ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন
ডার্কওয়েব সম্পর্কে আমারা যেসব ভুল তথ্য এতদিন ধরে বিশ্বাস করেছি এবং তা বিশ্বাস করেই চলেছি
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :


বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সকলেই আল্লাহর রহমতে অনেক ভাল আছেন। ডার্ক ওয়েবের কথা শুনলেই আমাদের মনে কেন জানি মনে হয় যে কোন একটি অন্ধকার জগত, ভয়ঙ্কর কোন কিছু বা অবৈধ কোন জায়গা। ডার্ক ওয়েব এর নাম শুনলে আমাদের মাথায় কিছু ভুল ধারনা চলে আসে। তো বন্ধুরা, আজকের টিউনে আমি আপনাদেরকে ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে সকল ভুল ধারণা গুলো ভেঙে দেবো।

ডার্ক ওয়েব এবং ডিপ ওয়েব অনেক রহস্যজনক। মাঝে মাঝে এই ওয়েব এর নাম গুলো শুনলে আমাদের গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। কিন্তু এই ওয়েবসাইট গুলো সম্পর্কে আমাদের অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। আজকের টিউনে আমি সেসব বিষয় গুলোই বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করব। আজকের এই টিউনে আপনি ডার্ক ওয়েবের ভুল ধারণা জানার পাশাপাশি জানতে পারবেন ডার্ক ওয়েব কি, ডার্ক ওয়েবে কিভাবে প্রবেশ করবেন, এটি বৈধ নাকি অবৈধ এবং ডার্ক ওয়েব কিভাবে কাজ করে?

যেখানে টিউনের মাঝে আপনি এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন। ডার্ক ওয়েব সম্বন্ধে আমাদের ভুল ধারণাগুলো ভাঙ্গিয়ে দেবার আগে আমাদেরকে প্রথমে ইন্টারনেটের সমস্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে কিছুটা ধারণা নিতে হবে। আর তাহলে আমরা ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে জানা ভুল ধারণাগুলো ভাঙতে পারবো। যেখানে আমি ইন্টারনেটের প্রত্যেকটি ওয়েব কে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করেছি এবং শেষ পর্যায়ে আমি ডার্ক ওয়েব সম্বন্ধে আমাদের জানা ভুল ধারণা গুলো আলোচনা করেছি। যেখানে আপনি যদি ডার্ক ওয়েব, ডিপ ওয়েব এবং সার্ফেস ওয়েব সম্বন্ধে না জেনে থাকেন তবে এক্ষেত্রে আপনি আজকের টিউনটি দেখার মাধ্যমে এগুলোর সমস্তই জানতে পারবেন।

বরাবরের ন্যায় আমি আপনাদেরকে প্রত্যেকটি বিষয়কে খুব সহজভাবে উপস্থাপন করে থাকি। যদিও আজকের টিউনটি অনেক দীর্ঘ হতে চলেছে তবে আজকের টিউনটি অনেক তথ্যবহুল। আর এজন্য অবশ্যই সম্পূর্ণ টিউনটি মনোযোগ দিয়ে দেখবেন।

১. ডার্ক ওয়েব এবং ডিপ ওয়েব কে একই মনে করা

আমরা অনেকেই ডার্ক ওয়েব এবং ডিপ ওয়েব কে একই মনে করি। কিন্তু বাস্তবে এ দুইটি ওয়েব একদমই ভিন্ন। আমরা ইন্টারনেটে মোট তিন ধরনের ওয়েব দেখতে পাই। যেখানে ইন্টারনেটের সমস্ত বিষয় গুলো মোট তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যেগুলো হলোঃ 1. Surface Web, 2. Deep Web এবং 3. Dark Web। এবার চলুন তবে প্রত্যেকটি ওয়েব সম্বন্ধে আরও বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

১. সার্ফেস ওয়েব (Surface Web)

সহজ ভাষায় বলতে গেলে ইন্টারনেটে সার্চ করে আমরা যেসব বিষয় গুলো দেখতে পারি এগুলোই হচ্ছে Surface Web এর অংশ। যেটিকে সব মানুষ অ্যাক্সেস করতে পারে বা দেখতে পারে সেটিই হচ্ছে Surface Web। যখন গুগলে আমরা গিয়ে যখন কিছু লিখে সার্চ করি তখন সেই ফলাফল আমরা এবং যে কেউ দেখতে পারে। এভাবে করে গুগলে সার্চ করে যেসব ব্লগ এবং ভিডিও গুলো আমরা পাই সেগুলোর সমস্তই হচ্ছে Surface Web এর অংশ। এই মুহূর্তে আপনি যে টিউনটি দেখছেন এটিও সার্ফেস ওয়েব এর একটি অংশ।

সার্চ ইঞ্জিনে আমরা যেসব বিষয় গুলো সার্চ করি এবং সার্চ ইঞ্জিন যেসব বিষয় গুলোকে ইন্ডেক্স করে সেগুলো মূলত সার্ফেস ওয়েব এর অংশ। অর্থাৎ, এগুলোতে সাধারন পাবলিকের অ্যাক্সেস থাকে। যেমন কোন ব্লগ ওয়েবসাইট, নিউজ ওয়েবসাইট কিংবা কোন ইনফরমেশন এর ওয়েবসাইট। অর্থাৎ, যেসব ওয়েবসাইট এর এড্রেস লিখে ব্রাউজারের সার্চ করলে কিংবা লিংকে ক্লিক করলে সে সব তথ্য গুলো দেখা যায়। যেখানে আমার এই টিউন এবং ইন্টারনেটের আপনি যেসব বিষয় গুলো দেখছেন সমস্ত গুলোই সার্ফেস ওয়েব এর অংশ।

আর এখানে একটি মজার কথা হচ্ছে, সার্ফেস ওয়েব হচ্ছে ইন্টারনেটের ছোট একটি অংশ; যেটিকে আমরা প্রতিনিয়ত ব্যবহার করতে থাকি। আপনি যে প্রতিদিন ফেসবুকে বিভিন্ন টিউন করেন এবং অন্যের যেসব টিউন গুলো দেখেন সেগুলোর সমস্তই সার্ফেস ওয়েব এর অংশ। তেমনি ভাবে আপনি যে ইউটিউব এর ভিডিও গুলো দেখছেন, বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে নিউজ পড়ছেন সেগুলোর সমস্তই সার্ফেস ওয়েব এর অংশ। যেখানে আমরা এই সার্ফেস ওয়েবে তেই বেশি সময় কাটিয়ে থাকি এবং এটিকেই ভাবি যে ইন্টারনেটের সব। কিন্তু এর বাইরেও অনেক বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে ইন্টারনেট।

বলতে গেলে ইন্টারনেটের সকল দৃশ্যমান বিষয়বস্তু হচ্ছে Surface Web এর অংশ। তবে এখানেও কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যেটিকে Deep Web এরমধ্যে ফেলানো যায়। আর এজন্য আমাদেরকে জানতে হবে ডিপ ওয়েব সম্পর্কে। ‌যেখানে আমরা ডার্ক ওয়েব এবং ডিপ ওয়েব কে একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলি।

২. ডিপ ওয়েব (Deep Web)

ডিপ ওয়েব অন্যান্য ওয়েবসাইটের মতো এতোটা খোলামেলা না। যেগুলোকে ব্যবহার করার জন্য স্পেশাল অনুমতি লাগে। যেমন ধরুন কোনো একটি অরগানাইজেশনের Back End, যেদিকে ব্যবহার করার জন্য আপনার অনুমতির দরকার পড়বে। এক্ষেত্রে সেই অর্গানাইজেশন বা সংস্থার কর্মী ছাড়া তাদের ডেটাবেজ থেকে কোন তথ্য কেউ নিতে পারবে না। আর এসব ডেটাবেজ থেকে যদি কোনো তথ্য নিতেই হয় তবে তাদের অনুমতি নিয়ে এবং কি পদ্ধতিতে নিতে হবে তা তাদের থেকেই জেনে নিতে হবে। এখানে গুগলে সার্চ করে কিন্তু কোন ব্যক্তির সেই ডেটা গুলোকে গুলোকে খুঁজে নিতে পারবে না।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, যেসব বিষয় গুলো সার্চ ইঞ্জিনে ইন্ডেক্স হয় না সে গুলোকে ডিপ ওয়েব এর অংশ বলা হয়। যেমন কোন ডেটাবেজ, ইমেইল ইত্যাদি। এরকম অনেক তথ্যই রয়েছে যেগুলো Owner ব্যতীত অন্য কেউ অ্যাক্সেস করতে পারে না বা পারবে না। তো, এ ধরনের ওয়েব গুলোকে ডিপ ওয়েব বলা হয়। যেসব তথ্য গুলো ইন্টারনেটের কোন জায়গায় স্টোর করা থাকে অথচ সেগুলো সার্চ ইঞ্জিনে ইন্ডেক্স হয় না। আর এগুলো সাধারণত কোনো অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা যায় না এবং এটি সার্ফেস ওয়েব এর চাইতে অনেক বড়।

যেমন ধরুন, আপনি যেসব ফাইল গুলো অনলাইনে স্টোর করে রাখেন সেগুলো কিন্তু কেউ আপনার অনুমতি ব্যতীত অ্যাক্সেস করতে পারবেনা। যেমন ধরুন আপনি Google drive, Onedrive, Dropbox, iCloud ইত্যাদি ক্লাউডে আপনার অনেক তথ্যই জমা করে রাখেন। যদি কেউ গুগলে সার্চ করে আপনার এসব তথ্য গুলো সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, তবে কিন্তু তাকে আপনার এই তথ্যগুলো দেখানো হবে না। যেখানে আপনার তথ্যগুলো শুধুমাত্র আপনিই অ্যাক্সেস করতে পারবেন বা ব্যবহার করতে পারবেন। কেউ যদি এসব জায়গায় রাখা ভিডিও এবং অন্যান্য ফাইল গুলো দেখতে চায় তবে অবশ্যই আপনার কাছ থেকে সেই লিংকটি নিতে হবে এবং আপনার কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার মাধ্যমে সেগুলো ব্যবহার করতে পারবে।

আপনি যে ফাইলগুলো ঐসব জায়গায় রেখেছেন এটিও কিন্তু একটি ইন্টারনেট। যেখানে আপনি কোন কিছু রেখে পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে সে গুলোকে অ্যাক্সেস করতে পারছেন, কিন্তু এ ক্ষেত্রে অন্য কেউ সে গুলোকে অ্যাক্সেস করতে পারছে না। এর কারণ হচ্ছে এটি রয়েছে Deep Web-এ। ‌ অর্থাৎ, এইসব তথ্যগুলো Deep Web এর একটি অংশ। যদিও এগুলো ইন্টারনেটভিত্তিক ক্লাউড স্টোরেজে আছে, কিন্তু এগুলোকে সবাই অ্যাক্সেস করতে পারবে না নির্দিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া। যদি কারো এসব জায়গা থেকে কোন কিছু নেবার দরকার পড়ে থাকে অবশ্যই সেই লিংকটি দিতে হবে কিংবা তাকে সেগুলোর অ্যাক্সেস দিতে হবে।

Google drive, Onedrive, Dropbox, iCloud এর মত ড্রাইভে আপনার যেমন অনেক প্রাইভেট ডেটাগুলো রয়েছে, সেগুলো কিন্তু কেউ চাইলেই অ্যাক্সেস করতে পারবে না গুগলে সার্চ করে কিংবা আপনার কাছ থেকে লিংক না নিয়ে এবং আপনার অনুমতি ব্যতীত। ডিপ ওয়েব হচ্ছে সেই একটি অংশ যেটিকে সহজে কেউ অ্যাক্সেস করতে পারেনা। অ্যাক্সেস বলতে, যার শুধু পারমিশন রয়েছে সেই শুধুমাত্র অ্যাক্সেস করতে পারে; অন্য কেউ তা পারেনা। আর এটিই হচ্ছে ডিপ ওয়েব।

যেখানে সার্ফেস ওয়েব এর চাইতে ডিপ ওয়েব অনেক বিশাল। যেখানে আপনার মত অসংখ্য মানুষের ডেটাগুলো রয়েছে ডিপ ওয়েব এর ভিতর। ইন্টারনেটের মোট তিনটি ভাগের মধ্যে সবচাইতে বেশি পরিমাণে ডেটা জমা রয়েছে এই Deep Web এর অংশে। কেননা ইন্টারনেটে মানুষ যে সমস্ত বিষয়গুলো শেয়ার করে তার চাইতে বেশি তথ্য জমা রাখে বিভিন্ন ক্লাউড স্টোরেজে। আপনি যে ছবিটি তুলেছেন সেটিও হয়তো বা আপনি জমা রাখেন গুগলের ড্রাইভ কিংবা অন্য কোন ক্লাউড স্টোরেজে।

আর এভাবে করেই Surface Web এর চাইতে এই Deep Web-এ সবচাইতে বেশি পরিমাণে তথ্য জমা রয়েছে। সে গুলোকে কেউ গুগলে সার্চ করে কিংবা অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে খুঁজে পায়না। বরং, এগুলো অ্যাক্সেস করার জন্য দরকার হয় তথ্যগুলোর Owner বা মালিকের অনুমতি।

২. ডার্ক ওয়েব (Dark Web)

Dark web

প্রথমেই বলে নিচ্ছি যে ডার্ক ওয়েব আসলে কি। ডার্ক ওয়েব হচ্ছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর ই একটি অংশ, এখানে প্রবেশ করতে হলে বিশেষ ধরনের ব্রাউজারের দরকার পড়ে। এবং সেখানে একবার প্রবেশ করার পর সেগুলো সাধারণ ওয়েবসাইটের মতই কাজ করে। সাধারণত এসব ওয়েবসাইট গুলো অনেক লুকায়িত অবস্থায় থাকে এবং এগুলো গুগল ইন্ডেক্স না করার কারণে সার্চ করেও এগুলো পাওয়া সম্ভব নয়। শুধুমাত্র আপনি যে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে চাচ্ছেন, সেই ওয়েবসাইটের যদি আপনার কাছে লিংক থাকে, তবেই এক্ষেত্রে আপনি সেই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারবেন।

অপরাধীদের নিরাপদ ভাবে অবৈধ জিনিসপত্র বিক্রি করার জন্য রয়েছে ডার্কওয়েবে নিজস্ব মার্কেট। যেটিকে ডার্ক নেট মার্কেট বলা হয়। যেখানে তারা তাদের অবৈধ সব জিনিসপত্র যেমনঃ অস্ত্র ড্রাগস পণ্য সামগ্রী বিক্রি করে থাকে। এমনকি মানুষ মারার জন্য কিলার পর্যন্তও ভাড়া পাওয়া যায়, এমন কথাও শোনা যায়। আর এজন্য সেখানে বিটকয়েন ব্যবহার করার কারণে ব্যক্তির পরিচয় ও গোপন থাকে। যেখানে নিজের পরিচয় গোপন রাখার মাধ্যমে ওয়েবসাইটে ভিজিট করা এবং লেনদেন করার জন্য সরকার থেকে বাঁচার জন্য অপরাধীদের কাছে এটি নিরাপদ জায়গা। এছাড়া অপরাধীদের জন্য এটি অনেক আদর্শ জায়গা হতে পারে, কেননা এখানে সরকার এবং অনেক ব্যক্তিবর্গের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিও হ্যাকার বিক্রি করতে পারে।

ডার্ক ওয়েব এমনই একটি ওয়েব যেটি নিয়ে এত মাতামাতি। যেটিকে অ্যাক্সেস করার জন্য বিশেষ একটি ব্রাউজার লাগে, যেটি অনেক বেশি সিকিউর এবং যেখানে বেশিরভাগ সময়ই অনেক অপরাধমূলক কাজ হয়ে থাকে। আর এজন্যই ডার্ক ওয়েব নিয়ে এতসব আলোচনা-সমালোচনা, যাকে বলা যায় অনেক খ্যাত। যেখানে ডার্ক ওয়েবের কোন ওয়েবসাইটে ভিজিট করার জন্য অবশ্যই সেই ওয়েবসাইটের লিংক জানতে হবে। এছাড়া আপনি কোথাও সার্চ করে কিন্তু ডার্ক ওয়েবের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারবেন না।

এবার আমি আশা করছি আপনারা ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছেন যে, ডার্ক ওয়েব এবং ডিপ ওয়েব এর মধ্যে পার্থক্য। যেখানে ডার্ক ওয়েব এবং ডিপ ওয়েব সম্পূর্ণ ভিন্ন। উপরের এসব আলোচনা তো গেল ইন্টারনেটের সকল ওয়েব নিয়ে আলোচনা। যেখানে ইন্টারনেটের মোট অংশের মধ্যে রয়েছে সার্ফেস ওয়েব, ডিপ ওয়েব এবং ডার্ক ওয়েব। এবার আমাদের তবে জানতে হবে ডার্ক ওয়েব নিয়ে আমাদের কিছু ভুল ধারনা সম্পর্কে।

ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে আমাদের ভুল ধারণা

ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে আমাদের কৌতূহলের শেষ নেই। যেখানে আমরা প্রায়ই শুনে থাকি যে ডার্কওয়েবে সমস্ত ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম হয়ে থাকে এবং এটি আমাদের ব্যবহৃত ইন্টারনেট এর চাইতে অনেক বেশি পরিমাণে বিস্তৃত। এরকম আরো অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো আমরা সত্য মনে করে বিশ্বাস করি এবং এখন পর্যন্ত করেই রয়েছি। এবার তবে চলুন ডার্ক ওয়েব সম্বন্ধে আমাদের কিছু ভুল ধারনা জেনে নেওয়া যাক।

১. ডার্ক ওয়েব কে অনেক বড় মনে করা

আমরা ডার্ক ওয়েব কে অনেক বড় মনে করি ডিপ ওয়েব কিংবা সার্ফেস ওয়েব এর চাইতে। যেটি কিন্তু একেবারেই ভুল ধারণা। এক্ষেত্রে আপনি যদি বলেন যে, সার্ফেস ওয়েব হচ্ছে ডার্ক ওয়েবের চাইতে অনেক বড় তবে এটি সঠিক হবে। এর কারণ হচ্ছে ডিপ ওয়েবে প্রচুর পরিমাণে ডেটা থাকে, যেটি সার্ফেস ওয়েব এর চাইতেও অনেক বড়। যেখানে সার্ফেস ওয়েব কে আমরা দ্বিতীয় অবস্থানে রাখতে পারি।

আর আমরা এতদিন যে বিষয়টি জেনে এসেছি ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে, এটিকে রাখতে হবে তৃতীয় অবস্থানে। যেখানে ইন্টারনেটের মোট তিনটি অংশের মধ্যে ডার্ক ওয়েব রয়েছে সবচাইতে নিচের অবস্থানে। যেখানে ডার্ক ওয়েব সবচাইতে কম জায়গা দখল করে রয়েছে ইন্টারনেট জুড়ে। যেখানে ডার্ক ওয়েব এ ওয়েবসাইটের পরিমাণ কিন্তু খুব বেশি নেই। কিন্তু ডার্ক ওয়েবে যে সমস্ত অপরাধগুলো সংঘটিত হয় সেগুলো কিন্তু মোটেও ছোট নয়; বরং এগুলো হয় অনেক বিশাল পরিমাণে।

এবার আপনি যদি কাউকে বলতে শুনেন ডার্ক ওয়েব ইন্টারনেটের অন্যান্য সমস্ত ওয়েব এর চাইতে অনেক বড় তবে তাকে বলবেন যে, ডার্ক ওয়েব বড় নয়। বরং, ডিপ ওয়েব হচ্ছে ইন্টারনেটে সবচাইতে বড়। যেখানে ডার্ক ওয়েব কিন্তু আকারে অনেক ছোট। যেটির উদাহরণ আপনি হয়তোবা উপরে পেয়েছেন।

২. ডার্ক ওয়েবে শুধুমাত্র অপরাধমূলক কাজ হয়

আমরা ডার্কওয়েবের সম্বন্ধে আরও একটি বিষয় জানি তা হচ্ছে, ডার্ক ওয়েবে সবসময় অপরাধমূলক কাজ গুলো সংঘটিত হয়। যে ধারণাটা কিন্তু 100% সঠিক নয়। ডার্ক ওয়েব কে কিন্তু শুধুমাত্র অপরাধমূলক কার্যক্রম এর জন্যই তৈরি করা হয়নি। কেননা ডার্ক ওয়েব এর কিছু ভালো কাজ রয়েছে। যেখানে আপনারা হয়তোবা জানেন যে, নিউইয়র্ক টাইমস, সিআইএ এর ডার্ক ওয়েবে নিজস্ব কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে। এছাড়া আমরা যে ফেসবুক ব্যবহার করি তাদেরও ওয়েবসাইট রয়েছে ডার্ক ওয়েবে।

ডার্ক ওয়েবে যেখানে অনেক কাজ করা হয় যেগুলোকে গোপন রাখা হয়। তারা চায় না যে এসব কাজের কথাগুলো অন্য কেউ জানুক, কিন্তু এগুলো মোটেও কোন অপরাধ মূলক কার্যক্রম নয়। যেরকম ভাবে কোন মিলিটারি কমিউনিকেশন অনেক সিকিউর নেটওয়ার্ক দিয়ে হয়। ডার্ক ওয়েব কে আমরা যেমনটি মনে করি ঠিক তেমনটি নয়। যেখানে আমরা ডার্ক ওয়েব বলতেই বুঝি কোনো অপরাধ মূলক কার্যক্রম এর কথা, কিন্তু অনেক নিরাপদ যোগাযোগের জন্য ও ডার্ক ওয়েব কে ব্যবহার করা হতে পারে।

যেখানে আপনি যদি কোন কিছুতে অ্যাক্সেস সঠিকভাবে করেন তবে কেউ আপনাকে ট্র্যাক করতে পারবে না। শুধুমাত্র নিরাপদ ভাবে আপনি সেই ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারবেন; আর এটিই হচ্ছে ডার্ক ওয়েব। ডার্ক ওয়েবে কিন্তু সব সময় নেগেটিভ কাজই হয় না, বরং এখানে অনেক পজিটিভ কাজও হয়ে থাকে।

৩. যে কেউ ডার্ক ওয়েবে ভিজিট করে অপরাধী ভাড়া করতে পারবে কিংবা অস্ত্র কিনতে পারবে

ডার্ক ওয়েব সম্বন্ধে আমাদের আরও একটি ধারণা আছে যে, ডার্কওয়েবে যে কেউ কোন অপরাধীকে ভাড়া করতে পারবে কিংবা অস্ত্র কিনতে পারবে। যেখানে ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে এটিও কিন্তু অনেকটাই ভুল ধারণা। যদিও আপনি ডার্কওয়েবে অ্যাক্সেস করতে পারবেন, কিন্তু ডার্ক ওয়েবে যে সমস্ত অপরাধমূলক কাজ রয়েছে সেগুলো কিন্তু আপনি করতে পারেন না। এখানে যারা অপরাধী শুধুমাত্র তারাই এগুলোকে ব্যবহার করতে পারবে। কেননা ডার্ক ওয়েবে যে সমস্ত ওয়েবসাইটে অপরাধমূলক কার্যক্রমগুলো হয়ে থাকে সেসব সাইট এর ঠিকানা গুলো শুধুমাত্র সে সমস্ত অপরাধীরাই জেনে থাকে।

একজন থেকে আরেকজন এভাবেই কিন্তু তারা ডার্কওয়েবে অপরাধ মূলক কার্যক্রম গুলো করে। আপনি যদি মনে করেন যে ডার্কওয়েবে গিয়ে কোন কিছু সার্চ করবেন এবং একটি অপরাধ করবেন তবে ব্যাপারটি কিন্তু অতটাও সহজ না। তবে আপনি যদি ভাবেন যে একবার চেষ্টা করে দেখবেন, তবে এটি কখনোই করতে যাবেন না। এর কারণ আমি একটু নিচে বলছি।

৪. ডার্ক ওয়েবে ভিজিট করলে ট্র্যাকিং করা হয় না

অনেকেই মনে করে যে ডার্কওয়েবের যদি আমি গিয়ে কোনো অপরাধমূলক কাজ করি তবে এক্ষেত্রে আমাকে কেউ ট্র্যাক করতে পারবে না। যে ধারণাটি ও কিন্তু 100% সঠিক নয়। কারণ বর্তমান টেকনোলজি এতটাই উন্নত হয়েছে যে, যদি আপনি খুব ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর ভুলও আপনি করেন তবে এক্ষেত্রে আপনাকে খুঁজে বের করা সম্ভব। এছাড়া এমনও হতে পারে আপনি যে ওয়েবসাইটে ভিজিট করছেন সেই ওয়েবসাইটটি কোন সিকিউরিটি ফোর্স ট্র্যাক করে রেখেছে। এবার আপনি যদি সেই ওয়েবসাইটে ভিজিট করেন তবে নানাভাবে তারা সেই ভিজিটর গুলোকে ট্র্যাক করতে পারে।

যেখানে Dark web কিন্তু 100% Untraceable নয়। তাই মাথায় চিন্তা আনবে না যে, ডার্ক ওয়েবে গিয়ে অপরাধমূলক কোন কাজ করার। আপনি যদি ডার্ক ওয়েবে গিয়ে কোনো কিছু লিখে সার্চ করেন তবে সে ক্ষেত্রে কিন্তু আপনাকে অবশ্যই ট্র্যাক করা হবে। এরকম অনেক নজির রয়েছে যারা ডার্কওয়েবে গিয়ে কিলার ভাড়া করার জন্য সার্চ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে গ্রেপ্তার হয়েছে। শুধুমাত্র ডার্ক ওয়েবের ব্রাউজার এ গিয়ে সার্চ করার কারণে তারা গ্রেফতার হয়েছিল।

তবে এখানে আপনার এমন মনে হওয়ার কোনো কারণ নেই যে ডার্ক ওয়েবে আপনাকে কোন ট্র্যাকিং করা হবে না। বরং ডার্ক ওয়েবের সার্চ কে আরো বেশি পরিমাণে ট্র্যাকিং করা হয়। কেননা যতসব অপরাধমূলক কাজ সব ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমেই বেশি করা হয়। যেখানে গুগলে আমরা কোনো কিছু লিখে সার্চ করলে যেভাবে আমাদের কিওয়ার্ড কে ফলো করে তারা বিজ্ঞাপণ আমাদেরকে দেখায় ঠিক সেরকম হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরাও ওত পেতে থাকে ডার্ক ওয়েবে ও। যেখানে আপনি যতই বুদ্ধিমান হোন না কেন তারা আপনার চাইতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

আর এ কারণেই আপনি দেখতে পান যে অনেক বড় বড় হ্যাকারেরা শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে ধরা পড়ে। এখানে আমরা ইন্টারনেটের বাহ্যিক বিষয়গুলো শুধুমাত্র ব্যবহার করতে পারি। কিন্তু এই গোটা বিষয়টি কে নিয়ন্ত্রণ এবং এসবের সিক্রেট গুলো অবশ্যই তাদের কাছেই রয়েছে। আর এতে করে আপনি কোন না কোন সময়ে ধরা পড়েই যাবেন। এক্ষেত্রে আপনার কোন কৌশলই কাজে লাগবে না।

৫. ডার্ক ওয়েব ব্রাউজ করতে হলে Tor ব্রাউজার ব্যবহার করতে হয়

ডার্ক ওয়েবে ভিজিট করার জন্য আমরা কিন্তু গুগলের সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করতে পারি। যেখানে ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করতে হলে আমাদের শক্তিশালী কোন ব্রাউজারের দরকার পড়ে। যেখানে আমরা মনে করি ডার্কওয়েবে ভিজিট করতে হলে Tor ব্রাউজার এর দরকার এবং শুধুমাত্র এই ব্রাউজারটি দিয়েই আমরা ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করতে পারি। ব্যাপারটি কিন্তু সম্পূর্ণ ঠিক নয়। যেখানে Tor ব্রাউজার হচ্ছে ডার্ক ওয়েবের একটি সার্ভিস।

ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করার জন্য আরও অনেক ব্রাউজার রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করা যায়। যেখানে Tor ব্রাউজার এর মত আরো অনেক Anonymous নেটওয়ার্ক রয়েছে। এর মধ্যে যেমনঃ Free Net, I2P; এগুলোও হচ্ছে Anonymous নেটওয়ার্ক এবং এগুলো ও ডার্ক ওয়েব এর একটি অংশ। যেখানে এগুলোর মধ্যে সবচাইতে জনপ্রিয় হচ্ছে Tor browser; কারণ এটি সবচাইতে সহজে ব্যবহারযোগ্য ব্রাউজার। Tor আপনার গোপনীয়তা এবং প্রাইভেসী রক্ষার মাধ্যমে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার সুযোগ দেয়।

আর এ কাজের জন্য ব্রাউজারটি আপনার মেসেজগুলো কে এনক্রিপ্ট করার মাধ্যমে এক নেট থেকে অন্য নেটে পাঠায়। ফলে প্রতিটি মাধ্যমে শুধুমাত্র জানতে পারে কোন মেশিন থেকে ডাটা টি পাঠানো হচ্ছে এবং সেটি কোথায় যাচ্ছে। তাই আপনি Tor ব্রাউজার ব্যবহার করার মাধ্যমে ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে আমাদের মধ্যে অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে যে, টর আমাদেরকে পুরোপুরি Anonymous বা পরিচয় হীন বানিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ করে দেয়। যদিও আপনি যখন কোন সাইটে প্রবেশ করছেন এবং সেখানে গিয়ে আপনি আপনার যে ইনফর্মেশন টি শেয়ার করেছেন; যেমন আপনার ইউজারনেম, ইমেইল সেগুলো প্রকাশ হতেই পারে।

তাই যারা পুরোপুরি Anonymous বা নামহীন থাকতে চান তারা বিশেষ ধরনের সার্ভিস নিতে পারে এবং যে সকল ক্ষেত্রে তাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। এখানে আমি চাইনা যে আপনি ডার্কওয়েবে ভিজিট করুন। কেননা ডার্ক ওয়েবে আপনার ভালো হওয়ার চাইতে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাই অনেক বেশি। আর তাছাড়া টাকা খরচ ব্যতীত ডার্ক ওয়েবে আপনি ভালো কোন সার্ভিস পাবেনও না। যেখানে আপনাকে কোন একটি ছোট্ট সার্ভিস পাবার জন্য ও টাকা খরচ করতে হবে।

যেখানে ডার্কওয়েবে অনেকেই অনেক ধরনের সার্ভিস দিয়ে থাকে এবং অনেকেই সে সার্ভিস কিনে থাকে। যেখানে লেনদেনের জন্য কোন ডলার বা কোন দেশের মুদ্রা ব্যবহার করা হয় না। কেননা ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনায় লেনদেন করলে এখানে ধরা পড়ার সম্ভাবনা 100% থাকে। তাই ডার্ক ওয়েবে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বিটকয়েন কে বেশি ব্যবহার করা হয়। ডার্ক ওয়েবের লেনদেন যেহেতু বেশিরভাগ সময় বিটকয়েন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি তাই হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিকে ট্র্যাক করাও অসম্ভব।

ডার্ক ওয়েব বৈধ নাকি অবৈধ?

আমাদের দেশের ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করা নিয়ে সরাসরি কিছু না বলা থাকলেও যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি ডার্ক ওয়েবে অবৈধ কাজ করছেন ততক্ষণ পর্যন্ত এটি বৈধ। তো, এবার আমাদের মনে এই প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে কেন কোন দেশের সরকার ডার্ক ওয়েবের নিয়ন্ত্রণ নেয় না? কেন না যে কেউ তো ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে কোনো অপরাধ মূলক কাজ করতে পারে কিংবা ডার্ক ওয়েব-এই তো সব ধরনের অপরাধমূলক কাজ করার মাধ্যম।

ডার্ক ওয়েবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অনেক অবৈধ কাজ চলে। যেখানে অনেক দেশের সরকারের বিরুদ্ধে অনেক গোপনীয় নথিও পাওয়া যায়। তাই আমাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, সরকারি সংস্থাগুলো কেন এই ধরনের সাইটগুলো বন্ধ করার প্রচেষ্টা নিচ্ছে না কেন? আসলে আমাদের ধারণা থেকে ডার্ক ওয়েব অনেক বড়। কেননা এখানে শুধুমাত্র অবৈধ কাজই করা হয় না।

যেখানে ডার্ক ওয়েব কে প্রাইভেসি টুল হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। এছাড়া আপনি যদি কোন অপরাধ মূলক ওয়েবসাইটগুলোকে বন্ধ করতে চান তবে এক্ষেত্রে কয়টি করবেন? এরকম অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যারা তাদের অবৈধ পণ্যের বিক্রি কিংবা যোগাযোগের জন্য সেগুলো ব্যবহার করে। যেসব ওয়েবসাইটের মালিক এবং ডোমেইন, হোস্টিং আপনি সহজে খুঁজে পাবেন না বিভিন্ন Anonymous টুল এর কারণে। ফলে ধরনের ওয়েব সাইট গুলোকে বন্ধ করা অসম্ভব; এবং এই জন্যই এগুলোকে ডার্ক ওয়েব বলা হয়।

যেখানে সত্যিই যদি সেসব ওয়েবসাইটগুলোকে খুব সহজে খুঁজে বের করা যেত এবং সেগুলো কে যে কেউ অ্যাক্সেস করতে পারতো বা সার্চ ইঞ্জিনগুলো ইন্ডেক্স করতে পারত তবে সেগুলো হয়তোবা ডিপ ওয়েব এবং সার্ফেস ওয়েব এর মতই হতো। যেখানে আমাদের কষ্ট করে আর সেসব ওয়েবসাইট গুলোকে খুঁজে নিতে হবে না। যেগুলো অপরাধমূলক বিধায় সেগুলো কে সার্ফেস ওয়েব থেকে হাইড করা হয়েছে এবং সেগুলোর এড্রেস কেউ জানেনা।

তো বন্ধুরা, এই ছিল ডার্ক ওয়েব, ডিপ ওয়েব এবং সার্ফেস ওয়েব সম্বন্ধে বিস্তারিত বর্ণনা। যেখানে আপনি বুঝতে পেরেছেন যে ডার্ক ওয়েব আসলে কি এবং এখানে কোন ধরনের কাজ হয়।

শেষ কথা

ডার্ক ওয়েবের কথা শুনলে আমরা এতদিন শুধুমাত্র কোন অপরাধ মূলক কার্যক্রমের কথা মনে করেছি। কিন্তু ডার্ক ওয়েবে ও অনেক ভালো কাজ হতে পারে। যেমন ধরুন কোন দেশের মিলিটারিদের যোগাযোগের জন্য কোন সিক্রেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার প্রয়োজন। যেখানে তাদের কমিউনিকেশন করার প্রক্রিয়াটি আপনাকে কিংবা বাহিরের দুনিয়ার কাউকে বলার প্রয়োজন নেই, বরং এক্ষেত্রে দরকার সিক্রেট কোন ওয়েবসাইট যেটিকে কেউই দেখতে পারবেনা। এছাড়া আরো অনেক কাজ রয়েছে যেগুলো ডার্ক ওয়েবে হয়ে থাকে।

যেখানে সত্যিই অনেক অপরাধ মূলক কার্যক্রম হয়ে থাকে। কিন্তু সেটিকে অনেকভাবেই ট্রেস করা যায় না। ‌তবুও প্রতিনিয়ত ডার্ক ওয়েবের এমন অনেক ওয়েবসাইট ডিটেক্ট করে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। যেখানে আপনি ভুলেও কোন অপরাধীকে খুঁজতে যাবেন না। আর এতে করে কোন একটি অজ্ঞতার ভুলে পড়তে পারেন অনেক বড় বিপদে এবং তাই আপনি কখনোই চেষ্টা করতে যাবেন না ডার্ক ওয়েবে গিয়ে কোনো অপরাধ মূলক কাজ করতে।

তো বন্ধুরা, আমার এই টিউনে বলা কোন কোন বিষয়গুলো আপনি ইতিমধ্যেই জানেন এবং কোন কোন বিষয়গুলো জানতেন না সেটি অবশ্যই টিউনমেন্ট করে জানাবেন। সেইসঙ্গে টিউনটি শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের জানার সুযোগ করে দিবেন এবং টিউনটি ভাল লাগলে জোসস করবেন। আর এরকমের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভিত্তিক টিউনটি দেখার জন্য অবশ্যই আমাকে ফলো করে রাখবেন। যদি আপনার কাছে আজকের টিউনটি ভাল নাও লেগে থাকে তবুও আমাকে ফলো করে রাখবেন, কেননা ভবিষ্যতে তো এর চাইতে অনেক ভাল কোন টিউন আপনার জন্য নিয়ে আসতেও পারি।

তো আজ এ পর্যন্তই। ‌ দেখা হবে পরবর্তীর কোন দিন আরও নতুন আঙ্গিকে ইনশাআল্লাহ। আসসালামু আলাইকুম।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *