংহ চলে যেতে বলে। সে বাসে উঠে ময়মনসিংহ চলে যায়। সে পরে যোগাযোগ করলে তাদের ফোন বন্ধ পায়। পরে সে শুনে যে উৎপল ঢাকায় ও বাকিরা কক্সবাজার চলে গিয়েছিল। প্রায় ১২ দিন পরে খোকন তাকে ফোন দিয়ে একটা নাম্বার চায়। সে খোকনকে নম্বর দিলে সে নম্বরে ৪০ হাজার টাকা পাঠায়। এরপর আর কখনো ওদের সাথে তার যোগাযোগ হয় নাই। 

এই বিষয়ে পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার এম.এম. সালাহ উদ্দীন বলেন যে, অত্র মামলার ঘটনার সাথে জড়িত বর্ণিত আসামীসহ অন্যান্য আসামীগণ আন্তঃজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের স্বক্রিয় সদস্য। তারা মোবাইল ফোনে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করে আশপাশের জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডাকাতি ও দস্যুতা সংগঠিত করে থাকে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং এই ডাকাতির ঘটনার পিছনে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

৯ আগস্ট  আসামী ১। তুষার রঞ্জন দাস (রিপন) (৪৩), পিতা- মৃত হিরা লাল দাস, মাতা- শিউলী রানী দাস, সাং- দৌলতপুর, থানা- মোহনগঞ্জ, জেলা- নেত্রকোনাকে গ্রেফতার করে মামলার ঘটনা সংক্রান্তে  জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামী ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *