ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১০:০১ পূর্বাহ্ন
কক্সবাজারের ৩৪টি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে করোনা টিকা দান কর্মসূচি শুরু
শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার

কক্সবাজারের ৩৪টি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে করোনা টিকা দান কর্মসূচি শুরু

কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে করোনা টিকা দান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ১০ আগস্ট বাংলাদেশ সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও শরণার্থী শিবিরে কর্মরত সহযোগী সংস্থা গুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গাদের করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হল।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪ টি শরনার্থী শিবিরে অবস্থানরত বয়স উপযোগী সকল রোহিঙ্গাদের (জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক) পর্যায়ক্রমে করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৫৫ বছর ও তদুর্ধ বয়সী ৪৮ হাজার ৬০০ জন রোহিঙ্গা শরনার্থীর শরীরে করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে।

মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) সকালে উখিয়া রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে এক্সটেনশন-৪ এ আনুষ্ঠানিক ভাবে করোবা টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) শাহ রেজওয়ান হায়াত।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জাতিসংঘের সংস্থা (UNHCR) এর কক্সবাজার অফিস প্রধান মিস. ইতা সুটে, IOM এর প্রধান মি. ম্যানুয়েল মার্কাস, ১৪, এপিবিএন এর অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) নাঈমুল হক, ক্যাম্প ইনচার্জ, WHO, UNICEF, WFP এর প্রতিনিধি, আরআরআরসি অফিসের স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. তোহা এইচ ভূঁইয়া।

আরআরআরসি শাহ রেজওয়ান হায়াত বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে চীনের তৈরি সিনোফার্মার ভ্যাকসিন রোহিঙ্গাদের দেওয়া হয়। ৩৪ টি শরণার্থী শিবিরের অভ্যন্তরে ৫৬ টি টিকা দান কেন্দ্রে রোহিঙ্গাদের করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। এজন্য শরণার্থী শিবির গুলোর টিকা কেন্দ্রে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনেটর, নার্স, টেকনেশিয়ান, স্বাস্থ্য কর্মী সহ অন্যান্যদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা ও শৃংখলা রক্ষায় এপিবিএন এবং স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৭ হাজার রোহিঙ্গাকে টিকা দিয়ে ৭ দিনের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের প্রথম ডোজ টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন হবে।
টিকা দান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন পাওয়া সকল রোহিঙ্গাদের পরবর্তী এক মাসের মধ্যে ২য় ডোজের পূর্ণাঙ্গ ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে। সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান নিজেই একজন রোহিঙ্গাকে টিকা দানের মাধমে এই ভ্যাকসিন কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন। এরপর ৫৬ টি টিকা কেন্দ্রে একই সাথে করোনা ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে উদ্বোধনের পর ৫৬ টি টিকা কেন্দ্রে রোহিঙ্গাদের বেশ আগ্রহের সাথে টিকা নিতে দেখা যায়। শরণার্থী শিবিরের করোনা টিকা কার্যক্রম রোহিঙ্গাদের মাঝে অনেকটা উৎসবে পরিণত হয়।

উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে গত ১৭ মাসে কক্সবাজার জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান ২১৪ ব্যক্তি। এদের মধ্যে ২৯ জন ছিল রোহিঙ্গা শরনার্থী। এরমধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির গুলোতে ২৭ জন ও টেকনাফ রোহিঙ্গা শিবিরে ২ জন রয়েছে। শুরু থেকে গত ৯ আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ৬৮০ জন রোহিঙ্গা শরনার্থীর দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে।

প্রায় ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গা শরনার্থী ৩৪টি ক্যাম্পে মাত্র ৬৫ হাজার বর্গ একর পাহাড়ি এলাকায় গাদাগাদি করে বসবাস করছে। এরপরেও কক্সবাজার জেলা এবং সারাদেশের সার্বিক করোনা পরিস্থিতির তুলনায় রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরগুলোতে করোনা সংক্রামণ হয়েছে অপেক্ষাকৃত অনেক কম। ক্যাম্প গুলোতে সময়মতো করোনা সংক্রামণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্য বিধি পালনে কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের বাধ্য করায় শিবিরগুলোতে করোনা সংক্রামণ অপেক্ষাকৃত কম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *