ঢাকা, বুধবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:১৯ অপরাহ্ন
গাজীপুরে অজ্ঞতনামা লাশ উদ্ধারের হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

গাজীপুরে অজ্ঞতনামা লাশ উদ্ধারের হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন

গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানাধীন চিলনী সাকিনস্থ চিলনী বিলে জনৈক আলমগীর হোসেন এর মাছের খামারের দক্ষিণপূর্ব কোনে পানিতে ভাসমান বহুল আলোচিত অজ্ঞতনামা পুরুষ হত্যা মামলার রহস্য ৪ মাস পর উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- পিবিআই গাজীপুর।

ঘটনায় জড়িত তদন্তেপ্রাপ্ত আসামী ১। শিমুল মোল্লা (৩০), পিতা-মৃত সাদত আলী মোল্লা, মাতা-শাহিনা আক্তার, ২। শরীফ খান (২৮) পিতামৃত-রুস্তুম খান, মাতা-রোকসানা বেগম, উভয় সাং-কামারিয়া, থানা-জয়দেবপুর, জেলা-গাজীপুরদ্বয়কে গত ০৫ আগস্ট ২০২১ তারিখ রাত ৪টা ২০ মিনিটের দিকে অভিযান পরিচালনা করে গাজীপুর জেলা জয়দেবপুর থানাধীন কামারিয়া সাকিনস্থ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অত্র মামলার বাদী এসআই ননী গোপাল সরকার সদর পুলিশ ফাঁড়ি, জয়দেবপুর থানা গাজীপুর সদর পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় এক্সরে-১১ ডিউটি করাকালীন সময়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বার কর্তৃক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংবাদ পান যে, জয়দেবপুর থানাধীন চিলনী সাকিনস্থ জনৈক আলমগীর হোসেনের মাছের খামারের দক্ষিণপূর্ব কোনে পানিতে একটি অজ্ঞাতনামা মানুষের মৃতদেহ ভাসছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে বাদী সঙ্গীয় ফোর্সসহ ২৯ মার্চ ২০২১ তারিখ বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অজ্ঞাতনামা পুরুষের আংশিক পঁচা গলিত মৃতদেহ জনৈক আলমগীর হোসেন এর মাছের খামারের দক্ষিন পূর্ব কোনে পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে বিষয়টি অফিসার ইনচার্জ জয়দেবপুর থানা এবং সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাহেবকে অবহিত করে অজ্ঞাতনামা মৃতদেহ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পানি থেকে ডাঙ্গায় উঠিয়ে লাশের পরিচয় সনাক্তের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে অজ্ঞাতনামা পুরুষের লাশের সূরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশের ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেন। এই সংক্রান্তে এসআই (নিঃ) ননী গোপাল সরকার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করলে জয়দেবপুর থানার মামলা নং-২৫ তারিখ-৩০/০৩/২০২১ খ্রিঃ ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়।

জয়দেবপুর থানায় মামলা রুজু পর ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখ পর্যন্ত পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) দুলাল চন্দ্র সরকার মামলাটি তদন্ত করেন। ঘটনার পর পরই পিবিআই গাজীপুরে একটি টিম উক্ত ঘটনায় ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং জয়দেবপুর থানায় তদন্তাধীন থাকাকালে পিবিআই হেডকোয়ার্টার্স ঢাকার নির্দেশে মামলাটি অধিগ্রহন করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক এ কে এম রেজাউল করিম গত ০২ এপ্রিল ২০২১ তারিখ থেকে মামলাটি তদন্ত শুরু করেন। 

ঘটনায় জড়িত আসামী শিমুল মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে দীর্ঘ দিন এলাকায় ইয়াবার ব্যবসা করে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগী আসামীরাও প্রত্যেকেই ইয়াবার ব্যবসা করে। অজ্ঞাতনামা ভিকটিম নিয়মিতভাবে চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা এনে আসামীদের নিকট সরবরাহ করত। মামলার ঘটনার দিন ভিকটিম ১৫০০ (এক হাজার পাঁচশত) পিচ ইয়াবা নিয়ে আসামীদের নিকট পৌছিয়ে দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম থেকে আসে। উক্ত ইয়াবার টাকা না দেওয়ার উদ্দেশ্যে অজ্ঞাতানাম ভিকটিমকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য মামলার ঘটনাস্থল চিলনী বিলের মাছের প্রজেক্টের পানিতে লুকিয়ে রাখে। 

এই বিষয়ে পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, ঘটনায় জড়িত আসামীরা প্রত্যেকেই এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী।  এমনকি ভিকটিম নিজেও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। ভিকটিম প্রায়শ ইয়াবা চালান এনে ঘটনায় জড়িত আসামীদের নিকট পৌছিয়ে দিত। ইয়াবা চালান নিয়ে ভিকটিম আসামীদের সাথে যোগাযোগ করে চট্টগ্রাম হতে গাজীপুর জেলা জয়দেবপুর থানাধীন বাড়ীয়া এলাকায় আসলে গ্রেফতারকৃত আসামী সহ তার সহযোগী অন্যান্য আসামীরা পূর্বের ইয়াবার টাকা ও ঘটনার দিনের সরবরাহকৃত ইয়াবার টাকা না দেওয়ার উদ্দ্যেশে ভিকটিমকে মারধর করে গলায় রশি পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশটি গুম করার জন্য প্লাষ্টিকের চট দিয়ে পেচিয়ে মামলার ঘটনাস্থলে চিলনি বিলে মাছের প্রজেক্টে নিয়ে লাশটি পানিতে ডুবিয়ে দেয়। অজ্ঞাতনামা ভিকটিমের নাম ঠিকানা খুব শ্রীঘই সনাক্ত হবে।

গ্রেফতাকৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে গত ০৫ আগষ্ট ২০২১ তারিখ উপস্থাপনের পর ০৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রাপ্ত হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামী শিমুল মোল্লাকে ০৯ আগষ্ট ২০২১ তারিখ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে সে নিজেকে ঘটনার সাথে জড়িয়ে অন্যান্য সহযোগী আসামীদের নাম উল্লেখ করে সেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃকাঃবিঃ এর ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এর ফলে মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: